চলতি বছরে বাংলাদেশ ও বিশ্বে ঘটে যাওয়া আলোচিত নারীদের নিয়ে সংকলন করেছেন—
আবুল খায়ের, রাবেয়া বেবী, অলোক বিশ্বাস, জিলফুল মুরাদ ও নেয়ামত উল্লাহ
শেখ হাসিনা
২০১৮ সালের বিশ্বের ১০০ ক্ষমতাধর নারীর তালিকা প্রকাশ করেছে প্রভাবশালী মার্কিন সাময়িকী ফোর্বস। সেই তালিকায় গতবারের চেয়ে ৪ ধাপ এগিয়ে ২৬তম স্থানে আছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বরাবরের মতো শীর্ষস্থানটি ধরে রেখেছেন জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেল। তবে এই প্রথমবার তালিকায় ঠাঁই মেলেনি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের।
প্রতি বছরই বিশ্বের ১০০ ক্ষমতাধর নারীর তালিকা প্রকাশ করে আসছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ-বাণিজ্য বিষয়ক সাময়িকী ফোর্বস। এবার সেই তালিকায় ২৬তম স্থানে থাকা শেখ হাসিনা গত বছরের তালিকায় ছিলেন ৩০তম স্থানে। এর আগে ২০১৬ সালে ৩৬ ও ২০১৫ সালে ৫৯তম স্থানে ছিলেন তিনি। বরাবরের মতো তালিকার শীর্ষস্থান ধরে রাখা অ্যাঙ্গেলা মেরকেলের টানা দখলে এই স্থানটি সেই ২০১১ সাল থেকে। অবশ্য মাঝের ২০১০ সাল বাদে ২০০৬ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত শীর্ষস্থানটি তারই ছিল।
অ্যাঙ্গেলা মেরকেলের পরের অবস্থানে রয়েছেন প্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে। তারপর তৃতীয় স্থানে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টিন লাগার্দে, চতুর্থ যুক্তরাষ্ট্রের জেনারেল মোটরসের চেয়ারপারসন ও প্রধান নির্বাহী মেরি বারা এবং পঞ্চম স্থানে ফিডেলিটি ইনভেস্টমেন্টসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অ্যাবিগেইল জনসন। এছাড়াও ক্ষমতাধরদের এই তালিকায় ২৩তম স্থানে আছেন ব্রিটেনের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ। ৯২ বছর বয়সী রানি তালিকার সবচেয়ে বেশি বয়সী। তার পরের স্থান দখল করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বড় মেয়ে ও উপদেষ্টা ইভানকা ট্রাম্প। সম্প্রতি মা হওয়া নিউজিল্যান্ডের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন আছেন তালিকার ২৯তম স্থানে।
সুসানে গীতি
সুসানে গীতি। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মেজর জেনারেল পদে প্রথম নারী হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছেন তিনি। আর্মড ফোর্সেস ইনস্টিটিউট অব প্যাথোলজির কমান্ড্যান্ট সুসানে গীতি শত প্রতিকূলতা পেরিয়ে সফলতার পথে এগিয়ে চলেছেন তিনি। সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমদ ও লেফটেন্যান্ট জেনারেল শামসুল হক গত সেপ্টেম্বরে তাকে র্যাঙ্ক ব্যাজ পরিয়ে দেন। সুসানে গীতি বর্তমানে আর্মড ফোর্সেস ইনস্টিটিউট অব প্যাথলজিতে কমান্ড্যান্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করছেন। মেজর জেনারেল সুসানে গীতি ১৯৮৫ সালে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করেন। পরের বছর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে নারী চিকিত্সক হিসেবে ক্যাপ্টেন পদে যোগ দেন। ১৯৯৬ সালে প্রথম নারী হিসেবে হেমাটোলজিতে এফসিপিএস ডিগ্রি অর্জন করেন। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশন ও বিভিন্ন সামরিক হাসপাতালে প্যাথলজি বিশেষজ্ঞ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধে সুসানে গীতি বাবাকে হারিয়েছেন। নানীর বাড়িতে বড় হয়েছেন। তার স্বামী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আসাদুল্লাহ মো. হোসেন সাদ (অব.) একজন সফল সামরিক বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক ছিলেন। তারা গর্বিত দম্পতি। তার এমন অর্জনে স্বাধীনতার ৪৭ বছর পর সেনাবাহিনীতে প্রথম নারী মেজর জেনারেল পেল বাংলাদেশ। সুসানে গীতির বেড়ে ওঠা সহজ ছিল না। তার বাড়ি রাজশাহী। বিয়ে হয় ১৯৮৬ সালে। স্বামী চাকরিতে যোগদান করেন ১৯৮৩ সালে।
আর্মিতে কাজে দক্ষতা ও সফলতা দেখিয়েছেন সুসানে গীতি। জীবনযুদ্ধে তিনি হেরে যাননি, হয়েছেন নারী সমাজের একজন গর্বিত সফল নারী। গর্বিত পরিবার। ছোট বেলা থেকেই তার ইচ্ছা ছিল আর্মিতে কাজ করার। আর্মিতে যোগদানের পর পুরোদমে সফলতার পরিচয় দিয়ে চলেছেন। সহকর্মীরাও তাকে সার্বিক সহযোগিতা করেছেন। সেনাবাহিনীতে নারীবান্ধব পরিবেশ তাকে কাজ করার ক্ষেত্রে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য এনে দিয়েছে। তার দুই মেয়ে ও এক ছেলে। ছেলে-মেয়ে দুইজনই ডাক্তার। ছোট মেয়ে ইন্টারমিডিয়েট পড়ছেন। ছেলে-মেয়েদের রেখে ঢাকার বাইরে তাকে চাকরি করতে হয়েছে। ২০০৭ সালে লাইবেরিয়ায় জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মিশনে যান সুসানে গীতি। সেখানেও তিনি ব্যাপক সফলতা দেখিয়েছেন। যুদ্ধবিধ্বস্ত লাইবেরিয়ায় চিকিত্সা ব্যবস্থা বেহাল। সেখানে তাদের প্রাথমিক চিকিত্সার সার্বিক জ্ঞান প্রদান করেন। সুসানে গীতির সফলতার এ পর্যায়ে আসতে ৩২ বছর লেগেছে।
ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী
কিডনি ও হূদরোগের জটিলতা নিয়ে হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় ৬ মার্চ ইন্তেকাল করেন ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত এই মুক্তিযোদ্ধার বয়স হয়েছিল ৭১ বছর।
১৯৪৭ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি খুলনায় ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীর জন্ম। তার নানা অ্যাডভোকেট আব্দুল হাকিম ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের সরকারের সময় স্পিকার হয়েছিলেন। মাত্র ষোল বছর বয়সে প্রিয়ভাষিণীর প্রথম বিয়ে হয়। তার ভাষায়, সেই বিয়ে ছিল তার কৈশোরের ভুল। আট বছরের মাথায় সেই সংসারে বিচ্ছেদ ঘটে, ১৯৭১ সালে যুদ্ধের ডামাডোলের মধ্যে সন্তানদের নিয়ে শুরু হয় তরুণ প্রিয়ভাষিণীর অন্য এক লড়াই।
মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে নির্যাতিত হতে হয় এই বীর নারীকে। স্বাধীনতা যুদ্ধে তার অবদানের জন্য ২০১৬ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে মুক্তিযোদ্ধা খেতাব দেয়। তার আগে ২০১০ সালে তিনি পান স্বাধীনতা পুরস্কার। যুদ্ধদিনের সেই ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতা স্মরণ করে ২০১৫ সালে তিনি গণমাধ্যমে বলেছিলেন, ‘১৯৭১ সালে আমি খুলনা ছিলাম। অক্টোবরের শেষের দিকে আমাকে কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয় ৩২ ঘণ্টা আমাকে আটকে রাখা হয়েছিল। এমন কোনো নির্যাতন নেই, যা তারা করেনি। আমার জীবনে সে এক দুঃসহ স্মৃতি।’ দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালে সরকারি কর্মকর্তা আহসান উল্লাহর সঙ্গে নতুন করে সংসার শুরু করেন ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী।
তারামন বিবি
মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য রান্না করা, তাদের অস্ত্র লুকিয়ে রাখা, পাকিস্তানি বাহিনীর খবর সংগ্রহ করা এবং সম্মুখযুদ্ধে হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে অস্ত্র হাতে লড়াই তারামন বিবি (৬২) ইন্তেকাল করেন গত ১ ডিসেম্বর। অনেক দিন ধরে শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগে ভুগে গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলা সদরে নিজ বাসায় মারা যান তারামন বিবি।
মৃত্যুর সময় তারামন বিবি স্বামী আবদুল মজিদ, ছেলে আবু তাহের, মেয়ে মাজেদা খাতুনসহ পরিবারের সদস্যদের রেখে গেছেন। তার ছেলে-মেয়ে দু’জনই বিবাহিত। কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলার কোদালকাঠি ইউনিয়নের কাছারিপাড়ার শংকর মাধবপুর গ্রামে তারামন বিবির জন্ম। শংকর মাধবপুরে ১১ নম্বর সেক্টরে কিশোর বয়সে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ সরকার তারামন বিবিকে বীর প্রতীক খেতাব দেয়। কিন্তু এই মুক্তিযোদ্ধাকে খুঁজে বের করা সম্ভব হয় ১৯৯৫ সালে। ওই বছরের ১৯ ডিসেম্বর সরকারের পক্ষ থেকে তারামন বিবির হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।
নুরজাহান কাকন বিবি
একাত্তরে পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখ সমরে অংশ নেওয়া খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা নুরজাহান কাকন বিবি মৃত্যুবরণ করেন ২২ মার্চ। সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় এই বীর প্রতীকের মৃত্যু হয় বলে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মাহবুবুল হক জানিয়েছেন।
শ্বাসকষ্ট নিয়ে গত সোমবার এই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন শতবর্ষী কাকন বিবি। এর আগে গত বছর জুলাইয়ে হূদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর কয়েকদিন হাসপাতালে ছিলেন তিনি। কাকন বিবির জন্ম ১৯১৫ সালে বলে জানিয়েছেন তার ভাগ্নে ইনছান আলী। মেঘালয়ের নেত্রাই হাসিয়া পল্লীতে তিনি জন্মেছিলেন বলে সুনামগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার আবু সুফিয়ান জানান।
কাকন বিবির স্বামী সাঈদ আলীও প্রয়াত। তার গ্রামের বাড়ি সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারবাজার থানার জিরারগাঁও গ্রামে। ১৯৭১ সালে তিন দিন বয়সী মেয়ে সখিনাকে রেখে যুদ্ধে চলে যান কাকন বিবি।
নারী ক্রিকেট দলের সাফল্য
ক্রিকেটে বাংলাদেশের জন্য প্রথম আন্তর্জাতিক শিরোপা এনে দিল বাংলাদেশের মেয়েরা। মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে সপ্তম এশীয় কাপ ক্রিকেটের ফাইনালে রোমাঞ্চকর শেষ ওভারের শেষ বলে ভারতকে তিন উইকেটে হারিয়ে এই শিরোপা লাভ করে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। জাহানারা যখন ম্যাচের শেষ বলটি মিড উইকেটের দিকে ঠেলে দিয়ে প্রাণপণে দৌড়ে দুই রান নিলেন, তখন তা শুধু বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের নয়, পুরো বাংলাদেশের বিজয়কেই নিশ্চিত করল। স্বপ্ন পূরণ হলো বাংলাদেশের। এই দিনটি ক্রিকেটের বাইরেও বাংলাদেশের ক্রীড়া ইতিহাসে একটি ঐতিহাসিক দিন ও ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হবে। এর অসাধারণ ও অনন্য দিক হচ্ছে বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটাররা আমাদের গর্ব করার মতো এমন একটি উপলক্ষ তৈরি করে দিয়েছেন। সন্দেহ নেই, ক্রিকেটে বাংলাদেশের নারী দলের এই জয় সামগ্রিকভাবে খেলাধুলার প্রতি নারীদের আগ্রহ বাড়িয়ে তুলবে এবং ভবিষ্যতে ক্ষেত্রটির জন্য খুলে দেবে সম্ভাবনার দ্বার।
মিস কালচার প্রিয়তা
মিস কালচার ওয়ার্ল্ডওয়াইড-২০১৮ মুকুট জিতেছেন বাংলাদেশের মেয়ে প্রিয়তা ইফতেখার। যিনি ফ্লাগ গার্ল নামে খ্যাত। অনেক প্রতিযোগিতায় তিনি বাংলাদেশের প্রতিনিধি হয়ে কাজ করেন। বাংলাদেশের পতাকা তুলে ধরেন বিশ্বের দরবারে। সোনার বাংলাদেশকে ভালোবাসে বলে দেশপ্রেমের টানে বাংলাদেশকে তুলে ধরার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছুটে চলেন তিনি। নিজের চেষ্টা ও মেধা দিয়ে এতটুকু পর্যন্ত এসেছেন। মানুষের ভালোবাসা আছে বলে ইচ্ছা শক্তি নিয়ে সামনে এগিয়ে যাচ্ছেন। ধাপে ধাপে একের পর এক মুকুট জয় করছেন তিনি। বাংলাদেশের পতাকা যখন তিনি ভিনদেশিদের কাছে তুলে ধরেন তখন এই তরুণীর গর্বে বুক ভরে যায়। ১৬ ডিসেম্বর জিম্বাবুয়ের হারারেতে, দ্য ভেন্যু অ্যাভান্ডলেতে বর্ণিল অনুষ্ঠানে অপর ১৫টি দেশের প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে মুকুট জেতেন প্রিয়তা। মিস কালচার ওয়ার্ল্ডওয়াইড প্রতিযোগিতায় এটি বাংলাদেশের প্রথম অর্জন।
অরিত্রি অধিকারী
নিজের চোখের সামনে বাবা-মায়ের অপমান সইতে না পেরে ভিকারুননিসা নূন স্কুলের ছাত্রী অরিত্রি অধিকারীর (১৫) আত্মহত্যার ঘটনা হাইকোর্টের নজরে আনা হয়েছে। বিষয়টিকে হূদয়বিদারক বলে মন্তব্য করেছেন আদালত। ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন বিষয়টি হাইকোর্টের নজরে আনেন। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, বিষয়টি বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চের নজরে এনেছি। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে নকলের অভিযোগ তুলে বাবা-মাকে ডেকে অপমান ও টিসি দেওয়ার কথা বলায় রাজধানীর শান্তিনগরে নবম শ্রেণির ছাত্রী অরিত্রি আত্মহত্যা করেন। স্কুলের অধ্যক্ষ অরিত্রির বাবা-মাকে ডেকে মেয়ের সামনেই অপমান করে বলেন, সিদ্ধান্ত হয়েছে অরিত্রিকে নকলের অভিযোগে প্রতিষ্ঠান থেকে বের করে দেওয়া হবে। এ অপমান সইতে না পেরে বাসায় এসে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় অরিত্রি। আত্মহত্যার কিছুক্ষণ আগে সে তার মাকে জানায়, ‘মা এ লজ্জা নিয়ে বাঁচতে চাই না।’ অরিত্রির বার্ষিক পরীক্ষা চলছিল। স্কুলে পরীক্ষার সময় তার মেয়ে মোবাইল ফোন নিয়ে গিয়েছিল। মোবাইল ফোনে নকল আছে-এমন অভিযোগে স্কুলের শিক্ষক তাদের স্কুলে আসতে বলেন।
