ইলিশ না পেয়ে শূন্য হাতে ফিরছে জেলেরা
শাহীন হাফিজ, বরিশাল অফিস
দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে নদীতে জাল ফেলে শূন্য হাতে ফিরছে জেলেরা। প্রজনন মৌসুমের কারণে দেশের ছয়টি অভয়াশ্রমে গত ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ইলিশ শিকারে নিষেধাজ্ঞা ছিল। এর মধ্যে ৩০ এপ্রিল দিবাগত রাত ১২টায় নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর থেকেই জেলেরা অভয়াশ্রমগুলোতে ইলিশ শিকারে নামলেও ফিরছে শূন্য হাতে। জেলে ও পাইকাররা জানান, এবার তেমন নজরদারি না থাকায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ছোটো সাইজের ইলিশ মাছ ধরা হয়েছে। করোনা ভাইরাস সংক্রমণকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রশাসন ব্যস্ত থাকার সুযোগটি নিয়েছে কিছুসংখ্যক জেলে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক উপজেলা মত্স্য কর্মকর্তা জানান, করোনা ভাইরাসের ফলে নদীতে তেমন একটা অভিযান পরিচালিত হয়নি। তাই নিষেধাজ্ঞার পুরো সময়ে পাইকারি ও খুচরা বাজারে অবাধে এসব ছোটো মাছ বিক্রি হয়েছে। এছাড়াও নিষেধাজ্ঞা চলায় পাইকারি মত্স্য অবতরণ কেন্দ্র (পোর্ট রোডের মোকামে) প্রতিদিনই বিপুলসংখ্যক জাটকা বিক্রি হতে দেখা গেছে। মাঝেমধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে নিধনকৃত ছোটো মাছ পাচারকালে নদীতে কিংবা যাত্রীবাহী বাস-ট্রাক থেকে দুয়েকটি চালান আটক হয়েছে। অধিকাংশ অভিযানেই মাছ ও ট্রলার আটক হলেও সঙ্গে থাকা লোকজন পালিয়ে যায়। ফলে তারা আবার সংঘবদ্ধ হয়ে ছোটো মাছ নিধনে নামে। এছাড়াও বর্তমানে জাটকা ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা থাকলেও করোনা সংক্রমণের মধ্যে নগরীর বাজারগুলোতে তিন-চার ইঞ্চি সাইজের জাটকা বিক্রি হচ্ছে নিয়মিত। গতকাল নগরীর পোর্ট রোডের মোকামসহ অন্যান্য মাছ বাজারগুলোতে গিয়ে দেখে গেছে নদ-নদীর ইলিশসহ মিঠা পানির মাছের আকাল। সামান্য পরিমাণ দেশীয় প্রজাতির মাছ থাকলেও বাজার দখল রয়েছে হাইব্রিড জাতের মাছে। জেলে ও ব্যবসায়ীরা জানান, নিষেধাজ্ঞা শেষে নদীতে ইলিশ তো দূরের কথা অন্যান্য মাছেরও দেখা নেই। অথচ দুই মাস জেলেরা অপেক্ষায় ছিল নিষেধাজ্ঞা শেষে ইলিশের পাশাপাশি অন্যান্য মাছ পাওয়া যাবে। নদীতে মাছ কমে যাওয়ার পাশাপাশি সাগর থেকেও ট্রলারগুলো আসছে প্রায় শূন্য। এতে করে হাইব্রিড জাতীয় মাছের ওপরই নির্ভর করতে হচ্ছে ক্রেতাদের। টেংরা, শৈল, গজাল, বোয়াল, টাকি, পাবদা ও সরপুটিসহ মিঠা পানির অনেক মাছই এখন আর বাজারে দেখা যায় না। এখানকার আড়তদার মো. আনোয়ার হোসেন জানান, মৌসুমের শুরুতেই সাগর ও নদী থেকে প্রায় শূন্য হাতে ফিরছে জেলেরা। আগামী ২০ মে থেকে সাগরে শুরু হতে যাচ্ছে ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা। ৬৫ দিনের এ নিষেধাজ্ঞা জেলে-ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ভোগান্তিতে ফেলবে। কারণ ইলিশের মৌসুমটাও তখন থাকবে। তাই মাছের সংকট থেকেই যাচ্ছে। জেলে হাসান ও শাহজাহান গাজী জানান, সরকারের নিষেধাজ্ঞার সময়ে তারা ধার-দেনা ও চড়া ঋণে জর্জরিত। দীর্ঘ দুই মাস পর নদীতে জাল ফেলে নিজেদের খাবারের মাছ জোগাড় করা সম্ভব হচ্ছে না। এ বিষয়ে বরিশাল জেলা মত্স্য অফিসের কর্মকর্তা (ইলিশ) বিমল চন্দ্র দাস বলেন, জাতীয় সম্পদ ইলিশ রক্ষায় আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত ছিল, থাকবে। বরিশাল বিভাগের ২৭২ কিলোমিটার নদীপথে ইলিশ শিকারে নিষেধাজ্ঞা ছিল, যা এরইমধ্যে উঠে গেছে। জেলেরা অভয়াশ্রমগুলোতে ইলিশ শিকার করতে পারছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বরিশালের বাজারগুলোতে ইলিশের আমদানি বাড়বে। তিনি বলেন, পাঁচ-ছয় দিনের মধ্যেই পূর্ণিমার জো’তে ইলিশ ধরা পড়বে বলে তিনি আশাবাদী। তিনি জানান, তবে ১০ ইঞ্চি সাইজের নিচে জাটকা ইলিশ আহরণ-বিক্রি সব সময়ের জন্যই নিষিদ্ধ। এই আইন অমান্য করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যার মধ্যে জেল-জরিমানার বিধান রয়েছে।
