দরিদ্রের কাতারে যোগ হতে পারে আরো ২০ ভাগ মানুষ

আপডেট : ০২ মে ২০২০, ২২:২৬

বাংলাদেশে যে কোনো ধরনের দুর্যোগে মানুষের আয় যদি ২৫ শতাংশ কমে যায় সেক্ষেত্রে দেশে দারিদ্র্যের হার ৪০ দশমিক ৯ শতাংশে পৌঁছাবে। যার অর্থ নতুন করে আরো ২০ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ দরিদ্র হবে। বাংলাদেশের দারিদ্র্য পরিস্থিতির ওপর করোনা ভাইরাসজনিত অর্থনৈতিক সংকটের প্রভাব নিয়ে সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম)-এর গবেষণা প্রতিবেদনে এ কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, তিন মাসের লকডাউনের ফলে পরিবারের আয় ন্যূনতম এক-চতুর্থাংশ কমে যাবে। তবে এ আয় কমার হার নির্ভর করবে অর্থনীতিতে চলমান এ দুর্যোগ কতদিন ধরে প্রভাব ফেলবে তার ওপর। এর ফলে গত দেড় দশক জুড়ে দারিদ্র্য বিমোচনে বাংলাদেশ যে সাফল্য দেখিয়েছে, তা নিষ্ফল হয়ে যেতে পারে। ২০০৫ সালে বাংলাদেশে দারিদ্র্যের হার ছিল ৪০ শতাংশ।

সানেমের নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হানের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটির একদল গবেষক এই গবেষণা করেছে। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তারা তাদের গবেষণার প্রাথমিক সিদ্ধান্তগুলো তুলে ধরেন। সানেমের গবেষকরা বলেন, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সাম্প্রতিক হিসাব অনুসারে, বাংলাদেশের মোট জনগোষ্ঠীর ২০ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষ দরিদ্র। এ হিসাব বিবেচনায় বাংলাদেশে এখন ৩ কোটি ৪০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যপীড়িত। তবে সানেমের হিসাব অনুসারে যদি দারিদ্র্যের আয়সীমাকে মাত্র সোয়া ১ শতাংশ গুণ বাড়ানো হয়, তাহলে আরো ৩ কোটি ৬০ লাখ মানুষকে পাওয়া যাবে, যারা সরকারি হিসাবে দরিদ্র নয়, তবে তাদের অর্থনৈতিকভাবে ‘অসহায়’ জনগোষ্ঠী হিসেবে চিহ্নিত করা যায়। যে কোনো ধরনের বিপর্যয়ে এ ‘অসহায়’ জনগোষ্ঠীর একটি বিশাল অংশের আয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে দরিদ্র হবার আশঙ্কা অনেক বেশি থাকে।

গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশে নতুন যেসব মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে আসতে পারে, তাদের একটি বড়ো অংশ নির্দিষ্ট কিছু কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত আছে, যেমন ফসল উত্পাদন, গবাদিপশু লালন-পালন ও মাছ উত্পাদন (৪৩%), তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য শিল্প খাত (১৬%), খুচরা ব্যবসা (১১%), যোগাযোগ ব্যবস্থা (১০%) এবং নির্মাণ খাত (৭%)। যদি জাতীয়ভাবে দারিদ্র্যের হার বেড়ে ৪০ দশমিক ৯ শতাংশ হয় সেক্ষেত্রে ৪০টি জেলায় দারিদ্র্যের এ হার জাতীয় হারকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে।

উদাহরণস্বরূপ বলা হয়েছে, রাঙ্গামাটিতে আরো ৩০ দশমিক ৯ শতাংশ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে আসতে পারে। একইভাবে, অন্য যে জেলাগুলোতে দারিদ্র্যের হার বেশি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য জেলা যেমন ময়মনসিংহে ৩০ দশমিক ২ শতাংশ, সুনামগঞ্জে ২৮ দশমিক ৭ শতাংশ, কক্সবাজারে ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ, নীলফামারিতে ২৭ দশমিক ২ শতাংশ, নড়াইলে ২৭ দশমিক ২ শতাংশ, চট্টগ্রামে ২৬ দশমিক ৯ শতাংশ, নেত্রকোনায় ২৫ দশমিক ৯ শতাংশ, চুয়াডাঙ্গায় ২৫ দশমিক ৮ শতাংশ, শেরপুরে ২৫ দশমিক ৬ শতাংশ, বরগুনায় ২৫ দশমিক ৫ শতাংশ এবং শরীয়তপুরে ২৫ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষ।