মোংলা বন্দরে বিদেশি এলপিজি জাহাজ থেকে বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি তেলসহ মূল্যবান মালামাল প্রতিনিয়ত কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব জাহাজ হতে রাতের অন্ধকারে ২০ থেকে ৫০ টন তেল (ডিজেল ও মবিল) পাচার করে চোরাকারবারিরা। জাহাজে কাস্টমসের প্রিভেন্টিভ অফিসার (পিও) থাকা সত্ত্বেও কীভাবে তেল পাচার হয় তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
বন্দরের হারবার বিভাগ সূত্রে জানা যায়, প্রতি মাসে ২৫ থেকে ৩০টি এলপিজি জাহাজ এ বন্দরে আসে। গত মাসেও ২৪টি জাহাজ ভিড়েছিল।
অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় কিছু শিপিং এজেন্টের যোগসাজশে মোংলার মামার ঘাট সংলগ্ন রিজেকশন গলির প্রভাবশালী কয়েক জন এ তেল পাচার কাজে জড়িত। তাদেরকে সরাসরি সহযোগিতা করছেন জাহাজের নাবিকসহ সংঘবদ্ধ চোরাকারবারি চক্র। এ ব্যাপারে বন্দর কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেও কোনো লাভ হয়নি।
বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান ক্যাপ্টেন মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, বন্দর আইনে নিয়মই আছে জাহাজে ওয়াচম্যান বুকিং দিতে হবে, যদি কোনো শিপিং এজেন্ট এ আইন অমান্য করে তাহলে লিখিত অভিযোগ পেলে তাদের বিরুদ্ধে বন্দর কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা হবে।
এদিকে মোংলা বন্দর স্টিভিডরিং ওয়াচম্যান ওয়েলফেয়ার সংঘের সভাপতি গোলাম মোস্তফা অভিযোগ করে বলেন, গত এক মাসে এ বন্দরে যে এলপিজির জাহাজ এসেছে তার মধ্যে অন্তত সাতটি জাহাজে ওয়াচম্যান বুকিং দেওয়া হয়নি। এ সুযোগে স্থানীয় গ্লোবাল শিপিং, সি, এশিয়া শিপিংসহ বেশ কয়েকটি শিপিং এজেন্টের যোগসাজশে মোংলার রিজেকশন গলির প্রভাবশালী ব্যবসায়ীরা ঐ সাতটি জাহাজ থেকে তেল, মবিলসহ মূল্যবান যন্ত্রাংশ পাচার করে কালোবাজারে বিক্রি করে দিয়েছে। তিনি আরো বলেন, শনিবারও মোংলা বন্দরে দুইটি গ্যাসের জাহাজ রয়েছে তাতেও ওয়াচম্যান নেওয়া হয়নি। একটি পশুর চ্যানেলের হারবার জেটিতে আর একটি সুন্দরতলায় রয়েছে। এ জাহাজ দুইটির স্থানীয় শিপিং এজেন্ট সি, এশিয়ার। রবিবার এলপিজি নিয়ে যে জাহাজটি বন্দরে আসার কথা রয়েছে সেটিরও স্থানীয় শিপিং এজেন্ট গ্লোবাল শিপিং। বিশেষ করে এই দুই শিপিং এজেন্টের বিরুদ্ধে মূলত জাহাজে ওয়াচম্যান না নেওয়া ও যোগসাজশে তেল পাচারে চোরাকারবারিদের সহায়তার অভিযোগ রয়েছে।
জাহাজে ওয়াচম্যান বুকিং (নিয়োগ) করা থাকলে এসব পাচার কাজ কোনোভাবেই সম্ভব হতো না বলেও জানান গোলাম মোস্তফা। তিনি আরো জানান, এ ব্যাপারে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনে (মোংলা সদর দপ্তর) একটি লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন তারা।
অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের (মোংলা সদর দপ্তর) অপারেশন কর্মকর্তা লে. ইমতিয়াজ আলম বলেন, চোরাচালান বিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তার পরও অভিযোগের ভিত্তিতে মোংলা বন্দরে তেল চোরাকারবারিদের বিরুদ্ধে অচিরেই অভিযান পরিচালনা করা হবে।
অভিযোগ পেয়েছেন মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাস্টারও। হারবার মাস্টার কমান্ডার শেখ ফখর উদ্দিন বলেন, যেসব শিপিং এজেন্ট জাহাজে ওয়াচম্যান নিয়োগ দেয়নি, তাদের তালিকা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর বন্দরে আগত বিদেশি জাহাজ থেকে তেল পাচার ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অনুরোধ করা হবে।
এ বিষয়ে কথা বলার জন্য মোংলা কাস্টমস হাউসের যুগ্ম কমিশনার মো. সেলিম শেখের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। মোংলা বন্দর উপদেষ্টা কমিটির অন্যতম সদস্য ও খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র আলহাজ তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন, যেসব চোরাকারবারি জাহাজে ব্যবসার নামে এই বন্দরকে আন্তর্জাতিকভাবে হেয় করতে চায় তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হবে।
