খোশ আমদেদ মাহে রমজান

আপডেট : ০২ মে ২০২০, ২২:৪৫

অধ্যাপক হাসান আবদুল কাইয়ূম

আজ ৯ রমজান। জানা যায়, এই তারিখে বিশিষ্ট সাহাবি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিআল্লাহু তাআলা আনহু ৩৩ হিজরি মোতাবেক ৬৫৩ খ্রিষ্টাব্দে মদিনা মুনওয়ারায় ইন্তেকাল করেন। তখন তার বয়স ৬১ বছর। যতদূর জানা যায়, হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিআল্লাহু তাআলা আনহু প্রথম দিকে ইসলাম গ্রহণকারীর মধ্যে ষষ্ঠ জন। স্বভাবতই ইসলামে দাখিল হওয়া মানুষের সংখ্যা খুবই অল্প ছিল। মক্কা নগরে উচ্চৈঃস্বরে কোরআন তিলাওয়াত করার মতো সাহস কারো ছিল না। তিনি কাফির-মুশরিকদের পরামর্শ সভার কাছে গিয়ে দরাজ কণ্ঠে কোরআন তিলাওয়াত করলেন। কাফির-মুশরিকরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে ধরে ভীষণ মারধর করল। তার মুখমণ্ডল ফুলে যায়। তিনি স্পষ্টবাদিতা, ঈমানের দৃঢ়তা এবং অকুতোভয়তা নিয়ে শত্রুদের মোকাবিলা করেন। তিনি দুই-দুইবার প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের নির্দেশে আবিসিনিয়া হিজরত করেন। পরে তিনি স্থায়ীভাবে বসবাসের খেয়ালে তদানিন্তন ইয়াছরিবে হিজরত করেন। ইতিমধ্যে ইয়াছরিবের নাম পালটিয়ে মদিনাতুন নবি নাম হয়ে যায়।

মদিনায় হিজরত করে এসে তিনি হজরত মুআজ ইবনে জাবাল রাদিআল্লাহু তাআলা আনহুর মেহমান হন। পরে প্রিয় নবি রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম মসজিদুন নববি সংলগ্ন জমিতে ঘর তুলে তার আম্মাসহ বসবাস করেন। প্রিয় নবি রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের ঘর থেকে তার ঘর এতই কাছে ছিল যে, অনেকে মনে করত তিনি নবি পরিবারেরই লোক।

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিআল্লাহু তাআলা আনহু অধিকাংশ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন। তার বীরত্ব  ও রণকৌশল সবার প্রশংসা কুড়িয়েছে। তিনি প্রিয় নবি রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের অন্যতম সচিবও ছিলেন। ৬৪০ খ্রিষ্টাব্দে ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হজরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিআল্লাহু তাআলা আনহু তাকে কুফার কাজি নিযুক্ত করেন। একই সঙ্গে তার ওপর ন্যস্ত হয় কোষাগার, শিক্ষা প্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। তিনি অত্যন্ত সততা, ন্যায় নিষ্ঠা ও কর্মদক্ষতা দ্বারা সব দায়িত্ব পালন করেন।

প্রিয় নবি রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমরা আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদের কাছ থেকে নসিহত গ্রহণ করবে। খলিফা হজরত উসমান রাদিআল্লাহু তাআলা আনহুর খিলাফত আমলের শেষের দিকে গোলযোগ চলাকালে তিনি মক্কা মুকাররমার উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথিমধ্যে তিনি রাবাখা নামক স্থানে এসে দেখলেন তার বন্ধু হযরত আবুজর গিফারি রাদিআল্লাহু তাআলা আনহুর পবিত্র লাশ পড়ে আছে। তিনি জানাজা ও দাফনের ব্যবস্থা করেন।

হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিআল্লাহ তাআলা ৭০-এর অধিক সুরা সরাসরি প্রিয় নবি রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের কাছ থেকে শিখেছিলেন। কোরআনের বিশুদ্ধ তিলওয়াতে তিনি ছিলেন অতুলনীয়, ক্বারি হিসেবে  কোরআনের ব্যাখ্যাকারী হিসেবে তিনি ছিলেন অপূর্ব পাণ্ডিত্যের অধিকারী। তার থেকে বর্ণিত হাদিসের সংখ্যা ৮৪৮।

মদিনা মুনওয়ারায় তার জানাজায় প্রচুর জনসমাগম হয়েছিল। তার জানাজায় ইমামতি করেন খলিফা হজরত উসমান রাদিআল্লাহু তাআলা আনহু। তাকে দাফন করা হয় জান্নাতুল বাকিতে।

লেখক : পীর সাহেব, দ্বারিয়াপুর শরিফ।