দুই দিনে সাত জনের মৃত্যু, সংক্রমিত ১১২৩

আপডেট : ০২ মে ২০২০, ২২:৪৫

করোনা ভাইরাসে দেশে গত দুই দিনে সাত জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট ১৭৫ জনের মৃত্যু হলো। গত দুই দিনে নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন আরো ১ হাজার ১২৩ জন। ফলে দেশে করোনা রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ৮ হাজার ৭৯০ জনে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি শনাক্ত হয়েছে ঢাকায়। এ বিভাগে করোনা শনাক্তের হার ৮৩.০৭ শতাংশ। এছাড়া দুই দিনে সুস্থ হয়েছেন ১৭ জন। ফলে মোট সুস্থ হলো ১৭৭ জন।

গতকাল শনিবার দুপুরে করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, করোনা ভাইরাসে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে।  আক্রান্ত হিসেবে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে শনাক্ত হয়েছে আরো ৫৫২ জন। সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে মোট ৩১টি ল্যাবে এখন করোনা ভাইরাস পরীক্ষা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, করোনা ভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ছয় হাজার ১৯৩টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে পরীক্ষা করা হয়েছে পাঁচ হাজার ৮২৭টি। সব মিলিয়ে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৭৬ হাজার ৬৬টি।

বুলেটিনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে ১৬৮ জনকে। বর্তমানে আইসোলেশনে আছে ১ হাজার ৬৩২ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছে ৫৮ জন এবং এ পর্যন্ত ছাড় পেয়েছে ১ হাজার ২২ জন।

আইইডিসিআর জানিয়েছে, আক্রান্তদের মধ্যে ২৬ শতাংশই ২১ থেকে ৩০ বছর বয়সি। তাদের আক্রান্ত হওয়ার ‘আশঙ্কাজনক’ এই হারের পেছনে সামাজিক দূরত্ব না মানার প্রবণতাকেই ‘বড়ো’ কারণ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। আইইডিসিআরের তথ্য বলছে, আক্রান্তদের মধ্যে ৩ শতাংশ শিশু, যাদের বয়স ১০ বছরের নিচে। ১১ থেকে ২০ বছর বয়সিদের হার ৮ শতাংশ। ২৪ শতাংশ ৩১ থেকে ৪০ বছর বয়সি, ১৮ শতাংশের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মৃতদের মধ্যে ষাটোর্ধ্ব ব্যক্তির সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, ৬০ শতাংশ। এরপর ২৭ শতাংশের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, ১৯ শতাংশের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে, ৭ শতাংশের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে। ৩ শতাংশের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে, যে বয়স গ্রুপে সংক্রমণ হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। আর ২ শতাংশের বয়স ১০ বছরের নিচে। তবে ১১ থেকে ২০ বছরের বয়সি আক্রান্তদের মধ্যে কেউ মারা যায়নি।

ডা. নাসিমা সুলতানা জানান, এ পর্যন্ত যারা কোভিড-১৯ রোগী হিসেবে শনাক্ত হয়েছে, তাদের ৮৩ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ ঢাকা বিভাগের। পহেলা মে পর্যন্ত রাজধানীতে এককভাবে সবচেয়ে বেশি করোনা রোগী রাজারবাগ এলাকার, ১৫০ জন। এর মধ্যে প্রায় সবাই রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে আক্রান্ত পুলিশ সদস্য। এর পরেই রয়েছে কাকরাইল এলাকা, ১৩৭ জন রোগী। এক সপ্তাহের ব্যবধানে এ এলাকায় রোগী বেড়েছে ১১০ জন। পুরান ঢাকায় ৫ শতাধিক করোনা রোগী রয়েছে। সবচেয়ে বেশি রোগী রয়েছে লালবাগে ৭৮ জন। এর পাশাপাশি বংশালে ৫৬, চকবজারে ৩২, গেন্ডারিয়ায় ৪৫, মিটফোর্ডে ৩৮, ওয়ারীতে ৪১, চানখাঁরপুলে ৩১ জন করোনা রোগী রয়েছে। বৃহত্তর মিরপুর এলাকায় প্রতিদিনই বাড়ছে করোনা রোগীর সংখ্যা। এদিকে কোভিড-১৯ রোগে মৃত সাংবাদিক হুমায়ুন কবির খোকনের স্ত্রী ও ছেলেরও করোনা ভাইরাস ধরা পড়েছে। তাদের রিজেন্ট হাসপাতালে আইসোলেশনে রেখে চিকিত্সা দেওয়া হচ্ছে। খোকনের সন্তানদের মধ্যে ছোটো মেয়েটির কোনো উপসর্গ দেখা যায়নি। সে তার মামার বাড়িতে আছে। আর বড়ো মেয়েকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।