হাল্ট প্রাইজ, রুয়েটের ক্যাম্পাস পর্বের বিজয়ী টিম মাস্টারমাইন্ডস

আপডেট : ৩০ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৯:৫৯

গত ৯ ডিসেম্বর রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের দেবদারুঘেরা সবুজ ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল শিক্ষার্থীদের নোবেলখ্যাত হাল্ট প্রাইজের ক্যাম্পাস পর্বের গ্র্যান্ড ফাইনাল অনুষ্ঠান। সেমি-ফাইনাল রাউন্ডে বাছাইকৃত ৬টি দল নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় গ্র্যান্ড ফাইনাল রাউন্ড। এবারের প্রতিযোগিতার বিষয় ছিল ‘বেকারত্ব সমস্যার সমাধান’। প্রতিটি দল বর্তমান বিশ্বে ক্রমবর্ধমান এই সমস্যাটির সমাধানে নিজেদের আইডিয়া নিয়ে হাজির হয় প্রতিযোগিতার মঞ্চে, লড়াই চলে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের। অবশেষে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে টিম মাস্টারমাইন্ডস। চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্যরা হলেন মেসবাহুল ইবনে মুনীর স্নিগ্ধ, মেহেদী হাসান ও রোজা আশরাফী মেধা।

টিম মাস্টারমাইন্ডস যে আইডিয়াটি নিয়ে হাল্টের মঞ্চে লড়াই করেছে, তার নাম ‘অ্যাম্বুসাইকেল’। নামটা শুনে নিশ্চয়ই অনেকেই ভাবছেন, এটা আবার কী? আমরা অ্যাম্বুলেন্সের নাম শুনেছি, রোগীকে হাসতাপালে কিংবা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়ার জন্য ব্যবহূত এক বিশেষ যান। আবার সাইকেলের সঙ্গেও আমরা পরিচিত। কিন্তু এই দুটোর মধ্যে কি আদৌ কোনো সম্পর্ক আছে? এর উত্তর আছে টিম মাস্টারমাইন্ডসের আছে। অ্যাম্বুলেন্স ও সাইকেলের মধ্যে সম্পর্ক খুঁজে বের করে তারা তৈরি করেছেন তাদের আইডিয়া ‘অ্যাম্বুসাইকেল’, যা আগামী কয়েক বছরের মাথায় পরিণত হতে পারে বেকারত্ব সমস্যার এক যুগান্তকারী সমাধানে।

বিষয়টা একটু খুলে বলা যাক। বাংলাদেশের মতো বিশ্বের বিভিন্ন জনবহুল দেশে দেখা যায় রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে অ্যাম্বুলেন্সেই রোগীর  মৃত্যু ঘটে। আবার অনেক সময় দেখা যায় দুর্ঘটনাস্থলে তাত্ক্ষণিক প্রাথমিক চিকিত্সার অভাবে রোগীর অবস্থা মারাত্মক আকার ধারণ করে। এক্ষেত্রে যদি সবসময় হাতের কাছে প্রাথমিক চিকিত্সায় দক্ষ কাউকে পাওয়া যায়, তবে অনেকাংশেই রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার আগ পর্যন্ত প্রয়োজনীয় চিকিত্সা দেওয়া সম্ভব। ‘অ্যাম্বুসাইকেল’ বাস্তবায়নে দেশের বেকার যুবক-যুবতীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে গড়ে তোলা হবে? পরবর্তীতে তারা মোটরসাইকেল কিংবা বাইসাইকেলে করে বিভিন্ন স্থানে প্রস্তুত থাকবেন। অ্যাপ কিংবা কলের মাধ্যমে কোনো দুর্ঘটনার খবর শোনামাত্র নিকটস্থ রাইডার ঘটনাস্থলে পৌঁছে যাবেন এবং হাসপাতালে পৌঁছার পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত প্রাথমিক চিকিত্সা প্রদান করবেন। এতে করে যেমন প্রাথমিক চিকিত্সার অভাবজনিত মৃত্যুর হার অনেকাংশেই কমে যাবে, তেমনি করে দেশের বড় একটি অংশ মুক্তি পাবে বেকারত্বের অভিশাপ থেকে।

হাল্ট প্রাইজের পরবর্তী পর্ব অনুষ্ঠিত হবে আগামী বছরের ১২ এপ্রিল, মুম্বাইয়ে। টিম মাস্টারমাইন্ডস তাদের এই বিজনেস আইডিয়া নিয়ে অংশগ্রহণ করবেন সেখানে। তারা ‘অ্যাম্বুসাইকেল’ নিয়ে যথেষ্ট আশাবাদী। টিম মাস্টারমাইন্ডস মনে করে, তাদের এই আইডিয়া হাল্টের মতো তাত্পর্যপূর্ণ একটি বিজনেস আইডিয়া প্রতিযোগিতার মঞ্চে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে দেশের জন্য সুনাম বয়ে আনবে এবং অদূর ভবিষ্যতে তাদের এই আইডিয়াই হবে বেকারত্ব সমস্যার যুগান্তকারী এক সমাধান।