‘ধোপা চাই’ অ্যাপসে লন্ড্রি সেবা নিয়ে তিন তরুণ উদ্যোক্তা

আপডেট : ৩০ ডিসেম্বর ২০১৮, ২০:০০

মানুষকে তার নিত্য ব্যবহার্য জামাকাপড় পরিষ্কার থেকে শুরু করে আয়রন করা পর্যন্ত যেই ঝক্কি-ঝামেলার মধ্যে পরতে হয় তা নিশ্চয় সবারই জানা এবং বেশ অপছন্দেরও একটা বিষয়। আবার কখনো যদি অফিসের কাজে কিংবা কোথাও ঘুরতে বের হবেন এমন সময় মনে হলো আপনার কাপড়-চোপড় যা আগের দিন পরিষ্কার বা লন্ড্রি করার কথা ছিল কিন্তু কাজের চাপ কিংবা অন্য কোনো ব্যাস্ততার কারণে লন্ড্রি করতে ভুলে গেছেন! তখন নিশ্চয় ভোগান্তির কোনো সীমাই থাকে না। কিন্তু আপনার হাতে যদি বিশ থেকে তিরিশ মিনিট সময় থাকে আর এই সময়ে যদি কেউ আপনার ময়লা কাপড় পরিষ্কারসহ আয়রন করে আপনার সামনে এনে হাজির করে তখন নিশ্চয় আপনার খুশির অন্ত থাকবে না! হ্যাঁ, এমনই এক সেবার ভাবনা নিয়েই নাগরিকের ব্যস্ত জীবনে ময়লা কাপড়-চোপড় পরিষ্কারের তথা লন্ড্রির বিরক্তিকর ঝামেলা থেকে নাগরিক জীবনকে মুক্তি দিতে অনলাইনে অ্যাপস ভিত্তিক সেবা দিতে গবেষণা শুরু করেন রাজধানীর বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিস বিভাগের শিক্ষার্থী এবং তরুণ উদ্যোক্তা মামুনুর রশিদ জারিফ, নাবিল জুনায়েদ রাতুল ও সামিউল ইসলামসহ বিশ জন শিক্ষার্থী। ফলাফল স্বরূপ তারা অতিশীঘ্রই বাজারে আনতে যাচ্ছেন নাগরিক সেবা ভিত্তিক অ্যাপস ধোপা চাই। যার মাধ্যমে মানুষ উবার, পাঠাও কিংবা অনলাইনে কেনাবেচার মতো অর্ডার করা মাত্রই ধোপা চাই অ্যাপসের কর্মীরা গ্রাহকদের দরজায় এসে ময়লা জামা-কাপড় নিয়ে পরিষ্কার ও আয়রন করে ঠিক সময়মতো পৌঁছে দেবে গ্রাহকের ঘরে। এতে, একদিকে গ্রাহক তথা নাগরিকরা পাবেন ঝামেলা মুক্ত লন্ড্রি সুবিধা এবং আরেক দিকে এই সময়টুকু তারা ব্যয় করতে পারবেন অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজে ।

কথা হয় এই অ্যাপস নিয়ে কাজ করা অন্যতম তিন তরুণ উদ্যোক্তা মামুনুর রশিদ জারিফ, নাবিল জুনায়েদ রাতুল এবং সামিউল ইসলামের সঙ্গে। তারা বলেন, ‘আমরা ব্যাক্তিগত ভাবে সমস্যার সম্মুখীন হয়েই বিষয়টা নিয়ে ভাবতে থাকি এবং আমাদের মত অন্য সকলেই যেন এই সমস্যা থেকে মুক্তি পায় সেই লক্ষ্যে কাজ করতে থাকি। এর জন্য অ্যাপস তৈরির কাজ শুরু করার আগে বসুন্ধরা, বারিধারা আবাসিক এলাকায় প্রায় ১১শ পরিবারের ওপর সার্ভে করি এবং দেখি প্রায় সাড়ে নয়শ পরিবারেই কোনো না কোনো সময় লন্ড্রি প্রবলেমে পড়েছেন। তাই আমরা অ্যাপস ভিত্তিক লন্ড্রি সেবা নিয়ে গবেষণা করতে বেশ আগ্রহী হয়ে উঠি। আমাদের অ্যাপস তৈরির কাজ প্রায় শেষ। সব কিছু ঠিক থাকলে, আগামী বছরের মাঝামাঝি সময়ে আমাদের অ্যাপ ভিত্তিক লন্ড্রি সেবা ধোপা চাই মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে পারব। আর আমাদের কাজের প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করে সব ধরনের আর্থিক সহযোগিতা করে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন বাংলাদেশ ভেঞ্চার ক্যাপিটাল লিমিটেড।’

গত ১৪ নভেম্বর ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি আয়োজিত বিশ্ব উদ্যোক্তা সপ্তাহ-২০১৮-তে লন্ড্রি সার্ভিসের অ্যাপস আইডিয়া ধোপা চাই উপস্থাপন করে প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করে অ্যাপসটির উদ্যোক্তারা।