তবলা বাজিয়ে গিনেজ বুকে নাম লেখান চট্টগ্রামের সুদর্শন

আপডেট : ৩০ ডিসেম্বর ২০১৮, ২০:০৫

তবলা বাজিয়ে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম লিখিয়েছেন যুক্তরাজ্যে বসবাসরত চট্টগ্রামের সন্তান পণ্ডিত সুদর্শন দাশ। ছোটবেলায় মাত্র ৪ বছর বয়সে তবলায় হাতেখড়ি হয় তার। চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার অমূল্য রঞ্জন দাশ ও বুলবুল রাণী দাশের ছেলে সুদর্শন জন্মের পর থেকেই দেখেছেন পরিবারের সাংস্কৃতিক আবহ। কলেজে পড়ার সময় একবার আন্তঃকলেজ প্রতিযোগিতায় পেয়েছিলেন স্বর্ণপদক। ১৯৯২ সালে ভারতের শান্তিনিকেতনে গিয়ে ১৯৯৭ সালে সেখান থেকে অর্জন করেন তবলা বিশারদ উপাধি। দেশে ফেরার পর আবার চলে যান যুক্তরাজ্যে। ২০০৪ সালে যুক্তরাজ্যে তবলা অ্যান্ড ঢোল একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেন। ২০০৮ সালে ভারতে আন্তর্জাতিক তবলা প্রতিযোগিতায় পান রৌপ্য পদক।

২০০৯ সালে সুদর্শন জানতে পারেন, ভারতের রামাকৃষ্ণাণ নামের এক ব্যক্তি টানা ৫০১ ঘণ্টা মৃদঙ্গ বাজিয়ে বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন। সুদর্শন তখন ভাবলেন, মৃদঙ্গ বাজিয়ে রেকর্ড করা সম্ভব হলে নিশ্চয়ই তিনিও পারবেন। তিনি ভেবেছিলেন যেহেতু তবলায় অন্যকোনো রেকর্ড নেই, তাই তিনি ১০১ ঘণ্টা তবলা বাজালেও সেটি রেকর্ড হবে। কিন্তু গিনেজ কর্তৃপক্ষ জানাল হস্তচালিত সব বাদ্যযন্ত্রকে একই ক্যাটাগরিতে বিবেচনা করা হয়। মৃদঙ্গ গলায় বেঁধে হেঁটে বা শুয়ে-বসে বাজানো যায়, কিন্তু রামাকৃষ্ণানের রেকর্ড ভাঙতে হলে ৫০১ ঘণ্টার বেশি একটানা বসে থেকে তবলা বাজাতে হবে, তাই সে যাত্রায় আর এগোনো হলো না সুদর্শনের। তিন বছর পর আবারও গিনেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। বহু খাটাখাটনির পর ২০১৬ সালের ২৭ নভেম্বর লন্ডনে স্থানীয় এক অডিটোরিয়ামে শুরু করে টানা ২৫ দিন ৫৫৭ ঘণ্টা ১১ মিনিট তবলা বাজিয়ে নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েন তিনি। তবলায় রেকর্ড করার পর ঢোলে রেকর্ড করার জন্য সুদর্শনকে একটানা ২৭ ঘণ্টা ঢোল বাজাতে হয়েছিল। এটি ছিল তার গড়া দ্বিতীয় বিশ্বরেকর্ড। এ বছরের ৪ জুলাই লন্ডনের স্থানীয় এক মিলনায়তনে সন্ধ্যা থেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত একটানা ১৪ ঘণ্টা ড্রাম বাজিয়ে গড়েন নতুন রেকর্ড। এটি হয়েছিল ইউনিসেফের অধীনে, যেখানে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের অর্থও সংগ্রহ করা হয়।