তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি
মো. কামরুল হাসান, সহকারী শিক্ষক
ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল
জাহানাবাদ সেনানিবাস, খুলনা।
প্রোগ্রামিং ভাষা
অ্যালগরিদম (Algorithm)
শিক্ষার্থী বন্ধুরা, বিশ্ব এক মরণঘাতি ভাইরাসের কারণে দুর্যোগ মুহূর্ত পার করছে। তোমাদের পরীক্ষাও স্থগিত হয়েছে। এই সময়টাতে ঘরে বসে চর্চা করবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবে। অনুশীলন পাতায় নিয়মিত চোখ রাখবে।
গত পর্বে ‘অনুবাদক প্রোগ্রাম’ সম্পর্কে জেনেছি। আজ আমরা ‘অ্যালগরিদম’ সম্পর্কে আলোচনা করব।
ধরা যাক, আকাশ দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র। প্রতিদিনের মতো সে সকালে কলেজে ক্লাস করতে যাবে। বাসা থেকে কলেজে যাওয়া পর্যন্ত তার কাজটা করার জন্য তাকে ছোটো ছোটো যা যা কাজ করতে হয় সেগুলো একটু লক্ষ করি।
১। ঘুম থেকে ওঠা ২। হাত-মুখ ধুয়ে গোসল করা
৩। নাস্তা খাওয়া
৪। কলেজের নির্ধারিত পোশাক পরে নিজেকে প্রস্তুত করা ৫। ব্যাগ গোছানো
৬। রিকশা বা অন্য কোনো গাড়িতে চড়া
৭। কলেজে পৌঁছানো
শিক্ষার্থী বন্ধুরা, লক্ষ করো যে, এখানে আকাশ প্রত্যেকটা কাজ ধারাবাহিকভাবে এবং ধাপে ধাপে করছে। অর্থাত্, “রিকশা বা অন্য কোনো গাড়িতে চড়া” কাজটা “কলেজের জন্য নির্ধারিত পোশাক পরে নিজেকে প্রস্তুত করা”-এর আগে হচ্ছে না। একটি বড়ো কাজ কিংবা সমস্যাকে সমাধান করার জন্য সেটাকে ভেঙে ছোটো ছোটো খণ্ডে ধাপে ধাপে ভাগ করার নামই হলো ‘অ্যালগরিদম’। অ্যালগরিদম শব্দটি গণিতবিদ ‘মুহাম্মদ ইবনে মুসা আল খারিজমী’-এর নাম থেকে উত্পত্তি হয়েছে।
দুটি সংখ্যার যোগফল করার জন্য একটি অ্যালগরিদমের উদাহরণ দেওয়া হলো :
ধাপ ১ : শুরু করি ধাপ
২ : সংখ্যা দুটি ইনপুট করি
ধাপ ৩ : সূত্র প্রয়োগ করে যোগফল বের করি
ধাপ ৪ : যোগফল প্রকাশ করি
ধাপ ৫ : শেষ করি
উদাহরণটিতে লক্ষণীয় যে, প্রত্যেকটি ধাপের মধ্যে স্পষ্টতা, সহজবোধ্যতা ও ধারাবাহিকতা রয়েছে।
