তৌহিদ আজিজ
করোনা ভাইরাসের ভয়াল থাবা যে দিনে দিনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশকে ‘মৃত্যুপুরীতে’ পরিণত করেছে তা নিয়ে বোধ হয় কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই। কিন্তু আশার কথা হচ্ছে বিজ্ঞানীরা এর প্রতিষেধক আবিষ্কারে প্রাণপণে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু চূড়ান্ত পর্যায়ে যাওয়ার আগে ব্যাপকভাবে পরীক্ষানিরীক্ষা হচ্ছে তা মানবদেহের জন্য কতটুকু কার্যকর কিংবা এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কতখানি। আরো পরিষ্কার করে বললে এই প্রতিষেধকগুলো এখন ট্রায়াল ভিত্তিতে রয়েছে। আমরা আশার জায়গা থেকে বলতে চাই হয়তো খুব শিগিগরই ভালো কোনো খবর শুনতে পাব। কিন্তু একটু হতাশার জায়গা থেকে যদি দেখা হয় যে, শেষ পর্যন্ত কোনো ভালো খবর বিজ্ঞানীরা দিতে পারলেন না তাহলে কী ঘটবে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে এমন একটি তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেখা গেল কোনো কার্যকর ভ্যাকসিনই শেষ পর্যন্ত বের করতে পারল না। তাহলে কি ঘটবে সারা বিশ্বে। এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে করোনা তখন কতটা ভয়ংকর আকার ধারণ করবে। এতে আরো বলা হয়েছে, এটি এখন হামাগুড়ি দিচ্ছে। তাই এখনই যদি একে স্তব্ধ করা না যায় তাহলে এটি সোজা হয়ে হাঁটা শুরু করবে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ধরনের আশাহতের ঘটনা যে এর আগেও ঘটেনি তা নয়। স্প্যানিশ ফ্লু (এইচ১এন১ ভাইরাস) বা চীনের মাঞ্চুরিয়ান প্লেগের কথা বলা যেতে পারে। তখনো কিন্তু এর প্রতিষেধক আবিষ্কার হয়নি। আবার ভয়াবহ এইচআইভির (হিউম্যান ইমিউনিটি ভাইরাস) কথাও বলা যেতে পারে। ১৯৮৪ সালে এই ভাইরাসটি যখন আবিষ্কৃত হয় তখন ধারণা করা হচ্ছিল যে, বছর দুয়েকের মধ্যে এর প্রতিষেধক বের হয়ে যাবে। কিন্তু দীর্ঘ প্রায় চার দশক কেটে গেলেও এখনো বিজ্ঞানীরা তেমন আশাব্যঞ্জক কোনো খবর দিতে পারেননি। কিন্তু তত দিনে মৃত্যুর মিছিলে যুক্ত হয় ৩ কোটি ২০ লাখ মানুষের প্রাণ। বিশ্লেষকরা বলছেন, করোনার প্রতিষেধক আবিষ্কারের পথ যদি আরো দীর্ঘ হয় তাহলে বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে এর সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হবে। সেক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন, সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা কিংবা এ সংক্রান্ত যাবতীয় নিয়মকানুন মানুষের জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে নিতে হবে। কেননা যার ইমিউনিটি ভালো সে হয়তো রক্ষা পেয়ে যাবেন কিন্তু যার ভালো না সে ধরাশায়ী হয়ে যাবেন। তাই এর প্রতিরোধে অবশ্যই করণীয় নিয়মগুলো পালনের পাশাপাশি ইমিউনিটি বাড়াতে হবে। লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের গ্লোবাল হেলথ বিষয়ের অধ্যাপক ও কোভিড-১৯ নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিশেষ দূত ডা. ডেভিড নাভারো বলেছেন, আমরা এটা নিশ্চিত করে বলতে পারব না যে, এর ভ্যাকসিন বের হবেই। আবার যদি এটা বেরও হয় তাহলে এটা নিশ্চিত করে বলা যাবে না এর কার্যকারিতা ও সুরক্ষা কতখানি হবে। সব কিছুই নির্ভর করবে মানবদেহে পরবর্তী ট্রায়ালের ওপর। তবে অধিকাংশ বিশেষজ্ঞ এটা বিশ্বাস করতে চান যে, এর কার্যকর ভ্যাকসিন বের হবে। লন্ডনের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকসাস ডিজেজের পরিচালক ডা. অ্যান্থনি ফৌসি বলেছেন, এটা বের হতে এক বছর কিংবা দেড় বছরও সময় লেগে যেতে পারে। অন্য দিকে হিউস্টনের ন্যাশনাল স্কুল অব ট্রপিক্যাল মেডিসিনের ডিন ডা. পিটার হোয়েটজ বলেন, আমরা কখনোই এক কিংবা দেড় বছরের মধ্যে এ ধরনের ভ্যাকসিনের উন্নয়ন ঘটাতে পারিনি। তবে তার মানে এই নয় যে এটা অসম্ভব। তবে তেমন কিছু ঘটলে তা হবে বীরত্বপূর্ণ কাজ। তিনি বলেন, এক্ষেত্রে আমাদের প্লান ‘এ’ এবং প্লান ‘বি’ ফর্মুলার পথে হাঁটতে হবে।
