২০১৮ সাল

তিন ফরম্যাটে ১৪ জনের অভিষেক

আপডেট : ৩০ ডিসেম্বর ২০১৮, ২০:০৯

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ২০১৮ সালটা ভালোই কেটেছে বাংলাদেশের। এই বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের তিন ফরম্যাটে বাংলাদেশের ১৪ ক্রিকেটারের অভিষেক হয়েছে। যার মধ্যে আরিফুল হক, নাজমুল ইসলাম অপু অভিষেকের ক্যাপ পেয়েছেন তিন ফরম্যাটেই। দুই ফরম্যাটে অভিষেক হয়েছে পেস বোলার আবু জায়েদ রাহীর। এই তিনজনের বাইরে বাকি ১১ জনের অভিষেক হয়েছে শুধু এক ফরম্যাটে।

টেস্টে আটজন, ওয়ানডেতে পাঁচজন ও টি-টোয়েন্টিতে ছয়জন ক্রিকেটার বাংলাদেশের ক্যাপ পেয়েছেন। কিন্তু তাদের মধ্যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের ভবিষ্যত্ হওয়ার মতো সম্ভাবনা দেখাতে পেরেছেন মাত্র হাতেগোনা কয়েকজন। এদের মধ্যে অনেকে আবার অভিষেকের পরপরই বাদ পড়েছেন দল থেকে। এবং বছরের শেষান্তে এসে জাতীয় দলের ছত্রছায়ায়ও তাদের আনাগোনা নেই। নির্বাচকদের নজরের বাইরেও চলে গেছেন অনেকে।

তিন ফরম্যাটে সুযোগ পাওয়া আরিফুল হক বছর জুড়ে দলের সঙ্গে ছিলেন। ম্যাচে সুযোগ পেয়েছেন কমই। পাওয়া সুযোগ গুলোও কাজে লাগাতে পারেননি। দুই টেস্টে ৮৮ রান, এক উইকেট, এক ওয়ানডেতে তিন ওভারে ১৭ রান দেয়া এবং নয় টি-২০ তে ৫৯ রান ও এক উইকেটই আরিফুলের সংগ্রামের প্রমাণ।

সাকিবের পাশাপাশি দ্বিতীয় বাঁহাতি স্পিনারের কোটায় টি-২০ তে ভালো করায় নাজমুল ইসলাম অপুকে নিয়ে ভবিষ্যতের ছবি আঁকছিলেন নির্বাচকরা। কিন্তু টি-২০ ছাড়া বাকি ফরম্যাটগুলোতে দলের চাহিদা পূরণে সমর্থ হননি তিনি। এক টেস্টে চারটি, পাঁচ ওয়ানডেতে পাঁচটি ও ১৩ টি-২০ তে আট উইকেট নিয়েছেন তিনি।

ক্যারিবিয়ানে টেস্ট অভিষেকে নজর কেড়েছিলেন আবু জায়েদ রাহী। কিন্তু সর্বশেষ সিরিজে উইন্ডিজদের বিরুদ্ধে বাদ পড়েন তিনি। তিন টেস্টে আটটি, তিন টি-২০ তে চারটি উইকেট পেয়েছেন এই ডানহাতি পেসার।

সবচেয়ে বেশি সুযোগ পেয়েও আরিফুল হতাশ করেছেন বেশি। টি-২০’র বিবেচনায় টিকে থাকবেন নাজমুল অপু। সুইংটা পোক্ত হলেও টিম ম্যানেজমেন্টের প্রত্যাশিত গতি নেই রাহীর বোলিংয়ে। তাই তাকে ছুঁড়ে ফেলা হয়েছে তিন ম্যাচ দেখেই।

চলতি বছরে টেস্টে সানজামুল ইসলাম, আবু জায়েদ রাহী, আরিফুল হক, নাজমুল ইসলাম অপু, মোহাম্মদ মিঠুন, খালেদ আহমেদ, নাঈম হাসান, সাদমান ইসলামের অভিষেক হয়। ওয়ানডেতে এশিয়া কাপে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে আবু হায়দার রনি, নাজমুল হোসেন শান্ত, নাজমুল ইসলাম অপুর অভিষেক হয়। জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে ফজলে মাহমুদ ও আরিফুল হক ওয়ানডে ক্যাপ পেয়েছেন। টি-২০ তে বছরের প্রথম ম্যাচেই শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে আফিফ হোসেন, আরিফুল হক, নাজমুল ইসলাম অপু ও জাকির হাসানের অভিষেক হয়। পরে সিলেটে আবু জায়েদ রাহী ও মেহেদী হাসান বাংলাদেশের টি-২০ ক্যাপ পেয়েছিলেন।

টেস্ট অভিষেকেই বাঁ-হাতি স্পিনার সানজামুল ইসলাম ১৫৩ রানে এক উইকেট নিয়েছিলেন। বছরের বাকি সময়ে তার আর ডাক পড়েনি। মিঠুন তিন টেস্টে ১৩৩ রান, খালেদ আহমেদ এক টেস্টে উইকেটশূন্য, নাঈম হাসান দুই টেস্টে ছয় উইকেট, সাদমান ইসলাম এক টেস্টে ৭৬ রান করেছেন। তাদের মধ্যে নাঈম হাসান অভিষেকে সবচেয়ে কম বয়সে পাঁচ উইকেট নেয়ার রেকর্ড গড়েছেন। এই অফস্পিনারের মাঝে রয়েছে বল হাতে ভবিষ্যতের কাণ্ডারি হওয়ার সম্ভাবনা। ব্যাটিংয়ে মিঠুন ও ওপেনার সাদমানও ভরসা হওয়ার মতো ঝলক দেখিয়েছেন।

ওয়ানডেতে বাঁ-হাতি পেসার আবু হায়দার দুই ম্যাচে তিন উইকেট নিয়েছেন। এশিয়া কাপে তিন ম্যাচে সাত রান করে চরম ব্যর্থ হয়েছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। ঘরোয়া ক্রিকেটে ১৪ বছরের অভিজ্ঞতা নিয়ে সুযোগ পাওয়া বাঁ-হাতি ব্যাটসম্যান ফজলে মাহমুদ দুই ম্যাচেও রানের খাতা খুলতে পারেননি। বাদ পড়েছেন পরের সিরিজেই।

টি-২০ তে আফিফ হোসেন ও জাকির হাসানের মতো তরুণরা এক ম্যাচ খেলেই বাদ পড়েছেন। মেহেদী হাসানের গল্পও থেমে গেছে এক ম্যাচে। আফিফ শূন্য রান, এক উইকেট, জাকির ১০ রান এবং মেহেদী হাসান ১১ রান করেছিলেন।