শাহীন হাফিজ, বরিশাল অফিস
করোনা ভাইরাসের প্রভাবে বরিশাল বিসিক শিল্প নগরীর বৃহত্ প্রতিষ্ঠানগুলোর রপ্তানি আদেশ বাতিল ও প্রায় এক মাস ফ্যাক্টরি বন্ধ থাকলেও ঘুরে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিল্প এলাকার ১০ সহস্রাধিক শ্রমিকদের বেতন-ভাতা নিশ্চিত করতে মালিক সমিতি জরুরি সভা করে নানান সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ৩০ এপ্রিল বিসিক মালিক সমিতির অস্থায়ী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ঐ সভায় সভাপতি, সহসভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, দপ্তরসহ বিভিন্ন ফ্যাক্টরির মালিকরা উপস্থিত ছিলেন। ফ্যাক্টরি বন্ধ থাকাকালীন এবং আগামী দিনগুলোতে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা নিশ্চিত করতে সরকারের নিয়ম মেনে ফ্যাক্টরি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। শনিবার সরেজমিনে বিসিক এলাকার বৃহত্ প্রতিষ্ঠানগুলোতে গিয়ে দেখা গেছে, স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনে ফ্যাক্টরিতে প্রবেশ করানো হচ্ছে। এছাড়া ফ্যাক্টরির অভ্যন্তরে কাজের সময় প্রত্যেককে চার ফুট দূরত্বে বসে কাজ করা এবং ফ্যাক্টরির ঊর্ধ্বতনরা করোনা ভাইরাস সম্পর্কে সচেতনতামূলক আলোচনা করছেন।
বরিশাল বিসিক শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি এবং ফরচুন গ্রুপ অব কোম্পানির চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান ইত্তেফাককে জানান, ফরচুন গ্রুপের অধীন ফরচুন সুজ, প্রিমিয়ার ফুটওয়্যার লিমিটেডসহ বরিশাল বিসিকে তিনটি ফ্যাক্টরি রয়েছে। সংকটকালীন এ সময়ে এসব ফ্যাক্টরির প্রায় ৩৫ কোটি টাকার রপ্তানি আদেশ বাতিল হলেও কর্মরত প্রায় ৫ সহস্রাধিক শ্রমিকের বেতন পরিশোধ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ফ্যাক্টরিতে প্রস্তুতরত প্রায় দেড় লাখ জোড়া জুতা রপ্তানি করতে না পারলে ফ্যাক্টরিগুলো চালু রাখা সম্ভব হবে না। এছাড়া প্রায় এক মাস উত্পাদন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় শ্রমিকদের বসিয়ে রাখাও সম্ভব হচ্ছে না। তাই তার মালিকানাধীন ফ্যাক্টরিগুলোসহ বিসিক এলাকার অন্যান্য ফ্যাক্টরিগুলোতে স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করে শ্রমিকদের কাজে যোগদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এ বিষয়ে এখানকার পুলিশ প্রধান, র্যাব প্রধান ও জেলা প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়ে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে।
