রেমডেসিভির:মহামারির সাগরে আশার ছোট্ট ভেলা

আপডেট : ০৩ মে ২০২০, ২১:২৩

করোনা ভাইরাস সারা বিশ্বের মানুষের মনন কুরাইয়া কুরাইয়া খাইতেছে। ভাইরাসটি প্রভাব ফেলিয়াছে বিশ্বের প্রতিটি মানুষের যাপিত জীবনের সকল অনুষঙ্গের উপর। এই মুহূর্তে দুইটি প্রশ্ন সকলের মাথায় ঘুরপাক খাইতেছে—কবে যবনিকা পতন ঘটিবে এই মহামারির? দ্বিতীয়টি হইল—কবে বাহির হইবে একটি কার্যকরী ঔষধ? প্রথম প্রশ্নের উত্তর পাওয়া গিয়াছে যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিকট। বিশ্ববিদ্যালয়টির সেন্টার ফর ইনফেকশাস ডিজিজ রিসার্চ অ্যান্ড পলিসির (সিআইডিআরএপি) গবেষকেরা জানাইয়াছেন, এই ভাইরাসের মহামারি শেষ হইতে দুই বত্সর লাগিতে পারে। ইহা ছাড়া বিশ্বের দুই-তৃতীয়াংশ মানুষের এই রোগের প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি না হওয়া পর্যন্ত মহামারিটি নিয়ন্ত্রণে আসিবে না।

অত্যন্ত নিরাশার কথা বটে। আশঙ্কার, আতঙ্কেরও বটে। শেষ পর্যন্ত কোভিড-১৯ মহামারি বিশ্বের উপর কী প্রভাব ফেলিবে, তাহা কেহ জানেন না। কিন্তু করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে একটি ন্যূনতম কার্যকরী ঔষধ পাইতে সারা বিশ্ব মরিয়া। বিশেষ করিয়া উহার উপযুক্ত ভ্যাকসিন যতদিন পর্যন্ত আবিষ্কার করা সম্ভব না হইতেছে। আর এই ক্ষেত্রে ছোট্ট একটি সুসংবাদ পাওয়া গিয়াছে। হ্যাঁ, খুব বড়ো সুসংবাদ নহে। করোনার উত্তাল সমুদ্রে আশার ছোট্ট ভেলা বলা যায় ঔষধটিকে। উহার নাম রেমডেসিভির। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থিত বায়োটেকনোলজি সংস্থার তৈরি ইবোলার অ্যান্টিভাইরাল ড্রাগ—রেমডেসিভির। অতীতে ইবোলার তৈরি এই ঔষধটি সেই সময় ব্যবহার করা না হইলেও উহা করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাইতে আশাপ্রদ ফল প্রদান করিতেছে বলিয়া জানা যায়। কন্ট্রোল ট্রায়ালে দেখা গিয়াছে, ৩১ শতাংশ ক্ষেত্রে এই রেমডেসিভির করোনা আক্রান্তদের চিকিত্সায় কিছুটা ফল দিতেছে। ঔষধ না দিলে যেইখানে ১১ শতাংশ রোগী মারা যাইতেছিল, সেইখানে তাহা কমিয়া দাঁড়াইয়াছে ৮ শতাংশে। অর্থাত্ মৃত্যুর হার ৩ শতাংশ হ্রাস করা গিয়াছে! করোনার এই ‘নাই-ঔষধ’-এর বাজারে ইহা কম কীসে! সেই কারণে পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করিয়া আমেরিকার ঔষধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা এফডিএ ইহাকে বিশেষ প্রয়োজনে ব্যবহারের ছাড়পত্র দিয়াছে। আশা করা যায় বাংলাদেশেও যথাযথ পদক্ষেপের মাধ্যমে এই ঔষুধটিকে প্রয়োজন অনুযায়ী কাজে লাগানো সম্ভব হইবে। 

মুশকিল হইল, করোনা ভাইরাস প্রতিনিয়ত মিউটেশন ঘটাইয়া নিজের স্ট্রেন খুব তাড়াতাড়ি বদলাইতেছে। এই কারণে ইহাকে খুব সহজে পরাভূত করা সম্ভব হইবে না বলিয়া মনে করেন বিশ্বের অনেক গবেষক। গবেষকেরা অতীতের বৈশ্বিক মহামারি তথ্যের ভিত্তিতে মনে করিতেছেন যে, এই মহামারি চলিবে দেড় হইতে দুই বত্সর, যাহার সহিত মিল রহিয়াছে ১৯১৮ সালের স্প্যানিশ ফ্লুর। উহাও দুই বত্সর ধরিয়া বিশ্বব্যাপী রাজত্ব করিয়াছিল। স্বস্তির কথা হইল, হাসপাতালে চিকিত্সা ছাড়াই করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের ৮০ শতাংশ আরোগ্য লাভ করিতে পারে। সুতরাং এক দিকে এই রোগের প্রসারের উপর তীক্ষ নজরদারি, অন্য দিকে ব্যাপক সচেতনতার প্রসার প্রয়োজন আমাদের সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে। সর্বত্র সকলকে সাবধানতা অবলম্বন করিয়া চলিতে হইবে সরকার ও চিকিত্সকদের নির্দেশানুযায়ী। আর মানসিক শক্তিতে বলীয়ান হইতে হইবে। গবেষকরাও বলিয়াছেন, করোনাকে জয় করিবার বড়ো অস্ত্র হইল নিজের মনের শক্তি।