কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ
২০০৯ সাল থেকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ২০০৮-এর নির্বাচনী ইশতেহার ‘দিন বদলের সনদ’-এ ঘোষণা দেওয়া হয় বাংলাদেশকে ‘অসাম্প্রদায়িক প্রগতিশীল উদার গণতান্ত্রিক কল্যাণ রাষ্ট্র’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে শুরু হয় দেশের অগ্রযাত্রা তরান্বিতকরণ। এর পূর্ব পর্যন্ত উন্নয়নের গতিপ্রকৃতি তুলনামূলকভাবে দুর্বল ছিল এবং ধারাবাহিক ছিল না। রাজস্ব বছর ২০১০ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে জাতীয় উত্পাদনের প্রবৃদ্ধির হার প্রতি বছর গড়ে ৬ শতাংশের ওপর ছিল ২০১৫ পর্যন্ত, ৭ শতাংশের বেশি ছিল ২০১৬ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত এবং ৮ দশমিক ২ শতাংশ ছিল ২০১৯ সালে। ফলে মাথা পিছু আয় বেড়ে ২০১৯ সালে ১ হাজার ৯০৯ মার্কিন ডলার হয়েছে, যা ২০০৬ সালে ছিল ৫২৩ মার্কিন ডলার। ২০১৯ সালে জন্মের সময় গড়ে প্রত্যাশিত জীবন প্রায় ৭৩ বছরে উন্নীত হয়েছে, যা ২০০৬ সালে ছিল ৬৬ বছরের মতো। দারিদ্র্যের হার নেমে এসেছে ২০ দশমিক ৫ শতাংশে এবং অতি দারিদ্র্যের হার ১০ দশমিক ৫ শতাংশে—যথাক্রমে ২০০৫ সালের ৪০ শতাংশ এবং ২৫ দশমিক ১ শতাংশ থেকে। একইভাবে শিশুমৃত্যু ও প্রসবজনিতমৃত্যুর হারেও প্রভূত উন্নতি হয়েছে এই সময়ে। এছাড়া নারী পুরুষ ক্ষমতা-বৈষম্য কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে বেশি সফলতা অর্জন করেছে এই সময়ে।
দেশের এসব অর্জনের প্রেক্ষিতে করোনা ভাইরাস প্রাদুর্ভাবের প্রাক্কালে দিন বদলের সনদে বিধৃত উপর্যুক্ত লক্ষ্য দেশে প্রতিষ্ঠার পথ কতটা সুগম হলো বা হলো না সেই বাস্তবতার দিকে এখন নজর দেওয়া যাক।
এক্ষেত্রে বিচার-বিবেচনার গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড হবে, দেশের অগ্রগতিতে সব নাগরিকের ন্যায্য অংশীদারিত্ব এবং রাষ্ট্রীয় সব সেবায় তাদের ন্যায্য অধিকার কতদূর নিশ্চিত হয়েছে। তদুপরি, সবার জন্য গণতান্ত্রিক অধিকার এবং আইনের শাসন নিশ্চিত হওয়ার বিষয়টি অতীব গুরুত্বপূর্ণ।
আর্থসমাজিক ক্ষেত্রে বিগত ১০ বছরে সার্বিকভাবে যে নন্দিত উন্নতি হয়েছে তা আগে তথ্যসহ উল্লেখ করা হয়েছে। তবে দেশে বৈষম্য ব্যাপকভাবে বেড়েছে। আয়বৈষম্য প্রকট—২০১০ সালে ছিল শূন্য দশমিক ৪৫, তা বেড়ে এখন শূন্য দশমিক ৪৮। জাতীয় আয়ে সবচেয়ে দরিদ্র ৫ শতাংশের অংশ ২০১০ সালের শূন্য দশমিক ৭৮ শতাংশ থেকে কমে ২০১৬/১৭ সালে হয়েছে শূন্য দশমিক ২৩ শতাংশ। অপরদিকে সবচেয়ে ধনী ৫ শতাংশের অংশ ২০১০ সালের ২৪ দশমিক ৬১ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০১৬/১৭ সালে হয়েছে ২৭ দশমিক ৮৯ শতাংশ। আয়বৈষম্য ক্রমবর্ধমান। ভোগবৈষম্যও বাড়ছে এবং সম্পদবৈষম্য বাড়ছে উদ্বেগজনকভাবে।
আয়বৈষম্য, বিশেষ করে সম্পদবৈষম্য বাড়ার পেছনে ধনীদের দক্ষতা, সক্ষমতা ও পরিশ্রম নিশ্চয় আছে, তবে অনেক ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্যভাবে এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রধানত রয়েছে দুর্নীতি, ধান্দাবাজি ও দখলদারিত্ব। বর্তমানের এই দুর্দিনেও অসহায় মানুষ-উদ্দীষ্ট ত্রাণসামগ্রী চুরি করছে কিছু অমানুষ। সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে চোর-বাটপাররা যে ব্যাপকভাবে তত্পর ছিল, তা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একাধিক বক্তব্য থেকে জানা যায়। কিছু মানুষের চরিত্র এমন যে, তারা মানুষের দুর্দশাকে নিজেদের সুযোগ ধরে নেয়। এদের সংখ্যা তখন থেকে এখন অনেক বেশি, হাতও অনেক লম্বা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ত্রাণ চোরদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বারবার বলছেন, তার পরও এরা কর্ণপাত করছে না। বস্তুত দুর্নীতিতে সারা দেশ ছেয়ে গেছে। ব্যাংকিং খাতের দুর্নীতি-ধান্দাবাজি দীর্ঘ দিন ধরে আলোচনা-বিশ্লেষণে আছে। এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন ব্যাংকের অনেক পরিচালক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বড়ো বড়ো গ্রাহক। এই চক্রে থাকা উল্লেখযোগ্য অপকর্মী অনেকের নাম সর্বজনবিদিত। তাদের বিচার না হওয়ায়, অন্যরাও এ পথে যেতে দ্বিধা করে না।
পুঁজিবাদের দৌরাত্ম্য সারা বিশ্বে এখন তুঙ্গে। বাংলাদেশেও। এখানে পুঁজিপতিদের অনেকে রাজনীতিতেও সক্রিয়, নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে অধিষ্ঠিত। কাজেই বৈষম্য বাড়া যে অপ্রতিরোধ্য হবে এবং সাধারণ মানুষের কল্যাণ ব্যাহত হবে, তা স্বাভাবিক বলে সে ধরে নেওয়া যায়।
প্রশাসন আসলে জনগণের সেবায় নিয়োজিত থাকার কথা। কিন্তু বাংলাদেশে অনেক কর্মকর্তার মধ্যে দীর্ঘসূত্রতা, দুর্নীতি ও পদপদবির গৌরব প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে কলুষিত করছে। আর তা ঘটছে প্রশাসনিক ব্যবস্থায় অনেক সত্ সদস্য থাকা সত্ত্বেও। সার্বিক বিবেচনায় বাংলাদেশে প্রশাসন মূলত শাসকের ভূমিকায়, জনগণের সেবকের কর্মতত্পরতায় নয়। এসব কারণে জনগণের সেবাপ্রাপ্তিতে বিঘ্ন ঘটছে; সাধারণ মানুষ অবহেলিত থাকেন।
দুর্নীতি ও হস্তক্ষেপের সংস্কৃতি দেশে বিস্তৃতভাবে প্রচলিত থাকায় সাধারণ মানুষ অনেক ক্ষেত্রে আইনের যথাযথ সহায়তা ও আশ্রয় পান না। অত্যাচার, খুনখারাবি, ধর্ষণ ও সন্ত্রাসের মাধ্যমে মানবাধিকার লঙ্ঘন উদ্বেগজনকভাবে ঘটছে। অসাম্প্রদায়িকতায় বাংলাদেশের অবস্থান ভালো। তবে সমাজবিরোধী এবং স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি সময় সময় অসাম্প্রদায়িকতার চর্চায় প্রবৃত্ত হয়।
উপযুক্ত সমস্যা ও ঘাটতিসমূহ কলাণ রাষ্ট্র গঠনে যে ব্যাপক প্রতিবন্ধকতা রয়েছে তার পরিচায়ক। এই সমস্যাগুলো আওয়ামী লীগ ২০১৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে চিহ্নিত করে এগুলো সমাধান করার অঙ্গীকার করেছে। বলা হয়েছে—
Åগণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও চেতনাকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরা হবে; Åপ্রত্যেক নাগরিকের আইনের আশ্রয় ও সাহায্য-সহযোগিতা লাভের সুযোগ-সুবিধা অবারিত করা হবে; Åবিচার বিভাগের স্বাধীনতা সংরক্ষণ ও মর্যাদা সমুন্নত রাখা হবে; Åসার্বজনীন মানবাধিকার সুনিশ্চিতে করার এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের যে কোনো প্রচেষ্টা প্রতিহত করার সুব্যবস্থা করা হবে। Åদক্ষ, দুর্নীতিমুক্ত, ন্যায়পরায়ণ, জনগণের সেবায় নিয়োজিত ও জবাবদিহিতামূলক প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। Åস্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তর (যথা : জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ এবং ইউনিয়ন পরিষদ)-এর মধ্য দায়িত্ব বিভাজন সুনির্দিষ্ট করা হবে এবং এগুলোকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষিত জনবল ও অর্থায়ন নিশ্চিত করে যথাযথভাবে কার্যকর করে তোলা হবে। Åএকটি জনবান্ধব আইশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী গড়ে তোলার লক্ষ্যে হাতে নেওয়া কাজ অব্যাহত থাকবে। Åদুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা ঘোষণা করা হয়েছে। ঘুষ, অনোপার্জিত আয়, কালো টাকা, চাঁদাবজি, ঋণখেলাপি, টেন্ডারবাজি, পেশিশক্ত প্রতিরোধ এবং দুর্নীতি-দুর্বৃত্তায়ন নির্মূলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। Åজঙ্গিবাদ, সাম্প্রদায়িকতা, সন্ত্রাস ও মাদকের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার ভিত্তিতে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করা হবে। Åবৈষম্য দূরীকরণে পরিকল্পনা ও কর্মসূচি জোরদার করা হবে এবং অর্থ বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হবে।
হঠাত্ করে বিশ্বের অন্য সব দেশের মতো বাংলাদেশেও করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঘটে। জীবন-জীবিকা লন্ডভন্ড হতে শুরু করে, বিশেষ করে দরিদ্র পিছিয়ে থাকা ও স্বল্প আয়ের কোটি মানুষের। অর্থনীতিতে নেমে আসে অশনি সংকেত। কত দিন এই মহামারি দেশে চলতে থাকবে এবং কত ব্যাপক ও গভীর হয় প্রধানত তার ওপর এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তা কত ব্যাপক ও গভীর বিপর্যয় ঘটায় উল্লেখযোগ্যভাবে তার ওপরও নির্ভর করবে বাংলাদেশের অর্থনীতি এবং সমাজ কোথায় গিয়ে দাঁড়ায় তা। তবে লক্ষণ দেখা যাচ্ছে যে, অর্থনীতি বিশদভাবে বিপর্যস্ত হতে যাচ্ছে। দারিদ্র্য ও অতি দারিদ্র্য মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে। উপযুক্ত সহায়তা পেলে বিপর্যস্ততার কবলে পড়া অদরিদ্র অধিকাংশ দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন বলে আমার ধারণা। সার্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে বড়ো রকমের ধাক্কা লাগবে দেখা যাচ্ছে। তবে এই মহামারির পূর্ণাঙ্গ অভিঘাত এখন নয়, যথসময়ে বোঝা যাবে।
এই করোনাকালে প্রথম কাজ হচ্ছে জীবন বাঁচানোর প্রচেষ্টা—কোভিড-১৯ থেকে এবং পাশাপাশি জীবিকায় ধস থেকে।
কাজেই আগামী দিনগুলো অত্যন্ত কঠিন হবে। দুর্দশায় নিপতিত উপযুক্ত মানবগোষ্ঠীদের বাঁচাতে সামাজিক সুরক্ষা বলয় প্রয়োজনানুসারে বাড়াতে হবে এবং সরকারি ব্যয় বাড়িয়ে ব্যাপকভাবে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। খাদ্যের ক্ষেত্রে, সরকারের কাছে যথেষ্ট মজুত থাকায় এবং এবার বোরো ধান ভালো হওয়ায় দেশে চালের সরবরাহ সন্তোষজনক। প্রশ্ন হচ্ছে, খাদ্যহীনদের কাছে কেমন করে খাদ্য পৌঁছতে পারে? ত্রাণ হিসাবে ব্যাপকভাবে খাদ্য প্যাকেট বিতরণ করা বেশি দিন সম্ভব নয়। অতি দুর্দশাগ্রস্তদের অনেক দিন ধরে হয়তো এভাবে খাদ্য দিতে হবে। তবে ক্রমে প্রধানত রেশনিং এবং বাজারের মাধ্যমে খাদ্য ও নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য বিতরণ হওয়া অধিকতর বাস্তবানুগ। সরকার ইতিমধ্যে রেশনিংয়ের আওতা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে—প্রথমত অপেক্ষাকৃত দুর্বলদের রেশনিংয়ের আওতায় আনা যুক্তিযুক্ত। এসব মানুষ এবং বাজারের মাধ্যমে যারা খাদ্য সংগ্রহ করবেন তাদের মধ্যে সহায়তা-নির্ভরদের অর্থসহায়তা দিতে হবে। এই অর্থ ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সরাসরি প্রাপকের কাছে পাঠানো যাবে। দুর্নীতির সুযোগ কমে যাবে।
কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে বড়ো চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এর জন্য অর্থসংস্থান নিশ্চিতকরণ মাথাব্যথার বড়ো কারণ। রাজস্ব আদায়ে ঘাটতির সম্ভাবনাকে যতদূর সম্ভব সীমিত রাখার লক্ষ্যে জোর প্রচেষ্টা চালাতে হবে, ভ্যাট আদায়ে বিশেষ মনোযোগ দেওয়া যায়। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডল থেকে অর্থসংগ্রহ করার প্রচেষ্টা জোরদার করতে হবে, নীতিনির্ধারণে নিজেদের স্বকীয়তা সমুন্নত রেখে। দেশে সরকারি কার্যক্রম, বেসরকারি খাতের কার্যক্রম এবং স্থানীয় পর্যায়ে প্রচেষ্টাসমূহ (বিশেষ করে, এনজিও কার্যক্রম) পুনর্গঠন ও জোরদার করতে সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত প্রচেষ্টা গ্রহণ ও জোরদার করতে হবে। এক্ষেত্রে স্বল্প মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি বাস্তবধর্মী পরিকল্পনা ও কার্যক্রম গ্রহণ ও বস্তবায়নে বিশেষ মনোযোগ দেওয়া জরুরি। বিভিন্ন খাতের জন্য ৯৫ হাজার ৬১৯ কোটি টাকার সহায়তা ও প্রণোদনা প্যাকেজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিগত ৫ এপ্রিল ঘোষণা করেছেন, যেটির বাস্তবায়নও শুরু হয়েছে। আগামী দিনে নিশ্চয়ই বাস্তবানুগ আরো সহায়তা ও প্রণোদনা প্রদান করা হবে। অবশ্যই কার্যকর ও স্বচ্ছ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। ২০২০-২১ সালের বাজেট কোভিড-১৯ উদ্ভূত বাস্তবতা ধারণ করে অগ্রাধিকার নির্ধারণ ও বিন্যাস করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
প্রধানমন্ত্রীঘোষিত কল্যাণ রাষ্ট্র বাংলাদেশে গড়ে তোলার এক উজ্জ্বল সুযোগ সমাগত বলে আমার মনে হয়। দুর্নীতি, দুর্বৃত্তায়ন, দখলদারিত্ব, ক্ষমতার দৌরাত্ম্য ও অনাচার দূর করে সুস্থ পরিবেশে প্রস্তাবিত কল্যাণ রাষ্ট্র গঠন করার জন্য করোনা ভাইরাস উদ্ভূত বাস্তবতা খুবই উপযোগী বলে আমার ধারণা। কল্যাণ রাষ্ট্র গঠন প্রক্রিয়া শুরু করা হলে বিদ্যমান এই বাস্তবতায় সব অঙ্গনের নেতৃস্থানীয়রা আগ্রহসহকারে বা অবস্থার চাপে পড়ে অংশীদার হবেন। শুরু করা যায় যুক্তরাজ্যের মতো উপর্যুক্ত খাদ্য, কর্মসংস্থান ও স্বাস্থ্যসেবায় সবার ন্যায্য অভিগম্যতা সংশ্লিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থায় সুশাসনের মাধ্যমে নিশ্চিত করে। পাশাপাশি সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করা এবং অন্যান্য ক্ষেত্রেও জনকল্যাণধর্মী কর্মসূচি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের তত্পরতা চালানো বাঞ্ছনীয়। বিশেষ নজর দেওয়া জরুরি ২০১৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে চিহ্নিত গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও চেতনা ঊর্ধ্বে তুলে ধরার ক্ষেত্রে। তদুপরি অনমনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে ঐ ইশতেহারে চিহ্নিত প্রতিবন্ধকতাসমূহ দূর করে কাঙ্ক্ষিত টেকসই উন্নয়ন ও কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করা অতীব গুরুত্বপূর্ণ কাজ।
n লেখক :অর্থনীতিবিদ
