নারায়ণগঞ্জে ২৫ দিনেও চালু হয়নি করোনার পূর্ণাঙ্গ চিকিত্সাসেবা

আপডেট : ০৩ মে ২০২০, ২২:০৫

জনবল সংকটে ৩০০ শয্যা হাসপাতাল

হাবিবুর রহমান বাদল, নারায়ণগঞ্জ

নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতালে শুরু হয়নি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের পূর্ণাঙ্গ চিকিত্সাসেবা। ২৫ দিনেও প্রস্তুত করা যায়নি ১০ শয্যার নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)। প্রাথমিক পর্যায়ে আক্রান্তদের আইসোলেশনে রাখা গেলেও ভেন্টিলেটর না থাকায় গুরুতর আক্রান্তদের সেখানে রাখা যাচ্ছে না। এদিকে কোভিড-১৯ পরীক্ষায় পিসিআর মেশিন স্থাপনের জন্য আরো সপ্তাহখানেক সময় লাগবে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। গত ৮ এপ্রিল শহরের খানপুরে অবস্থিত নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতালকে করোনা আক্রান্তদের চিকিত্সার জন্য নির্ধারণ করা হয়। ঐ দিন রাতেই নিয়মিত কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়ে করোনা রোগীদের চিকিত্সার জন্য হাসপাতালটিকে প্রস্তুতের কার্যক্রম শুরু করা হয়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, এখন পর্যন্ত ৬০ জন (৪২ পুরুষ, ১৮ নারী) কোভিড আক্রান্ত রোগী আইসোলেশনে আছেন। তবে ১০ শয্যার আইসিইউ ইউনিট সম্পূর্ণ প্রস্তুত না হওয়ায় সেখানে কাউকে সেবা দেওয়া যাচ্ছে না। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, সেন্ট্রাল অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা না থাকলেও ৩৫ সিলিন্ডার অক্সিজেন রয়েছে তাদের। তবে আইসিইউর জন্য ১০টি ভেন্টিলেটর এখনো হাসপাতালে পৌঁছায়নি। যার ফলে ঐ ইউনিটে কাউকে ভর্তি রাখা যাচ্ছে না। মুমূর্ষু রোগীদের অন্য হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। কেবল প্রাথমিক পর্যায়ে আক্রান্ত রোগীদের আইসোলেশনে রাখা হচ্ছে।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. গৌতম রায় বলেন, জেলায় আক্রান্ত রোগী বেড়ে যাওয়া শুরুর দিকের ৪০ শয্যার আইসোলেশন ইউনিট ১০০ শয্যায় রূপান্তরের কাজ চলছে। তবে ভেন্টিলেটর এখনো এসে পৌঁছায়নি। ফলে গুরুতর আক্রান্তদের চিকিত্সা দেওয়া যাচ্ছে না। এদিকে নারায়ণগঞ্জে ক্রমাগত করোনা আক্রান্ত রোগী বাড়ায় দ্রুত ও অধিক হারে নমুনা পরীক্ষার জন্য পিসিআর ল্যাব স্থাপনের দাবি ওঠে। সাধারণ জনগণ ও জনপ্রতিনিধিদের জোরালো দাবির প্রেক্ষিতে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতালে ল্যাব স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। হাসপাতালে মেশিনটি এসে পৌঁছালেও এখনো তা স্থাপন করা যাচ্ছে না। এটি স্থাপনে সপ্তাহখানেক সময় লাগবে বলে জানালেন ডা. গৌতম রায়।

 তিনি বলেন, গত বুধবার মেশিন এসেছে কিন্তু এটি স্থাপনের জন্য সময় লাগবে। তাছাড়া পিসিআর মেশিন পরিচালনার জন্য দক্ষ টেকনিশিয়ানও আসেননি। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ল্যাব স্থাপন ও নমুনা পরীক্ষার কার্যক্রম শুরু করা যাবে। সম্পূর্ণ নতুন সেটআপ করতে কিছু সময় তো লাগেই। এদিকে হাসপাতালটিতেও রয়েছে জনবল সংকট। ইতিমধ্যে ছয় জন চিকিত্সক, নয় জন নার্সসহ এই হাসপাতালের ৪২ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। আরো কয়েক জনের নমুনা পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। এমনকি হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক গৌতম রায়ও করোনা আক্রান্ত হয়ে নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে আছেন।