বীরগঞ্জে মাদ্রাসা ছাত্রকে গাছে বেঁধে নির্যাতন

আপডেট : ০৩ মে ২০২০, ২২:০৮

স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর 

বীরগঞ্জে মো. মিনহাজ নামে এক মাদ্রাসা ছাত্রকে গাছে বেঁধে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। বুধবার বীরগঞ্জ উপজেলার পাল্টাপুর ইউনিয়নের ঘোড়াবন্দ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ব্যাপারে মিনহাজের বাবা ছইদুল ইসলাম বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার থানায় মামলা করলে পুলিশ আসামি আবু বকর ও আশরাফুল ইসলামকে গ্রেফতার করে। বর্বর নির্যাতনের এই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়েছে।

জানা গেছে, বীরগঞ্জ উপজেলার পাল্টাপুর ইউনিয়নের ঘোড়াবন্দ কেরানী পাড়ার মিনহাজ শহরের ফরিদপুর গোরস্তান মাদ্রাসার ছাত্র। করোনায় মাদ্রাসা বন্ধ থাকায় বাড়িতে অবস্থানকালে প্রতিবেশী আবু বক্কর সিদ্দিকের স্ত্রী ও দুই ছেলেমেয়েকে আরবি পড়াত।

মঙ্গলবার আবু সিদ্দিকের পরিবার মিনহাজের বিরুদ্ধে তার মেয়েকে শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগ এনে মারধর শুরু করে। এ সময় আত্মরক্ষার্থে পালিয়ে যায় মিনহাজ। বুধবার তার নানার বাড়ি থেকে ধরে এনে আবু বক্কর সিদ্দিক তার বাড়ির সামনে সুপারি গাছে বেঁধে নির্মম নির্যাতন চালায় আশরাফুল ইসলামসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা।

নির্যাতনের শিকার মিনহাজ জানায়, আফরোজা খাতুন পড়া ভুল করলে তাকে মার দেয়। পরে সে কাঁদতে কাঁদতে বিষয়টি তার মাকে গিয়ে বলার পর পরিবারের লোকজন এসে আমাকে মারধর শুরু করে। অভিযুক্ত আবু বক্কর সিদ্দিকের স্ত্রী রমেনা বেগম জানান, আরবি পড়ার এক পর্যায়ে আমি বাড়ির বাইরে যাই। এ সময় মিনহাজ আমার মেয়ের শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালায়। মেয়ের চিত্কারে আমরা ছুটে আসলে সে পালিয়ে যায়। পরে তাকে আটক করে শাসন করেছি।

বীরগঞ্জ থানার ওসি আবদুল মতিন প্রধান জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আবু বক্কর ও আশরাফুল ইসলাম নামে দুই জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলার তদন্ত চলছে বলে জানান তিনি।