বিভিন্ন স্থানে চাল-দুর্নীতি

গৌরনদীতে জেলেরা ৮০ কেজি চালের স্থলে পেলেন ৫০০ টাকা!

আপডেট : ০৩ মে ২০২০, ২২:৪১

বরিশালের গৌরনদীতে জেলেদের মধ্যে বিনামূল্যে খাদ্য সহায়তার চাল বিতরণের ক্ষেত্রে কয়েকজন ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় ১০ টাকা কেজির চাল আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঝালকাঠির নলছিটিতে ভিজিডির চাল মজুত করায় যুবলীগের এক নেতাকে কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

গৌরনদী (বরিশাল) সংবাদদাতা জানান, বরিশালের গৌরনদীতে জেলেদের বিনামূল্যে খাদ্য সহায়তার (বিশেষ ভিজিএফ) চাল বিতরণে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে চার/পাঁচ জন ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। করোনা সংকটকালেও তারা জেলেদের মধ্যে ত্রাণের চাল বিতরণ না করে তা আত্মসাত্ করেছেন। আর নিজের অপকর্মের বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য এক ইউপি চেয়ারম্যান তার এলাকার জেলেদের ৮০ কেজি চালের পরিবর্তে নগদ ৫০০ টাকা থেকে ১ হাজার টাকা করে বিতরণ করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন। এছাড়া কয়েক জন চেয়ারম্যান তাদের নিকটাত্মীয়, ব্যবসায়ী, কৃষক, প্রবাসীসহ অন্য পেশার অধিকাংশ ব্যক্তির নাম জেলেদের তালিকাভুক্ত করেছেন বলে সুবিধাবঞ্চিত জেলে, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী অভিযোগ করেছেন।

গৌরনদী উপজেলার বার্থী ইউপি সদস্য বজলুর রশিদ অভিযোগ করেন, বার্থী ইউনিয়নে ৮০ জন জেলের প্রত্যেকের নামে বরাদ্দকৃত চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসের ৮০ কেজি চাল তাদের মাঝে সঠিকভাবে বণ্টন করা হয়নি। চাল বিতরণে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি করেছেন চেয়ারম্যান শাহজাহান প্যাদা। এ কারণে আমার ওয়ার্ডের অধিকাংশ জেলে গত ২ মাসের বরাদ্দকৃত চাল পায়নি। চাল বিতরণের অনিয়মের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর চেয়ারম্যান কয়েক দিন আগে বার্থীসহ বিভিন্ন এলাকার কিছুসংখ্যক জেলের মাঝে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা করে বিতরণ করেছেন। এলাকার বেশ কয়েক জন জেলে তার এই কথা সমর্থন করে খাদ্যসহায়তা না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন।

তবে জেলেদের চাল আত্মসাত্ ও তাদের মাঝে চালের পরিবর্তে টাকা প্রদানের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বার্থীর ইউপি চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান প্যাদা। তিনি বলেন, আমি কোনো অনিয়ম করিনি, আমার ইউনিয়নে ৮০ জন জেলের নামে বরাদ্দকৃত ২ মাসের চাল আমি ১৬০ জন জেলের মাঝে  ভাগ করে দিয়েছি।

এদিকে শরিকল ইউপি সদস্য আফজাল হোসেন মোল্লা অভিযোগ করেন, আমাদের না জানিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান মো. ফারুক হোসেন মোল্লা গত ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসের জন্য ১৫০ জন জেলের নামে বরাদ্দকৃত ৮০ কেজি করে চাল গুদাম থেকে উত্তোলন করেন। কিন্ত বিতরণের সময় তিনি জেলেদের প্রত্যেককে ৮০ কেজির পরিবর্তে ৪০ কেজি করে চাল প্রদান করেন। তাও আবার অধিকাংশ কার্ডধারী জেলেকে চাল দেওয়া হয়নি।

তবে শরিকলের ইউপি চেয়ারম্যান ফারুক মোল্লা তার বিরুদ্ধে জেলেদের চাল আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার ইউনিয়নে জেলের সংখ্যা বেশি হওয়ায় আমি ১৫০ জন জেলের চাল ৩০০ জনের মধ্যে ভাগ করে দিয়েছি।

এ বিষয়ে গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইসরাত জাহান বলেন, এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দুপচাঁচিয়ায় ১০ টাকা কেজির চাল আত্মসাত্

আদমদীঘি (বগুড়া) সংবাদদাতা জানান, বগুড়ার দুপচাঁচিয়ার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের হতদরিদ্রের ১০ টাকা কেজি মূল্যের চাল বিগত ২০১৬ সাল থেকেই ডিলার ও সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্যদের যোগসাজশে লোপাট হওয়ার  অভিযোগ  উঠেছে। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে একাধিক ব্যক্তি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

সরেজমিনে গিয়ে বঞ্চিতদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আলতাফনগর গ্রামের সামাদ মন্ডলের ছেলে হতদরিদ্র এনামুল হক রবিবার উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগে বলা হয়, ‘ঐ ওয়ার্ডের দরিদ্রদের মধ্যে ১০ টাকা কেজি মূল্যের চাল বরাদ্দের তালিকায় আমার নাম রয়েছে। কিন্তু চাল ডিলার বকুল হোসেন বিগত ২০১৬ সাল থেকেই আমার নামে বরাদ্দকৃত চাল (কার্ড নম্বর-১৪৫৫ এবং এনআইডি নম্বর-১০১৩৩৪০৬৮২৮৩৮) আত্মসাত্ করে আসছে।’ একই ভাবে ৯ নম্বর ওয়ার্ডের শেফালী বেগম, জুলেখা বেগমসহ বিভিন্ন এলাকার আরো অনেকের নামে বরাদ্দকৃত চাল ডিলার বকুল হোসেন আত্মসাত্ করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

উপজেলা কৃষি অফিসার সাজেদুল আলম মুঠোফোনে জানান, হতদরিদ্রদের ১০ টাকা কেজি মূল্যের চাল আত্মসাতের বিষয়ে তদন্ত করার জন্য ইউএনও মহোদয়ের নির্দেশ পেয়েছি। দুই-এক দিনের মধ্যেই সরেজমিনে গিয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করব।

নলছিটিতে যুবলীগ নেতার জরিমানা কারাদণ্ড

ঝালকাঠি প্রতিনিধি জানান, নলছিটিতে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি ও ভিজিডির চাল সংগ্রহ ও মজুত রাখার অপরাধে আব্দুর রহিম হাওলাদার নামে এক যুবলীগ নেতাকে ভ্রাম্যমাণ আদালত ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে। উপজেলার কুশঙ্গল গ্রামের আব্দুর রহিম হাওলাদার তার বাড়িতে সরকারি চাল মজুত রেখেছেন এমন তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার বিকালে তার বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। এসময় ৩০ কেজি ওজনের চার বস্তা চালসহ তাকে আটক করে প্রশাসন। পরে এ ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাখাওয়াত হোসেন। দণ্ডপ্রাপ্ত আব্দুর রহিম হাওলাদার ঐ গ্রামের আ. বারেক হাওলাদারের ছেলে। তিনি কুশঙ্গল ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক বলে জানা গেছে। নলছিটি উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, জব্দকৃত চাল উপকারভোগীদের মধ্যে বিতরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।