করোনা ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে আরো চার জনের মৃত্যু

আপডেট : ০৩ মে ২০২০, ২২:৪১

করোনার উপসর্গ নিয়ে দেশে আরো চার জনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল রবিবার নোয়াখালীর সেনবাগে জ্বর ও শ্বাসকষ্টে এক মাদ্রাসাছাত্রীর মৃত্যু হয়। এছাড়া শনিবার দিনাজপুরের পার্বতীপুরে মধ্য বয়সি এক নারী ও চান্দিনায় এক কলেজছাত্রীর মৃত্যু হয়। সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর।

সেনবাগ (নোয়াখালী) :নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় করোনা ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে সামিয়া (১৩) নামে এক মাদ্রাসাছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। রবিবার সকাল ৯টার দিকে কাবিলপুর ইউনিয়নের মইজদীপুর গ্রামের নানার বাড়িতে তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের লোকজন তার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য চট্টগ্রামের বিআইটিআইডিতে পাঠায়।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. মতিউর রহমান জানান, ঐ ছাত্রী স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় সপ্তম শ্রেণিতে পড়ত। তার গ্রামের বাড়ি বেগমগঞ্জ উপজেলায়। নানার বাড়িতে থেকে পড়ালেখা করত সে। দুই দিন ধরে হালকা জ্বর ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিল। রবিবার সকালে তার মৃত্যু ঘটে।

ইউএনও মো. সাইফুল ইসলাম মজুমদার জানান, জ্বর ও শ্বাসকষ্টে মারা যাওয়া মাদ্রাসাছাত্রীর বাড়িটি লকডাউন করা হয়েছে। বাড়ির ১৫টি পরিবারের                 প্রায় ৬০ জন সদস্যকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলা হয়েছে।

পার্বতীপুর (দিনাজপুর) :দিনাজপুরের পার্বতীপুরে করোনা ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে নয়না রায় নামের এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। গত শনিবার দুপুরে তাকে সমাহিত করা হয়।

জানা যায়, পার্বতীপুর উপজেলার মমিনপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর ভবেরবাজার এলাকার বাসিন্দা নয়না রায় (৪৬)। অনেক আগে স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হওয়ার পর থেকে স্থানীয় একটি রাইস মিলে দিনে কাজ করতেন। তার স্বামীর নাম হরেন্দ্রনাথ রায়। তিনি কয়েক দিন ধরে সর্দি-জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। গত বৃহস্পতিবার খবর পেয়ে তার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিক্যাল কলেজ হাসপতালে পাঠানো হয়। পরদিন শুক্রবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে নয়না রায় মারা যান। এরপর প্রশাসনের পক্ষ থেকে এলাকাটি লকডাউন করা হয়। গত শনিবার দুপুরে করোনা আক্রান্ত নিয়মে তাকে সমাহিত করা হয়। গত শনিবার বিকাল ৪টায় এ ব্যাপারে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুল্যাহেল মাফী জানান, এখনো তার পরীক্ষার ফলাফল এসে পৌঁছায়নি। তাই কিছু বলা যাচ্ছে না।

চান্দিনা ও বুড়িচং (কুমিল্লা) :কুমিল্লার চান্দিনায় করোনা ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে এক কলেজছাত্রীর (১৭) মৃত্যু হয়েছে। শনিবার বিকেলে চান্দিনা উপজেলার ভোমরকান্দি গ্রামের নিজ বাড়িতে তার মৃত্যু হয়। ঐ ছাত্রী পার্শ্ববর্তী বরুড়া উপজেলার খোসবাস কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী।

নিহতের চাচা মাইজখার ইউনিয়ন পরিষদ মেম্বার সফিকুর রহমান বলেন, ‘গত ১৫-২০ দিন যাবত্ জ্বর-কাশিতে ভুগছিল সে। প্রাথমিকভাবে বাড়িতে চিকিত্সা নিয়ে তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি না ঘটলে এক সপ্তাহ আগে রামমোহন বাজারের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চিকিত্সক মাহবুবুর রহমানের কাছে চিকিত্সা নেয়। সেখানে তার পরীক্ষা-নিরীক্ষাও করা হয়। তার পরও জ্বর কমেনি। শনিবার তাকে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে তারা তাকে সেখানে ভর্তি না রেখে করোনা ভাইরাসের নমুনা সংগ্রহ করে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। আমরা বাড়িতে আসার এক ঘণ্টা পর বিকাল ৪টায় তার মৃত্যু হয়। রাত ৯টার দিকে তিন জন পিপিই পরে তার লাশ দাফন করেন।’ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আহসানুল হক বলেন, ‘নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট আসার পর পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

গোমস্তাপুর (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) : চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে করোনা ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। রবিবার দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিত্সাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মারা যাওয়া ঐ যুবক ভোলাহাট উপজেলার জামবাড়িয়া ইউনিয়নের ছোট জামবাড়িয়া গ্রামের আন্জার আলীর ছেলে হূদয় (১৭)। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অবহিত না করে তার লাশ নিয়ে যায় স্বজনরা।

গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিত্সক সালাউদ্দিন আহম্মেদ জানান, গতকাল দুপুর দেড়টার দিকে অসুস্থ অবস্থায় ঐ যুবক চিকিত্সা নিতে এলে জরুরি বিভাগে ভর্তির কিছুক্ষণ পর সে মারা যায়। তার করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

যুবকের সঙ্গে আসা স্বজনের উদ্ধৃতি দিয়ে জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার ফারিকুল ইসলাম জানান, ঐ যুবক বেশ কিছুদিন থেকে কাশিসহ শ্বাসকষ্টে ভুগছিল। হাসপাতালে তার যক্ষ্মা পরীক্ষা করা হয়। তবে তার যক্ষ্মা ধরা পড়েনি বলে রিপোর্টে জানা গেছে।