চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার জট ধীরে ধীরে কমে আসছে। গত ২৬ মার্চ থেকে দেশব্যাপী অব্যাহত সাধারণ ছুটি ঘোষণার পর থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার জট বাড়তে থাকে। এক পর্যায়ে বন্দরের জেটিতে কনটেইনার রাখার সীমা ছাড়িয়ে যায়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং চট্টগ্রাম কাস্টমস একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে। সারাদেশব্যাপী লকডাউন এবং সকল শিল্পকারখানা ও সরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধের মধ্যেও চট্টগ্রাম কাস্টমস সকল পণ্যের শুল্কায়ন এবং বন্দর কর্তৃপক্ষ কনটেইনারের স্টোর রেন্ট মওকুফ করে। কারণ বন্দরে পণ্যবাহী কনটেইনার পৌঁছার চার দিন পর থেকে কয়েক ধাপে স্টোর রেন্ট দিতে হয়। এরপরও কনটেইনার ডেলিভারি আশানুরূপ হয়নি। শেষ পর্যায়ে গত এপ্রিলের শেষ সপ্তাহ থেকে আমদানিকৃত সব পণ্যবাহী কনটেইনার বেসরকারি আইসিডিসমূহে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এরই মধ্যে দেশে গার্মেন্টসসহ অন্যান্য শিল্পকারখানা পর্যায়ক্রমে খুলতে থাকে। এতে বন্দর থেকে সকল পণ্যের কনটেইনারসমূহ বেসরকারি আইসিডিতে নেওয়া শুরু হয়।
জানা যায়, গত এক সপ্তাহে প্রায় ১৩ হাজার কনটেইনার বেসরকারি আইসিডিতে যায়। আগে শুধু নির্দিষ্ট ৩৮টি আমদানি পণ্যবাহী কনটেইনার বেসরকারি আইসিডিতে যেতে পারত। ঐসব পণ্যবাহী কনটেইনার আমদানিকারকরা ১৮টি বেসরকারি আইসিডি থেকে ডেলিভারি নিতে পারতেন। বাকি সব পণ্যবাহী কনটেইনার বন্দরের জেটি থেকে খালাস নিতে হতো। চট্টগ্রাম বন্দরে সর্বোচ্চ ৪৯ হাজার কনটেইনার রাখার সক্ষমতা রয়েছে। কিন্তু পণ্যবাহী কনটেইনার আসার সঙ্গে সে অনুপাতে ডেলিভারি না হওয়ায় বন্দরে কনটেইনার ধারণক্ষমতা অতিক্রম করে। চট্টগ্রাম বন্দর শুধু কনটেইনার রেন্ট মওকুফ করায় তাদের প্রায় ১৩৮ কোটি টাকা ক্ষতি হয় বলে জানানো হয়। এদিকে চট্টগ্রাম শহর ও তত্সংলগ্ন এলাকায় থাকা ১৮টি বেসরকারি আইসিডিতে প্রায় ১৮ হাজার অতিরিক্ত কনটেইনার রাখতে সক্ষম বলে জানিয়েছে।
সার্বিক অবস্থার প্রেক্ষিতে গত ২৬ এপ্রিল বন্দরের বহির্নোঙরে যেখানে ৩৬টি কনটেইনারবাহী জাহাজ অবস্থান করছিল। গতকাল রবিবার বহির্নোঙরে জাহাজ ছিল ২২টি। কনটেইনারবাহী জাহাজের গড় অবস্থানকাল ১৮ দিনের স্থলে ১১ দিনে নেমে এসেছে বলে বন্দরের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান। এদিকে চট্টগ্রাম বন্দরের জেটিতে আগে যেখানে দিনে ৮/১০টি জাহাজ ভেড়ানো সম্ভব ছিল। গত কয়েকদিনে ১২/২৩টি জাহাজ ভেড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে জানা যায়।
একইসঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরের জেটিতে কনটেইনার সংখ্যা গতকাল রবিবারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ৪৭ হাজারে নেমে এসেছে। চট্টগ্রাম বন্দরে স্বাভাবিক সময়ে কনটেইনার থাকে ৪০ হাজারের নিচে। তবে দেশের শিল্প-মালিক ও আমদানিকারকরা আগে স্বাভাবিক নিয়ে কনটেইনারসমূহ দ্রুত খালাস নিলে আগের অবস্থায় পৌঁছাতে বেশিদিন লাগবে না বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান।
