খোশ আমদেদ মাহে রমজান

আপডেট : ০৩ মে ২০২০, ২২:৪৯

আজ ১০ রমজান। আজকের সূর্য অস্ত গেলে মাহে রমজানের রহমত দশকের সমাপ্তি হয়ে শুরু হবে মাহে রমজানের মাগফেরাত দশকের, যা অব্যাহত থাকবে ২০ রমজানের সূর্যাস্তের আগ পর্যন্ত।

প্রিয় নবি সরকারে দো আলম নূরে মুজাসসম হজরত মুহম্মদ রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলায়হি ওয়া সাল্লাম’ প্রিয় বিবি হজরত খাদিজাতুল কুবরা রাদিআল্লাহু তাআলা আনহা ৬২০ খ্রিষ্টাব্দের ১০ রমজান তার গৃহে ইন্তেকাল করেন। এই সময় তার পাশে ছিলেন প্রিয়নবি (সা.)।

আমরা জানি, মক্কার কাফির মুশরিকরা কোনোভাবেই হজরত মুহম্মদ সল্লালাহু ‘আলায়হি ওয়া সাল্লাম’কে ইসলাম প্রচার করা থেকে নিবৃত্ত করতে পারছিলেন না। তখন তারা তাকে এবং তার লোকজন ও তার প্রতি সহানুভূতিসম্পন্ন গোত্রগুলোকে বয়কট করে। প্রিয়নবি রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলায়হি ওয়া সাল্লাম’ সবাইকে নিয়ে আবু তালিব গিরি সংকটে অবস্থান করলেন। প্রায় তিন বছর সেই গিরি সংকটে দারুণ কষ্টের মধ্যে দিন কাটল। হজরত খাদিজা রাদিআল্লাহু আলা আনহা তার সন্তানদের নিয়ে স্বামীর পাশেই ছিলেন। বয়কটের অবসান হলে সবাই গৃহে ফিরলেন। এই সময় একদিন তিনি ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়লেন এবং ইন্তেকাল করলেন। তাকে গোসল করানোর পর কাফন পরিয়ে জান্নাতুল মুয়াল্লা গোরস্থানে নিয়ে আসা হলো এবং তার শিশুপুত্রদের কাছে দাফন করা হলো। প্রিয়নবি রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলায়হি ওয়া সাল্লাম’ নিজ মুবারক হাত দিয়ে তাকে কবরে শুইয়ে দেন। বর্তমান লেখক সস্ত্রীক ২০০২ খ্রিষ্টাব্দে হজরত খাদিজা রাদিআল্লাহু তাআলা আনহার মাজার শরিফ জান্নাতুল মুয়াল্লা জিয়ারত করেছেন। হজরত খাদিজা (রাদি.)-এর উপাধি ছিল তাহিরা। তার ইন্তেকালের বছরকে বলা হয় শোকের বছর। সেই বছর ছিল প্রিয়নবি (স.)-এর সবচেয়ে বড়ো শোকের বছর।

হজরত খাদিজা রাদিআল্লাহু তাআলা আনহা মক্কার কুরাইয়শ বংশের সম্মানিত গোত্র আসাদ ইবনে আবদিল উজাজায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মক্কায় অত্যন্ত সম্ভ্রান্ত ও ঐশ্বর্যশালী নারী ছিলেন। তার ছিল ব্যবসা-বাণিজ্য সুদূর চীন দেশ পর্যন্ত বিস্তৃত। প্রিয়নবি রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলায়হি ওয়া সাল্লাম’-এর সঙ্গে তার শাদি মুবারক সম্পন্ন হয় ৫৯৫ খ্রিষ্টাব্দে। তখন তার বয়স ৪০ বছর এবং প্রিয়নবি তখন ২৫ বছর বয়স্ক এক যুবক। এই শাদির আগে খাদিজা (রা.)-এর আরো দুই বার শাদি হয়েছিল। কিন্তু তারা কেউই বেঁচে থাকেননি। হজরত খাদিজা (রা.) তার বিশাল ধনসম্পদ ইসলামের কাজে ব্যয় করেন। প্রিয়নবি রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলায়হি ওয়া সাল্লাম’ শাদি করার পর থেকেই প্রায়শ মক্কার কাবা শরিফ থেকে প্রায় তিন মাইল উত্তর-পূর্বে অবস্থিত হিরা গুহায় অবস্থান করতেন। মাঝেমধ্যেই হজরত খাদিজা (রাদি.) সেখানে স্বামীর সঙ্গে থাকতেন। ৬১০ খ্রিষ্টাব্দের রমজান মাসের কোনো এক বেজোড় রাতে প্রিয়নবি (স.) প্রথম ওহিপ্রাপ্ত হন। তিনি গৃহে ফিরে এসে স্ত্রী খাদিজ (রাদি.)-কে সব ঘটনা বলেন। হজরত খাদিজা (রাদি.) সর্বপ্রথম ইসলামে ইমান আনয়ন করেন।

লেখক :পীর সাহেব, দ্বারিয়াপু  শরীফ