ফুটবল হতেও পুরনো বছর শেষ। নতুন বছরের খাতা খুলছে। ফুটবলের নতুন খাতায় যাওয়ার আগে পুরনো খাতায় চোখ রাখলে অন্তত হতাশ হবেন না। বিশেষ করে এশিয়ান গেমস ফুটবলে বাংলাদেশ প্রথমবার দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠে দেশের ফুটবলে নতুন ইতিহাস করেছিল। কাতার বিশ্বকাপ ফুটবল আয়োজকদের হারিয়েছে বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-২৩ এশিয়ান গেমস ফুটবল দল। কাতারের মতো দলকে হারিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে যাওয়া কঠিন। কাতার যেভাবে আন্তর্জাতিক ফুটবলের পথে এগিয়ে যাচ্ছে সেই শক্তিশালী কাতারের অনূর্ধ্ব-২৩ ফুটবল দলকে হারানো অনেকের কাছে তাক লাগানোর মতোই। বাংলাদেশের ফুটবলাররা সেটি করে দেখিয়েছেন। খেলার শেষ মুহূর্তে গোল করে ম্যাচ জিতিয়েছিলেন ডেনমার্ক প্রবাসী জামাল ভূঁইয়া। দ্বিতীয় রাউন্ডে শক্তিশালী উত্তর কোরিয়ার কাছে হেরে বিদায় নেয় জামাল ভূঁইয়ার বাংলাদেশ।
ভুটানের কাছে হারের কারণে মান গেল, বলে যে রব উঠেছিল অন্তত এশিয়ান গেমস ফুটবলে সেটি কিছুটা পুষিয়েছে। যদিও ফুটবলাররা আফসোস করেন ভুটানের কাছে হারে যেভাবে সমালোচনার ঝড় উঠেছিল সেভাবে প্রশংসা পায়নি এশিয়ান গেমস ফুটবলের দ্বিতীয় রাউন্ডে ওঠার খবর। অথচ জাকার্তা এশিয়ান গেমসে নারী ফুটবল রেখে পুরুষ ফুটবল দলকে বাদই দিয়ে দিয়েছিল বিওএ। বাফুফেকে তাদের না জানিয়ে নেয়া বিওএ’র এমন সিদ্ধান্ত মেনে নেয়নি। বাফুফে সে সিদ্ধান্ত বদলে নারী ফুটবল দলকে বাদ দিয়ে পুরুষ দলকে পাঠানোর কঠিন চ্যালেঞ্জ নিয়েছিল। সেই চ্যালেঞ্জে উতরে গেলেও আন্তর্জাতিক ফুটবলে সিনিয়র দলের চেয়ে বয়সভিত্তিক দল ভালো করতে পারে, সেটা নতুন করে বার্তা দিয়েছে ২০১৮ সাল। নেপালে অনূর্ধ্ব-১৫ সাফে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ। মালদ্বীপ ও নেপালকে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠে। সেমিফাইনালে ভারতকে হারায়। ফাইনালে পাকিস্তানকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় অনূর্ধ্ব-১৫ বাংলাদেশ ফুটবল দল।
বছরটি আরও কিছু কারণে আলোচিত হয়েছিল। সেপ্টেম্বরে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ এবং অক্টোবরে বঙ্গবন্ধু কাপ ফুটবল দেখেছেন বাংলাদেশের দর্শকরা। পরপর দুটি আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্ট দেশের ফুটবলে সাড়া ফেলেছিল। এই দুটি টুর্নামেন্টের জন্য ব্রিটিশ কোচ জেমি ডে দায়িত্ব নিয়েছিলেন। জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের জন্য সর্বোচ্চ অনুশীলনের সুবিধা করে দিয়েছিল বাফুফে। দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুশীলন হয়। এশিয়ান গেমসে ভালো করলেও দেশের মাটিতে আশানুরূপ ফল হয়নি। সাফে গ্রুপ পর্বে ২-০ গোলে ভুটানকে, ১-০ গোলে পাকিস্তানকে হারিয়ে ভালো খেলেও নেপালের কাছে ২-০ গোলে হেরে যায়। গ্রুপ পর্বে গোল গড়ের হিসাবে বাদ পড়ে সেমিফাইনালে উঠতে পারেনি বাংলাদেশ।
সাফের হিসাব শেষ না হতেই বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবলের পর্দা উঠে। নতুন আশার ভেলা ভাসিয়েছিল ফুটবল দর্শকরা। সিলেট, কক্সবাজার হয়ে ঢাকায় ফাইনাল হলো। গ্রুপ পর্বে বিপলুর গোলে বাংলাদেশ ১-০ গোলে লাওসকে হারিয়ে এক ম্যাচ জিতেই সেমিফাইনালে উঠে। সেমিফাইনালে ফিলিস্তিনের কাছে ২-০ গোলে হেরে টুর্নামেন্টের কক্সবাজার পর্ব হতে বিদায় নেয়। ফাইনাল হয় বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে। বছর শেষে পুরুষ ফুটবলে ফিফার র্যাংকিংয়ে কিছুটা উন্নতি হয়েছিল। ১৯৪ থেকে ১৯২।
বছর জুড়ে আলোচনায় ছিল নারী ফুটবল
পুরুষ ফুটবলারদের তুলনায় নারীরা ছিল বেশি আলোচনায়। দেশে কিংবা বিদেশের মাটিতে একের পর বাংলার নারী ফুটবলারদের জয়ের খবর সব শ্রেণিপেশার মানুষের কাছে আদরণীয় হয়ে উঠেছিল। নারী ফুটবলাররা এখন সমাজের যে কোনো স্তরে বাড়তি সম্মান পাচ্ছেন। এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ বাছাইয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। ভুটানে সাফ অনূর্ধ্ব-১৮ ফুটবলে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। এই টুর্নামেন্টে বাংলার মেয়েরা এক গোল হজম করে দুই ডজন গোল করেছেন। পাকিস্তানকেই হারিয়েছে ১৭ গোলে। ভুটানে অনূর্ধ্ব-১৫ মেয়েদের সাফে ফাইনালে ভারতের কাছে হেরে রানার্সআপ হয়। অনূর্ধ্ব-১৫ দলের এই মেয়েরাই হংকংয়ে জকিকাপ ফুটবলে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়। হংকংয়ের দিন ম্যাচে ২৪ গোল করেছে মেয়েরা। তাজিকিস্তানে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৯ ফুটবলের বাছাইয়ে বাংলাদেশ চার দলের মধ্যে তৃতীয় হয়। তবে অনূর্ধ্ব-১৯ বাছাইয়ে তিনবার অংশগ্রহণ করে প্রথম জয়টি পেয়েছিল এবার তাজিকিস্তানে। বয়সভিত্তিক ফুটবলে ভালো করলেও জাতীয় নারী দলটি ভালো করতে পারেনি। কারণ বয়সভিত্তিক দলটা গড়ে ওঠে আগামী দিনের সিনিয়র জাতীয় দল হিসেবে।
