অবশেষে বাড়ির বাইরে বের হলেন স্পেনের মানুষ

আপডেট : ০৪ মে ২০২০, ০২:০৯

লকডাউন শিথিল করায় ৪৯ দিন পর স্পেনের প্রাপ্তবয়স্ক মানুষেরা বাড়ির বাইরে বের হওয়ার অনুমতি পেয়েছেন। দীর্ঘদিন পর শনিবার দেশটির রাস্তাগুলোতে মানুষকে প্রাতঃভ্রমণ, শরীরচর্চা এবং সাইক্লিং করতে দেখা যায়। করোনার কারণে বিপর্যস্ত স্পেনে এখন কিছুটা হলেও ফিরে এসেছে প্রাণচাঞ্চল্য।

করোনা ভাইরাসে বিশ্বে যে কয়েকটি দেশ সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে, স্পেন তার মধ্যে অন্যতম। ইউরোপের এই দেশটিতে গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ২ লাখ ১৬ হাজারের বেশি মানুষ। মৃত্যু হয়েছে ২৫ হাজার ১০০ জনের। করোনার ভয়াল সংক্রমণ ঠেকাতে গত মার্চে দেশটিতে কঠোর লকডাউন জারি করা হয়। এই সময় লোকজন শুধু ওষুধ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী কেনার জন্য বাড়ি থেকে বের হওয়ার অনুমতি পেতেন। এছাড়া যাদের বাসা থেকে অফিস করার সুযোগ নেই, শুধু তারাই অফিসে যেতে পারতেন। গত সপ্তাহ পর্যন্ত স্পেন ছিল ইউরোপের একমাত্র দেশ যেখানে শিশুদের বাড়ির বাইরে যাওয়ার অনুমতি ছিল না।

আক্রান্তের সংখ্যা হ্রাস পাওয়ায় এবং হাসপাতালগুলোতে ভিড় কমতে শুরু করায় স্পেন সরকার গতকাল থেকে লকডাউন শিথিল করে। এর আগে গত সপ্তাহে ১৪ বছরের কম বয়সি শিশুদের দিনে এক ঘণ্টার জন্য বাইরে বের হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। দেশটির অনেক এলাকায় শনিবারের সকালটি ছিল করোনা প্রাদুর্ভাব শুরুর আগের মতোই। শত শত মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে রাস্তা-ঘাট। সবাই মেনে চলেন সামাজিক দূরত্বের বিধি-নিষেধ। তবে রাস্তা-ঘাটে যানবাহন ছিল খুবই কম। বাইরে মানুষের ভিড় কমাতে দেশটির সরকার ‘শিফট’ ব্যবস্থা চালু করেছে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন বয়সের মানুষ ভিন্ন সময়ে বাইরে বের হওয়ার অনুমতি পাচ্ছেন। সোমবার থেকে সেখানে সেলুন খুলবে। তবে বার ও রেস্তোরাঁ বন্ধ থাকবে আরো এক সপ্তাহের জন্য।

শনিবার মাদ্রিদের রাস্তায় দেখা যায় সাইকেলচালক ও স্কেটবোর্ডারদের। যদিও জনপ্রিয় এলাকায় জনসমাগম যাতে বেশি না হয়, সেই চেষ্টা করেছে পুলিশ। মাদ্রিদের রাস্তায় প্রাতঃভ্রমণে বের হওয়া শার্লট বলেন, কয়েক সপ্তাহ ধরেই অপেক্ষায় ছিলাম। বন্ধুদের সঙ্গে মজা করে বলেছিলাম, মাদ্রিদে প্রথম বাইরে আসা ব্যক্তি হব আমি। ছয় সপ্তাহ ধরে ইয়োগা ভিডিও দেখার পর বাইরে বের হতে পেরে আমি খুব খুশি।’