সবজি

সজিনা ডাঁটা

আপডেট : ০৪ মে ২০২০, ১৯:৫৪

 

সজিনার পাতা, ফুল ও ডাঁটা নানাবিধ পুষ্টিগুণসম্পন্ন। গ্রীষ্মপ্রধান অঞ্চলের জনপ্রিয় সবজি এই সজিনা। এটি অতি প্রয়োজনীয় জীবন রক্ষাকারী উদ্ভিদ। পুষ্টি ভাণ্ডার হিসেবে খ্যাত সজিনাগাছের পাতা, ফুল ও ডাঁটায় রয়েছে ভিটামিন এ, ভিটামিন বি, ভিটামিন সি, ভিটামিন সি নিকোটিনিক অ্যাসিড, বিটা-ক্যারোটিন, কিউরেকটিন, ক্লোরোজেনিক অ্যাসিড, পটাসিয়াম, ক্যালসিয়াম, আয়রন, প্রোটিন, চর্বি জাতীয় পদার্থ ও কার্বোহাইড্রেডসহ মানুষের শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় অনেক উপাদান। প্রায় ৩০০ রকমের অসুখের চিকিত্সা হয় এই পাতা, ফুল ও ডাঁটা দিয়ে।

পৃথিবীতে প্রায় চার হাজার বছর ধরে রান্না ও নানা চিকিত্সায় ব্যবহার করে আসছে মানুষ এই উদ্ভিদ। সজিনার পাতা শাকের মতো রান্না করে খেলে শরীরে শক্তি বাড়ে ও খাবারে রুচি ফিরে আসে। ফুল বসন্ত রোগের প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে। ইউনানি চিকিত্সক সম্প্রদায়ের মতে, সজিনার ফুল ও ডাঁটা সর্দি-কাশির সমস্যায়, বাতব্যথা, শরীরে পানি এলে, লিভারের কার্যকারিতা কমে গেলে ও ক্রিমিনাশক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। সজিনায় প্রোটিন ও ক্যালসিয়ামের পাশাপাশি রয়েছে প্রচুর আয়রন, যা পালং শাকের চেয়ে পাঁচগুণ বেশি শক্তিশালী। সজিনার পাতাকে এন্টি-অক্সিডেন্টের খনি বলা হয়, যা কি না মানব দেহের জন্য বিশেষ উপকারী ও ক্যানসার কোষ সৃষ্টিতে বাধা দেয়। তিন মাস পর্যন্ত প্রতিদিন মাত্র ৫০ গ্রাম সজিনা পাতা খেলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সজিনাকে হূদরোগের চিকিত্সায় অন্যতম প্রতিষেধক হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

পানিতে আর্সেনিকদূষণ একটি বৈশ্বিক সমস্যা। আর্সেনিকদূষণে আক্রান্ত রোগীকে সুস্থ করতে সজিনার বীজ ও পাতা কার্যকর ভূমিকা রাখে। উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সজিনা ডাঁটা উপকারী। সজিনা পাতা বেটে প্রলেপ দিলে টিউমার পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এছাড়া বাতের ব্যথা উপশমে সজিনাগাছের ছাল বেশ কার্যকর। শরীরের কোনো জায়গায় ব্যথা হলে সজিনার শিকড় বেটে প্রলেপ দিলে উপশম হয়। কানব্যথায় শেকড়ের রস কানে দিলে দ্রুত ব্যথা ভালো হয়ে যায়। মাথাব্যথা হলে গাছের আঠা কপালে মালিশ করলে ব্যথা সারে। দাঁতের মাড়ির সুরক্ষায় সজিনা পাতা পানির সঙ্গে ফুটিয়ে প্রতিদিন কুলি করলে সুফল মেলে। বদহজমের কারণে পেটের সমস্যা নিরসনে সজিনা ডাঁটার ঝোল সহায়ক। মূত্রপাথরি ও হাঁপানির জন্য সজিনা ফুলের রস দুধের সঙ্গে মিশিয়ে পান করলে দ্রুত আরোগ্য হয়। কুকুরের কামড়ে সজিনা পাতা পেষণ করে সঙ্গে রসুন, হলুদ, লবণ ও গোল মরিচ মিশিয়ে সেবন করলে কুকুরের বিষ নষ্ট হয়ে যায়।

বাণিজ্যিকভাবে সজিনার উত্পাদন শুরু হলে বিদেশে রপ্তানি করাও সম্ভব হবে। অপরিসীম ভেষজ মূল্য, পারিবারিক আয় বৃদ্ধি ও পুষ্টিমান মেটাতে সজিনা চাষ বাড়ানো প্রয়োজন।