রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে

আপডেট : ০৪ মে ২০২০, ১৯:৫৭

 ফয়জুল আল আমীন

 

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন বিশ্বজুড়ে প্রাণ হারাচ্ছেন শত শত মানুষ। ফলে বিশ্বব্যাপী স্থবির হয়ে পড়েছে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। যাদের আগে থেকেই হূদযন্ত্রের সমস্যা, ডায়াবেটিস, শ্বাসতন্ত্রের অসুখ এবং উচ্চ-রক্তচাপ রয়েছে তারা এই ভাইরাসে সহজেই সংক্রমিত হতে পারে। বিশেষ করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকলে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। কিন্তু রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো থাকলে ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ প্রতিহত করা যায়। তাই করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে প্রয়োজন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো। জেনে নিন, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এই সময়ে কী কী খাবেন—

টক জাতীয় খাবার যেমন:লেবু, কমলা ইত্যাদি বেশি করে খেতে হবে। কারণ এসবে আছে ভিটামিন সি; যা সর্দি, কাশি, জ্বরের ক্ষেত্রে খুবই উপকারী। শরীরে উপকারী শ্বেত রক্তকণিকা তৈরি করতেও সাহায্য করে ভিটামিন সি। এছাড়া যে কোনো সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়তে সাহায্য করে ভিটামিন সি। একইসঙ্গে পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে। সবুজ শাক-সবজিতে রয়েছে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। এসবে থাকা ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ভিটামিন ই, মিনারেল ও ফাইবার খুবই উপকারি। আর এই সময়ে ভিটামিন এ সমৃদ্ধ খাবারও বেশি করে খেতে হবে। এক্ষেত্রে মিষ্টি কুমড়া খেতে পারেন। মুগ ডাল খুব সহজেই হজম হয়। প্রচুর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ পুষ্টিতে ভরপুর এই দানা শস্যটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ মতা বাড়াতে দারুণ কার্যকরী। টক দই রোগের সঙ্গে লড়াই করার অন্যতম হাতিয়ার; তাই নিয়মিত টক দই খান। পেপে খাবেন; এতে থাকে পটাশিয়াম ও ভিটামিন—যা হজম ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ মধুর উপকারিতা বলে শেষ করা যাবে না। প্রতিদিন এক চা-চামচ মধু খাওয়ার অভ্যাস করুন। রসুনে আছে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট যা ঠান্ডা লাগা ও ইনফেকশন দূর করার ক্ষেত্রে খুবই উপকারী। হলুদ অ্যান্টিবায়োটিক হিসেবে কাজ করে। প্রতিদিন কিছুটা হলুদ খাবেন—হোক সেটা কাঁচা বা রান্নায় ব্যবহার করে। স্থুলতা, ক্যান্সার ও হূদরোগ—সব কিছুর বিরুদ্ধেই শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ কালো জিরা। সাধারণ সর্দি-কাশি, নাক বন্ধ, গলাব্যথা, জ্বর সহ যে কোনো ধরনের শারীরিক দুর্বলতা কাটাতেও কালো জিরার জুড়ি নেই।

প্রাকৃতিক খাবার গ্রহণের পাশাপাশি করোনা ভাইরাস সহ অন্যান্য রোগের বিস্তার সীমিত পর্যায়ে রাখতে নিয়মিত হাত ধোয়া এবং সম্ভাব্য সংক্রমিত ব্যক্তির সঙ্গে মেলামেশা না করা সংক্রমণের ঝুঁকি হ্রাস করার সর্বোত্তম উপায়। মনে রাখবেন, সাধারণ সতর্কতা অবলম্বন করে উপযুক্ত প্রাকৃতিক খাবার গ্রহণের মাধ্যমে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ও বিস্তারের ঝুঁকি কমিয়ে আনা সম্ভব।