ফিরতে পারছেন না ব্রাদার্সের বিদেশি ফুটবলাররা

আপডেট : ০৪ মে ২০২০, ২০:৩৯

দেশে ফিরে গেছেন জাপানিরা

স্পোর্টস রিপোর্টার

জাপানি তিন ফুটবলার মোহামেডানের উরিও নাগাতা, শেখ জামালের ইউসুকি কাতো ও মুক্তিযোদ্ধার নোরিতো হাসিগুচি গত শুক্রবার সন্ধ্যায় দেশে ফিরে গেছেন। এই খবরে দারুণ খুশি হয়েছিলেন ব্রাদার্সের ফুটবলাররা। কিন্তু আপাতত দেশে ফেরা হচ্ছে না তাদের।

ব্রাদার্সের এই আটকে-পড়া বিদেশি ফুটবলারদের মধ্যে রয়েছেন উজবেকিস্তানের ওতাবেক, তাজিকিস্তানের মুরাদ, আফ্রিকান ফুটবলার ইকাঙ্গা। গত দেড় মাস ধরে ব্রাদার্সের টেন্টে একেবারেই ঘরবন্দি তারা। সর্বশেষ জাপানি ফুটবলাররা দেশে ফিরে যেতে পেরেছে বলে আটকে-পড়া ব্রাদার্সের ফুটবলাররাও আশায় ছিলেন ৫ মে লকডাউন খুলে গেলে বাড়ি ফেরার পথও খুলে যাবে। কিন্তু নতুন করে লকডাউনের ঘোষণা এলেও ব্রাদার্সের বিদেশি ফুটবলাররা আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু হবে মনে করে আলোর দিশা দেখছিলেন। যখন শুনলেন আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের কোনো খবর নেই। তখন মনটা আরো খারাপ হয়ে যায়।

এ প্রেক্ষিতে ব্রাদার্স ইউনিয়নে গিয়ে দেখা গেলো ক্যাম্পের সব কয়টি দরজা বন্ধ। দেশি কোনো ফুটবলার নেই। ব্রাদার্সের ম্যানেজার আমের খান নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন পরিস্থিতি ভালো না। তাই জরুরি প্রয়োজন ছাড়া গেটের বাইরে যাওয়া যাবে না।  মেইন গেটের ভেতর দিয়ে তালা মেরে বাইরে ক্লাবের স্টাফ রাজু। আর গেটের ভেতরে ইকাঙ্গা, মুরাদরা বল নিয়ে কারিকুরি করছেন। অথচ পাশেই বিশাল খেলার মাঠ।

 গোপীবাগের ক্লাবটি এখানেই অনুশীলন করে। করোনা ভাইরাসের কারণে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে মাঠে প্রবেশের। মাঠ ফাঁকা। অলস সময় কাটাতে ক্লাবের ভেতরে বিদেশি ফুটবলাররা ফুটবল নিয়ে ব্যস্ত।

ফুটবলাররা বললেন, কি আর করব এভাবে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখা ছাড়া আর কিই বা করতে পারি। ফুটবল খেলতে দূরদেশ  থেকে বাংলাদেশে এসেছিলাম। রুটি-রুজি যেখানে বড়ো প্রশ্ন সেখানে ঘরবাড়ি ছেড়ে, কাছের মানুষদের ছেড়ে চলে আসতে হয়। এখন এমন অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছি যেখানে জীবন বাঁচানোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ। এখন আর ফুটবল খেলা নয় জীবন বাঁচাতে ঘরে ফেরার অপেক্ষা করছি আমরা।