ইতালি, ফ্রান্স ও স্পেনে মৃত্যুর সংখ্যা কমছে

আপডেট : ০৪ মে ২০২০, ২১:০৫

মহমারি করোনা ভাইরাসে ইউরোপের তিন দেশ ইতালি, স্পেন ও ফ্রান্সে গত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে রবিবার সবচেয়ে কম মৃত্যু হয়েছে। যদিও করোনা ভাইরাসে মৃত্যুর সংখ্যায় এই তিন দেশের অবস্থান এখনো ওপরের দিকেই রয়েছে।

দুই মাস আগে লকডাউন শুরু হওয়ার পর ইতালিতে গত রবিবার করোনা ভাইরাসের কারণে দৈনিক মৃত্যুর সর্বনিম্ন সংখ্যা তালিকাভুক্ত করা হয়। ইতালি সরকার জানিয়েছে, রবিবার করোনা ভাইরাসে নতুন করে আরো ১৭৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ১০ মার্চ ইতালিতে ১৬৮ জনের মৃত্যুর কথা জানানো হয়েছিল। এর পর থেকে মৃতের সংখ্যা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেতে থাকে। তবে গত কয়েক দিন ধরেই দেশটিতে নতুন আক্রান্তের সংখ্যা ও নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রোগীর সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে। রবিবার তা সর্বনিম্ন অর্থাত্ ১৭৪ জনে নেমে আসে। সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে লকডাউন শিথিল করার আগে ইতালিতে মৃতের সংখ্যা ছিল ২৯ হাজারের কাছাকাছি। মৃতের দিক থেকে ইতালির এ সংখ্যা বিশ্বে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এদিক থেকে প্রথম অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

করোনায় ফ্রান্সে রবিবার ১৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এটি মধ্য মার্চের পর দেশটিতে এক দিনে সবচেয়ে কম মৃত্যু। ফ্রান্সে প্রথম দিকে শুধু হাসপাতালগুলোতে মারা যাওয়া রোগীদের রেকর্ড রাখা হলেও পরে কেয়ার হোমগুলোতে মারা যাওয়া রোগীদের রেকর্ড রাখাও শুরু হয়। কয়েক দিন ধরে সব মিলিয়েই দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে। রবিবার পর্যন্ত ফ্রান্সে মোট মৃতের সংখ্যা ছিল ২৪ হাজার ৭২৯ জন। উল্লেখ্য, আগামী ১১ মে লকডাউন তুলে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে ফ্রান্স। এদিন থেকে শিশুরা পর্যায়ক্রমে স্কুলে ফিরতে শুরু করবে, কিছু ব্যবসা ফের চালু হবে এবং কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই লোকজন তাদের বাড়ি থেকে ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত ভ্রমণ করতে পারবেন। রবিবার দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী অলিভিয়ের ভেরন জানিয়েছেন, এসব সিদ্ধান্ত নতুন আক্রান্তের সংখ্যা হ্রাস পাওয়ার ওপর নির্ভর করছে, বিশেষ করে প্যারিস অঞ্চল ও উত্তর-পূর্ব ফ্রান্সের মতো সবচেয়ে আক্রান্ত এলাকাগুলোর পরিস্থিতির ওপর।

স্পেনে রবিবার করোনা ভাইরাসে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ১৬৪, যা দেড় মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন এবং আগের দিন শনিবারের সংখ্যা থেকে শতাধিক কম। সাত সপ্তাহ পর গত শনিবার থেকে দেশটিতে প্রাপ্তবয়স্কদের বাইরে গিয়ে ব্যায়াম করার অনুমতি দেওয়া হয়। এক সপ্তাহ আগে ১৪ বছরের নিচের শিশুদের জন্য লকডাউন শিথিল করা হয়। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী সানচেজ বলেছেন, তার দেশ এখন লকডাউনের সময়কার ত্যাগের পুরষ্কার পাচ্ছে। রবিবার পর্যন্ত স্পেনে মৃতের সংখ্যা ছিল ২৫ হাজার ১০০ জন।