পণ্য পরিবহনে সংকট

অতিরিক্ত ভাড়া না দিলে গাড়ি মেলে না!

আপডেট : ০৪ মে ২০২০, ২১:৫৪

মুহাম্মদ নিজামউদ্দিন, চট্টগ্রাম অফিস

চট্টগ্রামে পণ্য পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধির কারণে খুচরা পর্যায়ে ভোগ্যপণ্যের দাম কমছে না। এক গাড়ি পণ্য পরিবহনে ভাড়া ৭/৮ হাজার টাকা বেড়েছে। পরিবহন মালিকরা পরিবহন সংকটের অজুহাত দেখালেও অতিরিক্ত ভাড়া দিলে গাড়ি পাওয়া যাচ্ছে। পরিবহন মালিকরা জানান, চালকের কারণে পণ্য পরিবহনে গাড়ি সংকট দেখা দিয়েছে। তবে পরিবহন শ্রমিকরা কাজে ফেরার কারণে গাড়ি সংকট ক্রমেই কেটে যাচ্ছে।

মূলত পরিবহন সংকটের পাইকারি পর্যায়ে ভোগ্যপণ্যের দাম কমলেও খুচরা পর্যায়ে কমছে না। পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধির প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারে। চট্টগ্রাম-ঢাকা ও চট্টগ্রাম-টেকনাফ মহাসড়কে স্বাভাবিক অবস্থায় প্রতিদিন ১১/১২ হাজার পণ্যবাহী গাড়ি চলাচল করে। করোনা ভাইরাসের কারণে লকডাউনের ফলে মহাসড়কে যান চলাচল কমে গেছে। চালক সংকটে পণ্য পরিবহনে বিরূপ প্রভাব পড়ে। ফলে লকডাউনের মধ্যে পণ্যবাহী যান চলাচলে নিষেধ না থাকলেও চালক সংকটে পর্যাপ্ত গাড়ি মিলছে না। চট্টগ্রাম থেকে পণ্য কিনে যথাস্থানে পৌঁছানো যাচ্ছে না। গুদামে মাল পড়ে রয়েছে।

খাতুনগঞ্জের পাইকারি বিক্রেতা সোলায়মান বাদশা বলেন,  পাইকারি বাজারে পণ্যের দাম এখন কমে গেছে। কিন্তু পরিবহন ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় খুচরা পর্যায়ে দাম কমছে না। ২২ হাজার টাকার গাড়ি ভাড়া ৩০ হাজার টাকা চাওয়া হচ্ছে। না হয় গাড়ি মিলছে না। মাঝিরঘাট থেকে এক গাড়ি পণ্য খাতুনগঞ্জে আনতে ২ হাজার টাকা বেশি বাড়তি ভাড়া দিতে হচ্ছে।’ খাতুনগঞ্জের পেঁয়াজের পাইকারি ব্যবসায়ী মো. ইদ্রিস আলী বলেন, টেকনাফ থেকে চট্টগ্রামে এক গাড়ি পণ্য আনতে ৫/৬ হাজার টাকা বাড়তি ভাড়া গুনতে হচ্ছে। এখন পাইকারি বাজারে পেঁয়াজ, আদা, রসুনের দাম কমে  গেছে।’

পরিবহন মালিকরা জানান, গাড়ির কোনো সংকট নেই। তবে চালক ও হেলপার না থাকায় গাড়ি চালানো যাচ্ছে না। লকডাউনের কারণে মহাসড়কের পাশের খাবারের সব দোকান বন্ধ। ফলে পরিবহন শ্রমিকদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। এই কারণে লকডাউন শুরুর পর অধিকাংশ পরিবহন শ্রমিক গ্রামের বাড়িতে চলে গেছে। জানতে চাইলে বৃহত্তর চট্টগ্রাম পণ্য পরিবহন মালিক ফেডারেশনের মহাসচিব আবু মোজাফ্ফর ইত্তেফাককে বলেন, পরিবহন শ্রমিকরা কাজে ফিরতে শুরু করেছে। তাই পণ্যবাহী গাড়ি চলাচল আগের চেয়ে বাড়ছে। ভোগ্যপণ্য, শিল্পের কাঁচামাল, গার্মেন্টস পণ্য ও তরিতরকারি পরিবহন হচ্ছে। তবে স্বাভাবিকের চেয়ে ২০ শতাংশ পণ্যবাহী গাড়ি চলছে। সহসা পণ্য পরিবহন সংকট কেটে যাবে।’

নগরীর বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৩০০ পণ্য মজুতের গুদাম রয়েছে। এসব গুদামে আমদানি করা পণ্য জাহাজ থেকে খালাসের পর মজুত করা হয়। এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম গুদাম মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমেদ ইত্তেফাককে বলেন, ‘আমদানি করা পণ্য প্রতিদিন গুদামে আনা হচ্ছে। কিন্তু ডেলিভারি হচ্ছে কম। পরিবহন সংকটে পণ্য ডেলিভারি ধীরগতিতে হচ্ছে। গুদাম শ্রমিক কম থাকায় তাদের বাড়তি মজুরি দিতে হচ্ছে। এখন শুধু ভোগ্যপণ্য ডেলিভারি হচ্ছে। অন্যান্য পণ্য পরিবহন হচ্ছে না।’ পাহাড়তলী বণিক কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক এস.এম.নিজামউদ্দিন বলেন, ‘চট্টগ্রাম থেকে পণ্য পরিবহনে ভাড়া বেশি লাগছে। ফিরতি ভাড়া কম। পরিবহন সংকট কেটে গেলে পণ্যের দাম স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।’