১৬ মে পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ১০ মে খুলবে দোকানপাট

আপডেট : ০৫ মে ২০২০, ০০:০৩

দেশে চলমান করোনা ভাইরাসের ভয়াবহ পরিস্থিতিতে সংক্রমণ রোধে সাধারণ ছুটির মেয়াদ ১৬ মে পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হলেও পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে দোকানপাট-শপিংমল খোলার অনুমতি দিয়েছে সরকার। দোকানপাট-শপিংমল ১০ মে থেকে সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। একই সঙ্গে ঈদের ছুটিতে সরকারি চাকুরেরা কর্মস্থল ত্যাগ করতে পারবেন না। বন্ধ থাকবে গণপরিবহন। গতকাল সোমবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এই প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

আদেশে বলা হয়, ‘রমজান এবং ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে সীমিত পরিসরে ব্যবসা-বাণিজ্য চালু রাখার স্বার্থে দোকানপাট খোলা রাখা যাবে; তবে ক্রয়-বিক্রয়কালে পারস্পরিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন করতে হবে।’ এতে আরো বলা হয়, ‘বড়ো বড়ো শপিংমলের প্রবেশমুখে হাত ধোয়ার ব্যবস্থাসহ স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা রাখতে হবে এবং শপিংমলে আগত যানবাহনসমূহকে অবশ্যই জীবাণুমুক্ত করার ব্যবস্থা রাখতে হবে।’

 মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক আদেশে বলা হয়েছে, ‘ঈদুল ফিতরের সরকারি ছুটিতে কেউ কর্মস্থল ত্যাগ করতে পারবেন না। ঐ সময়ে আন্তঃজেলা গণপরিবহন বন্ধ থাকবে।’

ঐ আদেশেই চলমান সাধারণ ছুটির মেয়াদ আগামী ১৬ মে পর্যন্ত বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে সরকার।

আদেশে বলা হয়, সাধারণ ছুটির সময় এক জেলা থেকে আরেক জেলা এবং এক উপজেলা থেকে আরেক উপজেলায় জনসাধারণের চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত থাকবে। জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এই নিয়ন্ত্রণ সতর্কভাবে বাস্তবায়ন করবে। এই নির্দেশনার কারণে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যে যেখানে দায়িত্ব পালন করছেন সেই অঞ্চলের বাইরে যেতে পারবেন না। আদেশে বলা হয়, ছুটিকালীন জনসাধারণ ও সব কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের জারি করা নির্দেশমালা কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।

জরুরি পরিষেবা যেমন—বিদ্যুত্, পানি, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, বন্দরসমূহের (স্থলবন্দর, নদীবন্দর ও সমুদ্রবন্দর) কার্যক্রম, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট, ডাক সেবা এবং এ সংশ্লিষ্ট সেবা কাজে নিয়োজিত যানবাহন ও কর্মীরা এ ছুটির বাইরে থাকবেন। আগে ডাক সেবা ছুটির আওতামুক্ত ছিল না। এটি নতুন করে যুক্ত হয়েছে। ছুটি বাড়ানোর আদেশে আরো বলা হয়, সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ, তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন অফিস প্রয়োজন অনুসারে খোলা রাখবে। সেই সঙ্গে তারা তাদের অধিক্ষেত্রের কার্যাবলি পরিচালনার জন্য সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা জারি করবে। ঈদুল ফিতরের সরকারি ছুটিতে কেউ কর্মস্থল ত্যাগ করতে পারবে না বলেও আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

আদেশে বলা হয়েছে, সাধারণ ছুটিকালীন কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা যাবে না। রমজান, ঈদ ও ব্যবসা-বাণিজ্যের সুবিধা বিবেচনায় ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু রাখার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করবে।

সব মন্ত্রণালয়/বিভাগ তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন অফিসসমূহ প্রয়োজন অনুসারে খোলা রাখবে। সেইসঙ্গে তারা তাদের অধিক্ষেত্রের কার্যাবলি পরিচালনার জন্য সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা জারি করবে। জরুরি পরিষেবা এবং চিকিত্সক, চিকিত্সা সরঞ্জামাদি বহনকারী যানবাহন ও কর্মী এবং গণমাধ্যমকর্মীদের এ ছুটির আওতামুক্ত রাখা হয়েছে।

গত ৮ মার্চ দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। এর পরই শুরুতে দেশের স্কুল-কলেজসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয় সরকার। ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত প্রথম দফায় সারাদেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। এরপর আরো ৪ দফায় বাড়ে এ ছুটি। পঞ্চম দফায় ছুটি বাড়ানো হয়েছিল ৫ মে পর্যন্ত।

ছুটি বাড়ানোর সর্বশেষ এ প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ৭ মে থেকে ১৪ মে পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। সাধারণ ছুটির সঙ্গে ৬ মের বুদ্ধ পূর্ণিমার ছুটি এবং ১৫ ও ১৬ মের সাপ্তাহিক ছুটিও যুক্ত হবে। করোনার কারণে সরকার প্রথমে ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করে। পরে আরো চার দফায় ছুটি বাড়িয়ে ৫ মে পর্যন্ত করা হয়েছিল।

 

সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ১০ মে থেকে সীমিত পরিসরেই দোকানপাট ও শপিংমল খোলা হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন।