ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ মনপুরা উপজেলায় করোনা ভাইরাস আক্রান্ত এক যুবক সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। সুস্থ হয়ে যাওয়া করোনা আক্রান্ত ওই রোগী মনপুরা সরকারি ডিগ্রি কলেজের প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশন সেন্টারে ১১ দিন চিকিৎসাধীন ছিলেন।
আজ মঙ্গলবার (৫ মে) সকাল ১০ টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মাহমুদুর রশিদ ছাড়পত্র দিলে সুস্থ হওয়া যুবক বাড়ি ফিরেন।
এই সময় ফুলেল শুভেচ্ছা দিয়ে বিদায় জানান উপজেলা চেয়ারম্যান শেলিনা আকতার চৌধুরী, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউনও) বিপুল চন্দ্র দাস, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মাহমুদুর রশীদ, চিকিৎসক ডা. মশিউর রহমান, ডা. সাব্বির আহমেদ, ওসি সাখাওয়াত হোসেন ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. ইলিয়াস মিয়া।
এছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর উপহার সামগ্রী, একটি ফল ভর্তি ব্যাগ, ইফতার ও ঈদের খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হয়। এরপর উপজেলা প্রশাসন উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের ১০ বাড়ির ৪১ টি পরিবারের লকডাউন প্রত্যাহার করে নেন।
সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফেরা যুবক হলেন, উপজেলার উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. সেলিমের ছেলে নুর আলম (২২)। তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন।
হাসপাতাল ও উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ এপ্রিল নুর আলম ঢাকা থেকে বাড়িতে ফেরেন। এরপর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও মেডিক্যাল টিমের প্রধান ডা. মাহমুদুর রশীদ সুস্থ হওয়ার যুবক নুর আলমসহ আরো ৩ জনের নমুনা সংগ্রহ করে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজে পরীক্ষার জন্য পাঠান। ২৩ এপ্রিল রাতে তার করোনা পজিটিভ আসে। অপর তিনজনের পরীক্ষার ফলাফল নেগেটিভ। ওইদিন রাতেই নুর আলমের উত্তর সাকুচিয়া গ্রামের বাড়ি থেকে এনে মনপুরা সরকারি ডিগ্রি কলেজের প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরদিন ২৪ এপ্রিল সকালে উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের ১০ বাড়ির ৪১ টি ঘর লকডাউন করে প্রশাসন। এছাড়া আক্রান্ত যুবকের পরিবারের ৬ সদস্যসহ ১৪ জনের করোনা নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠালে রিপোর্ট নেগেটিভ আসে।
করোনা থেকে সুস্থ হওয়া যুবক নুর আলম জানান, সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরতে পারায় মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া। এই দুঃসময়ে সবচেয়ে বেশি সাহস যুগিয়েছেন ইউএনও স্যার। তিনি রাতে আমার সঙ্গে মোবাইলে কথা বলতেন। আমার মোবাইলে ফ্লাক্সিলোডও দিয়ে দিতেন। এছাড়া হাসপাতালে ডাক্তার-নার্সরা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করায় আল্লাহ আমাকে সুস্থ করে দিয়েছেন।
আরো পড়ুন: চীনা দূতাবাসের পক্ষ থেকে ডিকাবকে মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার উপহার
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও মেডিক্যাল টিমের প্রধান ডা. মাহমুদর রশিদ জানান, পরপর দুইবার করোনা আক্রান্ত যুবকের নমুনার পরীক্ষার ফলাফল নেগেটিভ আসায় তাকে মেডিক্যাল ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিপুল চন্দ্র দাস জানান, করোনা আক্রান্ত যুবক সুস্থ হওয়ায় সবার মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। লকডাউন প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।
ইত্তেফাক/এএএম
