অরবিন্দ রায় ,সহকারী শিক্ষক,
মিরজাগঞ্জ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, নীলফামারী
আধুনিক পদার্থবিদ্যা
১। এক্স-রে বলতে কী বোঝ?
উত্তর:এক্সরে হলো ক্ষুদ্র তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট তড়িত্ চৌম্বক বিকিরণ। এই রশ্মির তরঙ্গ দৈর্ঘ্য ১০-১০m এর কাছাকাছি । বিজ্ঞানী উলহ হেলম রন্টজেন ১৮৯৫ সালে এক্সরে আবিষ্কার করেন । একই সালে রন্টজেন লক্ষ করেন যে দ্রুতগতি সম্পন্ন ইলেকট্রন কোনো ধাতুকে আঘাত করলে তা থেকে উচ্চভেদন ক্ষমতা সম্পন্ন অজানা প্রকৃতির (আবিষ্কারের সময় প্রকৃতি অজানা ছিল পরে অবশ্য প্রকৃতি উদঘাটিত হয়েছে ) একধরনের বিকিরণ উত্পন্ন হয় । এই বিকিরণকে বলা হয় এক্সরে বা এক্স রশ্মি ।
২। এক্সরে ও সাধারণ আলোর মধ্যে তুলনা কর?
উত্তর: এক্সরে ও সাধারণ আলোর মধ্যে প্রধান পার্থক্য হলো এদের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য।সাধারণ অলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য7x10-7 m থেকে 4x10-7mএর কাছাকাছি । এক্সরের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য ১0-8 m থেকে 10-13m এর কাছাকাছি । সাধারণ আলো দৃশ্যমান এবং বিভিন্ন রঙে বিভক্ত হয়। কিন্তু এক্সরে দৃশ্যমান নয়। সাধারণ আলোরপথে অস্বচ্ছপদার্থ থাকলেই তা ভেদ করে যেতে পারেনা । কিন্তু এক্স-রে উচ্চভেদন ক্ষমতাসম্পন্ন । অনেক কিছুভেদ করে যেতে পারে । এক্সরে আয়ন সৃষ্টিকারী বিকিরণ গ্যাসের মধ্য দিয়ে যাবার সময় গ্যাসকে আয়নিত করে , কিন্তু সাধারণ আলো তা করে না ।
৩। এক্স-রে কত প্রকার ও কি কি? তাদের সংজ্ঞা দাও?
উত্তরঃ এক্সরে দুই প্রকার
ক) কোমল এক্স-রে খ) কঠিন এক্স-রে
ক) কোমল এক্স-রেঃ
এক্স-রে যন্ত্রে কমবিভব পার্থক্য প্রয়োগ করে এক্স-রে পাওয়া যায় অর্থাত্ তরঙ্গ দৈর্ঘ্য অপেক্ষাকৃত বেশি , ফলেভেদন ক্ষমতা কম,তাকে কোমল এক্স-রে বলে।
খ) কঠিন এক্স রেঃ
এক্স রশ্মি যন্ত্রের প্রযুক্তবিভব পার্থক্য বেশি হলে যে এক্সরে উত্পাদিত হয় তাকে অর্থাত্ যেএক্স-রের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য অপেক্ষাকৃত বেশি তাকে কঠিন এক্সরে বলে ।
৪। এক্সরশ্মির একক কী?
উত্তরঃ এককঃ এক্সরের একক হলোরন্টজেন । একরন্টজেন বলতে সে পরিমাণ বিকিরণ বুঝায় যা স্বাভাবিক চাপ ও তাপমাত্রায় এক মিলিমিটার বায়ুতে একস্থির বৈদ্যুতক আধানের সমান উত্পন্ন করতে পারে ।
