কোভিড-১৯-এর দুর্যোগকালে বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার ভেতরেও বাংলাদেশের চিকিত্সকগণ সাধ্যমতো দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। সরকারি চিকিত্সকদের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চিকিত্সকগণও নিষ্ঠার সঙ্গে স্ব স্ব দায়িত্ব পালন করছেন। চিকিত্সকরা আত্মনিবেদন করছেন বলেই সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও বিপুল সংখ্যক চিকিত্সক কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত হয়েছেন। তারপরও এই কঠিন সময়ে প্রত্যেক চিকিত্সক তাঁর ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট থাকছেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের ব্যাপার হলো, সম্প্রতি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিক্যাল কলেজ অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএমসিএ) সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, এই সংগঠনের সদস্যভুক্ত মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের শিক্ষক, চিকিত্সক ও কর্মচারীদের উত্সব বোনাস প্রদান করা হবে না। বিপিএমসিএর সভাপতি মুবিন খান এবং সাধারণ সম্পাদক ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমানের স্বাক্ষরে পাঠানো ঐ চিঠিতে আরো বলা হয়, এপ্রিল মাসে অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষকদের ৬০ শতাংশ বেতন দেওয়া হবে। পরবর্তী সময়ে অবশ্য বেতন কাটার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের খবর দিলেও বোনাস না দেওয়ার সিদ্ধান্ত বহাল রাখার কথা জানিয়েছেন বিপিএমসিএর সভাপতি এম এ মুবিন খান।
ঈদুল ফিতর উত্সবটি বাঙালির সবচাইতে বর্ণিল উত্সব। পরিবারের সবাইকে নিয়ে এই উত্সব যাতে সুন্দরভাবে পালন করা সম্ভব হয়, সেজন্যই বোনাস এই উত্সবের জন্য অপরিহার্য একটি অনুষঙ্গ। করোনার এই দুর্যোগের সময় আমরা যেমন জীবন বাজি রেখে দায়িত্বপালন করছি, তেমনি উত্সবের দিনটিও যাতে ম্রিয়মাণ না হয়, সেজন্য বিপিএমসিএ-এর বোনাস কর্তনের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
বিপিএমসিএ-ভুক্ত একটি প্রতিষ্ঠানের
শিক্ষক ও চিকিত্সক
