নিলয় মামুন
ধীরে ধীরে বাড়ছে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ। তবে দীর্ঘদিন শপিংমলসহ দোকানপাট বন্ধ থাকার পর আগামী ১০ মে সরকার সীমিত পরিসরে দোকান খোলার ঘোষণা দিলেও নির্ধারিত সময়ের আগেই খুলতে শুরু করেছে বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা ও গলির দোকান। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে এসব দোকান খুলতে দেখা গেছে। সরেজমিনে রাজধানীর নিউমার্কেট, মগবাজার, কাওরান বাজার, বাড্ডা, এয়ারপোর্ট, উত্তরাসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, স্টেশনারি, হার্ডওয়ার, কাপড়ের দোকান, ইলেকট্র্রনিক্সের দোকানসহ বিভিন্ন দোকানে হরদমে নিয়ম না মেনে বেচাকেনা চলছে। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে তিন ফিট দূরত্ব বজায় রাখার কথা বলা হলেও এসব দোকান তা মানছে না। যার কারণে ক্রমেই ঝুঁকি বাড়ছে। এসব দোকানদারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ক্রেতা থাকার কারণে তারা দোকান খুলেছেন। কিন্তু সরকার ১০ মে দোকান খোলার কথা বললেও তারা কেন শুনছেন না এ বিষয়ে তারা কিছু বলেননি।
রাজধানীর এয়ারপোর্টের আশকোনা এলাকার ইলেকট্রনিক্সের দোকানদার হামিদ হোসেন বলেন, বেশির ভাগ দোকানই ধীরে ধীরে খুলছে। আর কত দিন বাসায় বসে থাকব। আমি না খুললেও অন্যজন খুলছে। আমি এতদিন ব্যবসার ক্ষতি করে বাসায় বসে ছিলাম, আর বসে থাকতে পারব না। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি শপিংমলে প্রবেশের ক্ষেত্রে হাত ধোয়াসহ হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হচ্ছে, তা কেন মানা হচ্ছে না? এ বিষয়ে তিনি বলেন, এত হ্যান্ড স্যানিটাইজার কেনার টাকা কোথায় পাব।
রাজধানীর কাওরান বাজারের স্টেশনারীর দোকানদার আব্দুর রহমান বলেন, আসলে ভয়ে ভয়ে খোলা রেখেছি দোকান। একটু পরেই বন্ধ করে দিব। কেন খুলেছেন তা জিগ্যেস করলে তিনি বলেন, না খেয়ে তো মারা যাব না খুললে। এভাবে আর কতদিন বন্ধ রাখব।
এদিকে সরকার ১০ মে দোকান ও শপিংমল খুলতে প্রজ্ঞাপন জারি করলেও সেখানে দোকান খোলার ক্ষেত্রে বেশ কিছু নির্দেশনা জারি করেছে। নির্দেশনাগুলো হলো—বিকাল ৫টার ভেতর দোকানপাট ও শপিংমল বন্ধ করতে হবে, দোকানপাট ও শপিংমলে কেনাবেচার সময় পারস্পরিক শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধির প্রতিপালন নিশ্চিত করতে হবে, প্রতিটি শপিংমলে প্রবেশের ক্ষেত্রে হাত ধোয়াসহ হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা রাখতে হবে। শপিংমলে আগত যানবাহনকে অবশ্যই জীবাণুমুক্ত করার ব্যবস্থা রাখতে হবে। কিন্তু পাড়া মহল্লার মধ্যে যেসব দোকান খোলা হচ্ছে তার বেশির ভাগই এসব মানছেন না।
