ভারতে এক দিনেই আক্রান্ত প্রায় ৪ হাজার, মৃত্যু ১৯৫

আপডেট : ০৫ মে ২০২০, ২২:৫৬

ভারতে কোভিড মহামারি শুরু হওয়ার পর গত ২৪ ঘণ্টায় এক লাফে প্রায় নতুন প্রায় ৪ হাজার করোনা পজিটিভ রোগী শনাক্ত হয়েছে এবং মারাও গেছে ১৯৫ জন। বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, নতুন আক্রান্তের সংখ্যা আর মৃত্যুর হিসেবে দুই দিক থেকেই যে কোনো একদিনে ভারতে এটি নতুন রেকর্ড, আর সেই রেকর্ড গত পাঁচ-ছদিন ধরে ক্রমাগতই ভাঙছে। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় শুধু মহারাষ্ট্রেই দেড় হাজারের বেশি এবং তামিলনাডুতে ৫২৫ নতুন রোগীর সন্ধান মিলেছে। দুই দফায় ৪০ দিনের লকডাউন শেষে ভারত যখন কিছুটা শিথিল তৃতীয় পর্বের লকডাউনে প্রবেশ করেছে, তখন সে দেশে এই ঊর্ধ্বমুখী গ্রাফ সংশ্লিষ্টদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। বস্তুত মার্চের গোড়ায় ভারতে যে করোনা পজিটিভ রোগীর সংখ্যা প্রতিদিন দুই-তিন জন করে বাড়ছিল, মে মাসের প্রথম সপ্তাহে এসে সেটা এখন বাড়ছে হাজারে।

আর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সব রেকর্ড ভেঙে শুধু এক দিনেই ৩ হাজার ৯০০ নতুন রোগী পাওয়া গেছে, আর মারাও গেছে অন্তত ১৯৫ জন। নতুন রোগীদের বেশির ভাগই শনাক্ত হয়েছেন মহারাষ্ট্রে, ভারতে করোনা ভাইরাসের পটভূমিতে যে রাজ্যটির হাল সবচেয়ে খারাপ। সেই সঙ্গে দ্রুত পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে তামিলনাডু ও পাঞ্জাবেও।

১০ দিনে লাখ ছাড়াবে : ব্রুকিংস ইন্ডিয়ার গবেষণা প্রধান               ড. শামিকা রবি বলেছেন, এপ্রিল থেকে ভারতের করোনা ভাইরাস ড্যাশবোর্ডে যে ইঙ্গিতগুলো দেখা যাচ্ছে তাতে এই আচমকা বৃদ্ধি অস্বাভাবিক কিছু নয়। বরং চলতি মে মাসের মাঝামাঝি- অর্থাত্ আর দিন দশেকের ভেতরেই ভারতে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ছাড়িয়ে যাবে বলে তার বিশ্বাস।

তবু শিথিল লকডাউন: গতকাল থেকে শুরু হওয়া তৃতীয় পর্বের লকডাউনে উলটো অনেক কিছুই শিথিল করা হয়েছে। যেমন দিল্লি, ব্যাঙ্গালুরু বা কলকাতায় দেড় মাস বাদে খোলা মদের দোকানগুলোয় পছন্দের পানীয় কিনতে ভিড় করেছেন হাজার হাজার মানুষ। ভারতের স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষবর্ধন সরাসরি  বলেছেন, এখনো স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেওয়ার সময় আসেনি। মদের দোকানের সামনে যে দৃশ্য আমরা কাল দেখেছি, তাতে বলতেই হচ্ছে রাজ্য সরকারগুলোকে অনেক ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।