চীনের ল্যাব থেকে করোনা ভাইরাস ছড়ানোর কোনো প্রমাণ দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র :বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

আপডেট : ০৬ মে ২০২০, ০০:২৯

চীনের উহানের একটি ল্যাব থেকে করোনা ভাইরাস ছড়িয়েছে বলে দাবি করে আসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটা মানবসৃষ্ট নয়, প্রাকৃতিক। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও এর আগে একই কথা বলেছে। এবার সংস্থাটি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তার দাবির স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ তাদের কাছে উপস্থাপন করেনি। এমনকি শীর্ষ মার্কিন রোগতত্ত্ব বিশেষজ্ঞ অ্যান্থনি ফাউচিও বলেছেন, এমন দাবির কোনো প্রমাণও নেই। খবর এনডিটিভি ও আলজাজিরার

সোমবার এক ভার্চুয়াল ব্রিফিংয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জরুরি কর্মকাণ্ড বিষয়ক পরিচালক মাইকেল রায়ান বলেন, চীনের উহানের ল্যাব থেকে করোনা ভাইরাসের উত্পত্তি হয়েছে এই দাবির পক্ষে যুক্তরাষ্ট্র তাদের কাছে কোনো তথ্য বা প্রমাণ উপস্থাপন করেনি। তাই আমরা এখন পর্যন্ত মনে করি যে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি অনুমাননির্ভর। কেবল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাই নয়, যুক্তরাষ্ট্রেরই ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজর পরিচালক এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ডা. অ্যান্থনি ফাউচিও ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে বলেছেন, করোনা ভাইরাস চীনের গবেষণাগার থেকে ছড়ানোর প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আবার ভাইরাসটি বনাঞ্চল থেকে গবেষণাগারে আনা হয়েছে কিংবা গবেষণাগার থেকে উহানে ছড়িয়ে পড়েছে এমন কোনো প্রমাণও নেই। তিনি বলেছেন, ভাইরাসের প্রকৃতি দেখে মনে হয় না যে, এতে ইচ্ছাকৃত বা কৃত্রিমভাবে কোনো হেরফের করা হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প উহানের ল্যাবে করোনা ভাইরাস তৈরির তত্ত্ব নিয়ে কথা বলছেন। গত রবিবার এক সাক্ষাত্কারে মাইক পম্পেও বলেন, ভাইরাসটি যে উহানের ল্যাবেই তৈরি হয়েছে সে বিষয়ে অনেক প্রমাণ তাদের হাতে আছে। যদিও বিজ্ঞানীরা মনে করেন, গত বছরের শেষ দিকে উহানের একটি বন্য প্রাণীর বাজার থেকে কোনো পশুর মাধ্যমে মানুষের শরীরে সংক্রমিত হয়েছে ভাইরাসটি। যুক্তরাষ্ট্রের দাবির নিন্দা জানিয়েছে চীনের রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যমগুলো। সোমবার সিসিটিভির এক মন্তব্য প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘শয়তান পম্পেও (মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী) ইচ্ছাকৃতভাবে বিষ এবং মিথ্যা ছড়িয়ে দিচ্ছে’। দ্য গ্লোবাল টাইমসের সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন যদি তেমনটাই মনে করে তাহলে তাদের কাছে যে প্রমাণ আছে তা বিজ্ঞানীদের কাছে গবেষণার জন্য উন্মুক্ত করে দিক।