নিগার সুলতানা
বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণার পরে প্রায় দেড় মাস ধরে বাড়িতেই গৃহবন্দি দিন কাটাচ্ছি। সেই সঙ্গে ক্যাম্পাসে প্রিয় শিক্ষকদের লেকচার, বন্ধুবান্ধবদের আড্ডা, হলের জুনিয়র-সিনিয়র আপুদের ভীষণ মিস করছি। ধীরে ধীরে পুরো দেশ লকডাউন করার কারণ একটাই—মহামারি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধ ও ভবিষ্যতে মৃত্যুর মিছিল ঠেকিয়ে দেশকে ভালো রাখা। সরকারের এমন ভবিষ্যত্ ভাবনাকে আমি আন্তরিক সাধুবাদ জানাই। আশা করছি, পৃথিবীর অন্ধকার একদিন দূরীভূত হবে। গাছের নতুন কুড়ির মতন মানবজীবনও সতেজ হয়ে উঠবে। তবে আমাদের মতো মধ্যবিত্তরা গৃহবন্দি হয়ে খুব একটা ভালো নেই। অনিশ্চয়তা ও দুশ্চিন্তায় তাদের দিন কাটছে। আমরা যারা চাকরিপ্রত্যাশী তারা ভবিষ্যতে পরিবারকে ভালো রাখার জন্য ঘরবন্দি এই সময়টাকে কাজে লাগাতে পারি। উদাহরণস্বরূপ নিজেকেই তুলে ধরছি— প্রতিদিন চাকরির বই পড়ছি। ইতিমধ্যে দুই বার করে বইগুলো রিভিশন দিয়েছি। যে বিষয়গুলোতে আমার দুর্বলতা রয়েছে সেগুলো বারংবার অনুশীলন করে আয়ত্তে আনার চেষ্টা করছি। নিয়মিত পত্রিকা পড়ছি। একঘেয়েমি দূর করার জন্য বিভিন্ন লেখকের গল্প-উপন্যাস পড়ে ব্যস্ত সময় পার করছি। আজকের এমন একটি কার্যকরী সিদ্ধান্ত আপনার, আমার ভবিষ্যত্ আলোকোজ্জ্বল করে দেবে। তাই আসুন কঠোর পরিশ্রম করে বর্তমান সময়কে কাজে লাগাই। নিজের পরিবারকে নিয়ে ভালো থাকব, দেশকে ভালো রাখব—এই প্রত্যাশায় নিজেদেরকে এগিয়ে রাখি। সেই সঙ্গে আসুন, সবাই মিলে সরকারঘোষিত কোভিড-১৯ মোকাবিলায় সব নিয়মকানুন মেনে চলি ও দুস্থ-অসহায় জাতির পাশে থেকে এই মহামারি ভাইরাসকে প্রতিরোধ করে দেশ ও জাতিকে সুস্থ করতে এগিয়ে আসি।
n লেখক :শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
