ফরিদপুরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ভ্রাম্যমাণ বাজার

আপডেট : ০৬ মে ২০২০, ২১:৪৭

করোনাকালে যুবলীগের এ উদ্যোগে সবার প্রশংসা

 তরিকুল ইসলাম হিমেল, ফরিদপুর প্রতিনিধি

করোনার কারণে চলমান লকডাউনে মানুষকে ঘরে রাখতে ফরিদপুরে আট ধরনের পণ্য নিয়ে শুরু হওয়া ভ্রাম্যমাণ বাজার এরই মধ্যে ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এ কারণে পণ্যের তালিকা বৃদ্ধি পেয়ে ৭৫টি করা হয়েছে। চাল, ডাল, তেল, সাবানের সঙ্গে পাওয়া যাচ্ছে খেজুর-তরমুজ, বেল, কদবেল ও কলাও। ক্রেতাদের সুবিধার্থে এখানে যুক্ত হয়েছে হটলাইনেও এসব পণ্য ক্রয়ের সুবিধা। কোনো প্রকার সার্ভিস চার্জ ছাড়াই স্বল্প মূল্যে সাধারণ ক্রেতার বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে কাঙ্ক্ষিত পণ্য।

গত মাসের ৪ এপ্রিল ১০টি ট্রাকে শহরের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় ঘুরে ঘুরে এসব পণ্য স্বল্পমূল্যে বিক্রি শুরু হয়। পণ্যের মূল্য কম থাকার কারণে ক্রেতাদের চাহিদা বাড়ায় ২০টি স্থানে বসানো হয় নিত্যপণ্যের এ ভ্রাম্যমাণ বাজার। জেলা যুবলীগের উদ্যোগে এই কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছেন সংগঠনটির প্রায় দেড় শতাধিক কর্মী। কর্মসূচির উদ্যোক্তা জেলা যুবলীগের সভাপতি এ এইচ এম ফোয়াদ বলেন, ‘এমপি ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নির্দেশনায় এই কর্মসূচি চালু করা হয়। প্রায় ৩৫ হাজার পরিবার এই ভ্রাম্যমাণ বাজারের সুবিধা নিয়েছেন। হটলাইনে সেবা চালু করেছি। অনেকে ঘর হতে বের হতে না চাইলেও আমাদের কর্মীরা বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন চার্জ ছাড়াই। দেশে করোনার কারণে যতদিন এই পরিস্থিতি চলবে ততদিন চলবে এ কার্যক্রম।’ শহরের অনাথের মোড়ে সুলভমূল্যের দোকানে পণ্য কিনতে আসা সাইফুর রহমান নামে এক ক্রেতা বলেন, ‘বাজার হতে ঘুরে এখানে পণ্য কিনতে এসেছি। প্রতিটি পণ্যই বাজারদরের চেয়ে কম মূল্যে পাওয়া যাচ্ছে।’ আনোয়ারা বেগম নামে ঝিলটুলী সোনালী ব্যাংকের সামনের দোকানে পণ্য কিনতে আসা এক নারী বলেন, ‘বাজারে বিক্রি হওয়া ৪৫ টাকা দরের বেগুন এখানে ৩৫ টাকা দরে কিনতে পেরেছি।’

ভ্রাম্যমাণ এই নিত্যপণ্যের বিক্রি কর্মসূচির তত্ত্বাবধায়ক শহর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক তরিকুল ইসলাম নাসিম বলেন, ‘গত এক মাসে ৫ লাখ ৬০ হাজার ডিমসহ প্রায় ৮০ টন চাল, ২৫ টন চিনি, ২০ টন করে ডাল, পেঁয়াজ ও তেল, ১৫ টন করে ছোলা ও  আলু, দুই টন খেজুর ও চার টন লবণ বিক্রি হয়েছে। খাবার ও গৃহস্থালির যাবতীয় নিত্যপণ্যই এখানে পাওয়া যাচ্ছে।’