দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা সংক্রমিত শনাক্ত হয়েছেন ৭৯০ জন। এটি এখন পর্যন্ত এক দিনে সর্বোচ্চ শনাক্ত। গত কয়েক দিন ধরে প্রতিদিনই করোনা শনাক্তের সংখ্যা বাড়ছে। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত করোনায় মোট শনাক্ত হলেন ১১ হাজার ৭১৯ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে আরো তিন জনের। এ নিয়ে দেশে করোনা ভাইরাসে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ১৮৬ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনে যুক্ত হয়ে অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা গতকাল বুধবার দেশে করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির এই সবশেষ তথ্য তুলে ধরেন। বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম রোগীর খোঁজ মেলে গত ৮ মার্চ; তার ১০ দিনের মাথায় ঘটে প্রথম মৃত্যু। এক দিনে এত বেশি নতুন রোগী আর কখনো বাংলাদেশে শনাক্ত হয়নি। আক্রান্তদের মধ্যে মোট কতজন গত এক দিনে সুস্থ হয়েছেন, সেই তথ্য বুলেটিনে জানানো হয়নি। মঙ্গলবার পর্যন্ত ১ হাজার ৪০২ জনের সুস্থতার তথ্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছিল। মহামারি করোনা ভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রতিদিন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়। বাকি ছিল পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি। কিন্তু গতকাল দুপুরে চট্টগ্রামের বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক জানিয়েছেন, রাঙ্গামাটিতে চার জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের ৬৪ জেলায়ই করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হলো।
অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, সর্বশেষ মারা যাওয়া তিন জনের মধ্যে একজন পুরুষ এবং দুই জন নারী। তাদের মধ্যে দুই জনের বয়স ৬০ বছরের বেশি এবং একজনের ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে। দুই জন ঢাকার ভেতরে এবং একজন ঢাকার বাইরে মারা গেছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয় ৬ হাজার ৭৭১টি এবং পরীক্ষা করা হয়েছে ৬ হাজার ২৪১টি। এখন পর্যন্ত মোট নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৯৯ হাজার ৬৪৬টি। অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, ‘গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে রাখা হয়েছে ১৮৪ জনকে। এখন পর্যন্ত মোট আইসোলেশনের সংখ্যা ১ হাজার ৭৯৪। ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশন থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৮৪ জন। এখন পর্যন্ত আইসোলেশন থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ হাজার ৩২৭ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় প্রাতিষ্ঠানিক ও হোম কোয়ারেন্টাইন করা হয়েছে ৩ হাজার ৮৮৯ জনকে। এখন পর্যন্ত ২ লাখ ১ হাজার ৭০০ জনকে কোয়ারেন্টাইন করা হয়েছে। কোয়ারেন্টাইন থেকে গত ২৪ ঘণ্টায় ছাড়পত্র পেয়েছেন ৩ হাজার ৮৭২ জন এবং এখন পর্যন্ত ছাড় পেয়েছেন ১ লাখ ৬০ হাজার ৫৬১ জন। বর্তমানে মোট কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৪১ হাজার ১৯৩ জন।’ সারাদেশে কোয়ারেন্টাইনের যে ব্যবস্থা রয়েছে তাতে একসঙ্গে সেবা দেওয়া যাবে ৩০ হাজার ৯৫৫ জনকে। আর রাজধানীসহ সারাদেশে আইসোলেশন শয্যা রয়েছে ৮ হাজার ৫৯৪টি। এর মধ্যে রাজধানী ঢাকায় ২ হাজার ৯০০টি এবং রাজধানীর বাইরে বিভিন্ন হাসপাতালে ৫ হাজার ৬৯৪টি। এসব হাসপাতালে আইসিইউ বেড আছে ৩৩০টি এবং ডায়ালাইসিস ইউনিট আছে ১০২টি।
