মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়ায় আলমগীর হোসেন নামে এক যুবককে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে ও কুপিয়ে হত্যা করেছে মাদক ব্যবসায়ীরা। গত মঙ্গলবার রাতে জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার ভারত সীমান্তবর্তী মথুরাপুর এলাকায় এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। নিহত আলমগীর ঐ গ্রামের আইয়ুব আলীর ছেলে। এ ঘটনায় গতকাল বুধবার ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরো তিন-চার জনকে আসামি করে সদর দক্ষিণ মডেল থানায় হত্যা মামলা হয়েছে। মামলার আসামি একই উপজেলার মোড়াপাড়া গ্রামের হারুনুর রশিদের ছেলে মো. রুবেলকে (২৭) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এদিকে করোনা দুর্যোগের মাঝে সীমান্তে মাদক পাচারকারীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ করেন সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের অনেকে। নিহতের মা জিন্নতের নেছা, স্ত্রী হাজেরা বেগম, ছেলে রাকিবসহ এলাকার লোকজন জানান, মথুরাপুর বিজিবি সীমান্ত ফাঁড়ির ২০০ গজের মধ্যে নিহত আলমগীর হোসেনের বাড়ি। তার বাড়িসংলগ্ন এলাকা দিয়ে মাদকের চালান আনা-নেওয়া হয়ে থাকে। মাদক ব্যবসায়ীরা আলমগীরকে তার ট্রাক্টরে করে মাদক বহনের প্রস্তাব করলে সে তা প্রত্যাখ্যান করে এবং মাদক পাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী অবস্থান নেয়। এরই জের ধরে গত কয়েকদিন আগে মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে তিনি থানায় অভিযোগ করেন। এরপর থেকে মাদক কারবারিরা তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়। তারা আরো জানায়, মঙ্গলবার রাতেও তার বাড়ির সামনে দিয়ে মাদক পাচার করছিল মো. রুবেল ও তার সহযোগীরা। মাদক পাচার নিয়ে আলমগীর ও রুবেলের মধ্যে বাগ্?বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে রুবেল তার অনুসারীদের নিয়ে আলমগীরের ওপর হামলা চালায়। তারা আলমগীরের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থান কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। মাদক কারবারিরা তাকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকলে সে বাঁচাও বাঁচাও বলে চিত্কার করে পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে। তারা তাকে পুকুর থেকে তুলে আবারও মারতে থাকে। প্রায় আধঘণ্টা ধরে তার ওপর নির্যাতন চললেও ভয়ে কেউ এগিয়ে আসেনি। একপর্যায়ে মৃত্যু নিশ্চিত ভেবে তারা চলে যায়। পরে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিত্সক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বুধবার হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে আলমগীর হোসেনের লাশ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। থানার ওসি নজরুল ইসলাম জানান, আসামি রুবেলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অপর আসামিদের গ্রেফতারে ডিবি ও থানা পুলিশের একাধিক টিমের অভিযান চলছে।
