‘সরকারবিরোধী প্রচার ও গুজব ছড়ানো’র অভিযোগে কার্টুনিস্ট, লেখক, সাংবাদিকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে। র্যাব-৩ রাজধানীর রমনা থানায় এই মামলা করেছে। এই মামলায় কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোর ও ব্যবসায়ী মুশতাক আহমেদকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। গতকাল বুধবার তাদের আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এদিকে মামলার আরেক আসামি তথ্যপ্রযুক্তিবিদ ও রাষ্ট্রচিন্তার সদস্য দিদারুল ইসলাম ভূঁইয়াকে র্যাব পরিচয়ে রাজধানীর উত্তর বাড্ডার নিজের অফিস থেকে তুলে নেওয়ার পর গতকাল বুধবার রাতে থানায় হস্তান্তর করেছে র্যাব। একই সঙ্গে আরেক আসামী মিনহাজ মান্নানকে গ্রেফতারের পর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
মামলায় অন্য আসামিরা হলেন— প্রবাসী সাংবাদিক তাসনিম খলিল ও সাহেদ আলম, সায়ের জুলকারনাইন, আশিক ইমরান, ফিলিপ শুমাখার, স্বপন ওয়াহিদ ও ব্লগার আসিফ মহিউদ্দীন। রমনা থানার ওসি মনিরুল ইসলাম জানান, কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোর এবং ব্যবসায়ী মুশতাক আহমেদকে মঙ্গলবার রাতে গ্রেপ্তার করে থানায় হস্তান্তর করে র্যাব। তিনি বলেন, র্যাবের দায়ের করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় বুধবার তাদের আদালতে পাঠানো হয়। রিমান্ডের আবেদন করিনি। আদালত তাদের কারাগারে পাঠান।
আহমেদ কবির কিশোরকে কাকরাইল এবং মুশতাক আহমেদকে লালমাটিয়ার বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান ওসি। রমনা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জহিরুল ইসলাম বলেন, র্যাব-৩ এর ডিএডি আবু বকর সিদ্দিক বাদী হয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ওই মামলা করেন। সেখানে ১১ জনকে আসামি করা হয়। র্যাব-৩ এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরকারবিরোধী প্রচারণা, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তি এবং ত্রাণসামগ্রী বিতরণ নিয়ে নানা ধরনের গুজব ছড়াচ্ছিলেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, র্যাব-৩ পর্যালোচনা করে দেখেছে আই এম বাংলাদেশি (ইংরেজি হরফে লেখা) পেজের অ্যাডমিন সায়ের জুুলকারনাইন, আমি কিশোর, আশিক ইমরান, ফিলিপ শুমাখার, স্বপন ওয়াহিদ ও মোস্তাক আহম্মেদ নামে পাঁচ জন দীর্ঘদিন ধরে ওই ফেসবুক পেজটি পরিচালনা করে আসছেন। এই ফেসবুক পেজ থেকে জাতির জনক, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, মহামারি সম্পর্কে গুজব, রাষ্ট্র/সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিপ্রায়ে অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। অপপ্রচার বা মিথ্যা জেনেও তারা গুজবসহ বিভিন্ন তথ্য সামাজিক মাধ্যমে ছড়াচ্ছিলেন। এতে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি, অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে।
গ্রেফতারকৃত দুই জনকে গতকাল বেলা ১টার দিকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। এসময় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রমনা থানার উপপরিদর্শক জামশেদুল ইসলাম আসামিদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। অপর দিকে, তাদের আইনজীবীরা জামিনের আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম বেগম মাহমুদা বেগম তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মিনহাজ গ্রেফতার, দিদারকে থানায় হস্তান্তর : গতকাল সকালে রাষ্ট্রচিন্তার কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দিদারের স্ত্রী দিলশান আরা অপূর্ণা জানান, ‘মঙ্গলবার ইফতারের কিছুক্ষণ আগে ১১/১২ জন মানুষ দুটি মাইক্রোবাস নিয়ে এসে কম সময়ের মধ্যেই আমাদের কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই দিদারকে দুটি কম্পিউটার, ল্যাপটপ ও সিসি ক্যামেরাসহ নিয়ে যায়। তারা বলে, ‘আমরা কিছু কথাবার্তা বলেই তাকে ছেড়ে দেব।’
র্যাব-৩ এর কর্মকর্তা সহকারী পুলিশ সুপার আবু জাফর মোহাম্মদ রহমত উল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, দিদারের পাশাপাশি মিনহাজ মান্নানকেও থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। বুধবার বনানী থেকে মিনহাজকে গ্রেফতার করা হয়। মিনহাজ মান্নান বিএলআই সিকিউরিটিজের কর্ণধার। রমনা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘রাত পৌনে ৮টার দিকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে এই দু’জনকে গ্রেফতার দেখিয়ে থানায় হস্তান্তর করে র্যাব-৩।’
