ভাণ্ডারিয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের ওপর হামলার ঘটনায় থানায় মামলা

আপডেট : ০৬ মে ২০২০, ২৩:০০

জেলার ভাণ্ডারিয়ার তেলিখালীতে গত মঙ্গলবার কোস্ট গার্ড, পুলিশ ও জাটকা সংরক্ষণ কার্যক্রমের ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেটসহ মত্স্য বিভাগের কর্মকর্তাদের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছে। সরকারি কাজে বাধা দান, মত্স্য রক্ষা ও সংরক্ষণসহ বিভিন্ন ধারায় স্থানীয় তিন জেলে ও ২৫-৩০ জন অজ্ঞাতনামা গ্রামবাসীকে এ মামলায় আসামি করা হয়েছে। মাছ ধরার অবৈধ জাল জব্দ করতে গিয়ে মত্স্য বিভাগ, ম্যাজিস্ট্রেট, কোস্ট গার্ড ও পুলিশ গত মঙ্গলবার ভাণ্ডারিয়ার হরিণপালা গ্রামে জেলেদের হামলার কবলে পড়ে এবং এ সময় জীবন রক্ষায় কোস্ট গার্ডকে বাধ্য হয়ে ২৩ রাউন্ড গুলি ছুড়তে হয়।  জেলার মঠবাড়িয়ার সিনিয়র উপজেলা মত্স্য কর্মকর্তা মো. মোজাম্মেল হকের করা মামলায় ভাণ্ডারিয়ার তেলিখালী ইউনিয়নের হরিণপালা গ্রামের মোহাব্বত আলীর ছেলে মোতালেব হাওলাদার (৫৫), আবদুল আজিজের ছেলে জসিম (২৮) ও শাহীন (পিতা অজ্ঞাত) নামে এই তিন জন নামধারী আসামি। মঙ্গলবার দুপুরে মাছ ধরা অবৈধ জাল জব্দ করতে গিয়ে হরিণপালায় জেলেদের হামলার ঘটনার প্রায় ৩৬ ঘণ্টা পর মামলা হয়। এই সুযোগে হরিণপালাসহ ভাণ্ডারিয়ার তেলিখালী ও মঠবাড়িয়ার তুষখালী ইউনিয়নের জেলেরা গতকাল বুধবার দিনভর কানার মুখে (বলেশ্বর ও কঁচানদীর সঙ্গম স্থল) অবৈধ জাল দিয়ে মাছ ধরার মহোত্সবে মেতে ওঠে। এ সময় ধরা পড়া প্রচুর মাছ আশপাশের বাজারে পানির দরে বিক্রি হতে দেখা যায়। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের সরাসরি মদতে অবৈধ মাছ ধরার এ ঘটনা ঘটেছে এবং অতীতেও মত্স্য আইনকে অমান্য করে এই নদীতে মাছ ধরার এই বেআইনি কাজ চলছিল। এই বেআইনি তত্পরতা বন্ধ করতে পিরোজপুরের জেলা টাস্কফোর্সের জাটকা সংরক্ষণের কার্যক্রম পরিচালনায় ভ্রাম্যমাণ আদালত গত মঙ্গলবার ভাণ্ডারিয়ার তেলিখালী ও মঠবাড়িয়ার তুষখালী এলাকায় অভিযান চালাতে যায়। মঠবাড়িয়া উপজেলার বলেশ্বর নদীর জানখালী ও ছোটো মাছুয়ার বিভিন্ন এলাকায় প্রথমে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ জাল জব্দ করা হয়। এরপর ভাণ্ডারিয়ার তেলিখালীর পোনা নদীর তীরে হরিণপালা জেলেপাড়ায় অভিযান পরিচালনা কালে টাস্কফোর্স জেলেদের হামলার শিকার হয়। জেলেরা দেশি অস্ত্র নিয়ে কোস্ট গার্ড ও পুলিশসহ ভ্রাম্যমাণ আদালত ও মত্স্য কর্মকর্তাদের ওপর হামলা করলে বাধ্য হয়ে ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে কোস্টগার্ড ২৩ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে। এ সময় মহিলাসহ চার-পাঁচ  জন জেলে ও পাঁচ-ছয় জন গ্রামবাসী আহত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। অন্যদিকে জেলেদের হামলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের পেশকার আবুল কাশেম আহত হন।