ত্রাণের দাবিতে খুলনায় মোটর শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধ

আপডেট : ০৬ মে ২০২০, ২৩:০১

খুলনায় ত্রাণের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে নগরীর ২১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও মোটর শ্রমিকরা। গতকাল বুধবার দুপুরে খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) শতাধিক নারী-পুরুষ নগরীতে বিক্ষোভ করে। তারা খুলনা প্রেসক্লাবের সামনে এসে ত্রাণ না পাওয়ার অভিযোগ করেন।

২১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা পারভীন আক্তার, জাহানারা বেগম ও শান্তা বেগমসহ অন্যরা অভিযোগ করেন, করোনার কারণে তারা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। প্রথম দিকে কাউন্সিলর সামসুজ্জামান মিয়া স্বপন সামান্য কিছু খাদ্যসামগ্রী দেন। কিন্তু তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। তাই তারা জেলা প্রশাসকের দপ্তরে আবেদন করতে চান। কিন্তু কাউন্সিলের লোকজন বাধা ও হুমকি দিচ্ছে। তাই তারা বাধ্য হয়ে রাজপথে নেমেছেন।

তবে, স্থানীয় ২১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সামসুজ্জামান মিয়া স্বপন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ২১ নম্বর ওয়ার্ডে প্রথম পর্যায়ে সরকারি ও ব্যক্তিগতভাবে ৫ হাজার ২০০ পরিবারকে সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় বার সহযোগিতা পেয়েছেন আরো ২১৯ জন। এ চক্র ত্রাণ নিয়ে বাণিজ্য করার চেষ্টা করছে।

এদিকে, ত্রাণের দাবিতে গতকাল সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত করোনায় কর্মহীন হয়ে পড়া মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন খুলনা-যশোর মহাসড়কের ফুলতলা বাসস্ট্যান্ড অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। এ সময় ফুলতলা শাখা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ওয়াহিদ মুরাদ পিন্টু ও সাধারণ সম্পাদক সনজিত্ বসু অভিযোগ করে বলেন, করোনায় প্রায় দেড় মাস কর্মহীন হয়ে পড়েছে ফুলতলা এলাকার বাস, ট্রাক, পিকআপ, মাইক্রোবাস, থ্রি-হুইলার, ইজিবাইকের সহস্রাধিক শ্রমিক। স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা সরকারি ত্রাণ প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে দফায় দফায় শ্রমিকদের পরিচয়পত্র, নাগরিক সনদপত্র ও জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি নিলেও আজ পর্যন্ত তাদের কোনো ত্রাণ বা খাদ্যসহায়তা দেয়নি। অবরোধ চলাকালে ফুলতলার ইউএনও পারভীন সুলতানা ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তারা এসে ত্রাণের আশ্বাস দিলে শ্রমিকরা অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন।

নীলফামারীতে খাবারের দাবিতে সড়ক অবরোধ

নীলফামারী প্রতিনিধি জানান, খাবারের দাবিতে শহরের কালিবাড়ী মোড়ে দুই ঘণ্টা প্রধান সড়ক অবরোধ করে রাখে দুইশতাধিক কর্মহীন রিকশা শ্রমিকরা। এ সময় অভুক্ত শ্রমিকেরা বিভিন্ন স্ল্লোগান দিতে থাকেন। গতকাল সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করলে রাস্তায় দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। সড়কের দুই পাশে আটকা পড়ে বিপুল সংখ্যক জরুরি সেবার পরিবহন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বহনকারী গাড়িসহ বিপুল সংখ্যক যানবাহন। খবর পেয়ে নীলফামারী পৌর মেয়র দেওয়ান কামাল আহমেদ এবং সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এলিনা আকতার ঘটনাস্থলে গিয়ে ত্রাণ দেওয়ার আশ্বাস দিলে শ্রমিকরা অবরোধ তুলে নেয়।