মৃত্যু বাড়লেও করোনা টাস্কফোর্স গুটিয়ে নিচ্ছেন ট্রাম্প

আপডেট : ০৭ মে ২০২০, ০০:১৭

অর্থনীতির স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্রে জনজীবন স্বাভাবিক করতে করোনা টাস্কফোর্স গুটিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। করোনায় মৃতের সংখ্যা বাড়তে থাকলেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। তিনি লকডাউন তোলারও ইঙ্গিত দিয়েছেন। খবর ডয়চেভেলের

করোনা মহামারি রুখতে যে টাস্কফোর্স তৈরি করেছিল তা গুটিয়ে ফেলার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তার যুক্তি, এবার সামনের দিকে তাকাতে হবে। কীভাবে জীবনযাত্রা স্বাভাবিক করা যায় এবং অর্থনীতিকে সচল করা যায় সেই কথা ভাবতে হবে। সেই কারণেই আপাতত টাস্কফোর্স তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় মঙ্গলবার একটি মাস্ক উত্পাদনের কেন্দ্রে গিয়েছিলেন ট্রাম্প। সেখানে তিনি বলেন, পরিস্থিতি যেমনই হোক, আগামী পাঁচ বছরের জন্য দেশকে বন্ধ করে দেওয়া যায় না। যেভাবেই হোক স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে হবে এবং অর্থনীতির কথা ভাবতে হবে। তাই করোনা টাস্কফোর্সের আর প্রয়োজন নেই। যদিও একইসঙ্গে প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, টাস্কফোর্সের প্রধান দুই ব্যক্তি অ্যান্তোনিও ফাউচি এবং ডেবোরা বার্ক্সকে উপদেষ্টা হিসেবে রেখে দিচ্ছে হোয়াইট হাউজ। ট্রাম্প আরো বলেছেন, তিনি জানেন এর ফলে আরো বেশি মানুষ আক্রান্ত হবেন এবং মৃত্যুও বাড়তে পারে। তবু লকডাউন তুলে দেশকে স্বাভাবিক ছন্দে ফেরাতে হবে। পরিসংখ্যান বলছে, বুধবার পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে আক্রান্ত ১২ লাখ ৪০ হাজার ৪১১ জন এবং প্রাণ গেছে ৭২ হাজার ৪৪৯ জনের।

ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে নতুন বিতর্ক

ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলছে, আমেরিকায় যেদিন করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা ৭০ হাজার ছাড়াল সেদিন প্রেসিডেন্টের এই ঘোষণা বেমানান। তাদের বক্তব্য, টাস্কফোর্সের সঙ্গে অর্থনীতির কার্যত কোনো সম্পর্ক নেই। টাস্কফোর্সের কাজ করোনা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা। অর্থনীতি সচল করা এবং জনজীবন স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়া জারি রেখেও টাস্কফোর্সকে তাদের কাজ করতে দেওয়া যেত।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, সমস্যা আসলে অন্য। আমেরিকার করোনা পরিস্থিতি যে এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি এবং অদূর ভবিষ্যতে তা আরো ভয়াবহ চেহারা নিতে পারে, টাস্কফোর্সের এ ধরনের বক্তব্য মেনে নিতে পারেননি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। শুধু তাই নয়, চীনের উহানের পরীক্ষাগার থেকে করোনা ছড়িয়েছে বলে ট্রাম্প যে দাবি করছেন বারবার, তার সঙ্গেও দ্বিমত পোষণ করেছেন ফাউচি। ডেবোরার সঙ্গেও একাধিকবার বিতর্কে জড়িয়েছেন প্রেসিডেন্ট। সেই কারণেই রাতারাতি টাস্কফোর্স তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত। যদিও সমালোচনা এড়াতে তাদের দুই জনকে উপদেষ্টা হিসেবে রেখে দেওয়া হচ্ছে।