যুক্তরাষ্ট্রে করোনা ভাইরাসের নিয়ন্¿ণে গঠিত টাস্কফোর্স গুটানোর সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, টাস্কফোর্সের কাজ অনির্দিষ্টকালের জন্য চলবে। এর আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছিলেন, অর্থনীতির স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্রে জনজীবন স্বাভাবিক হওয়ার দরকার। তাই করোনা টাস্কফোর্স গুটিয়ে ফেলা হচ্ছে। করোনায় মৃতের সংখ্যা বাড়তে থাকলেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তে বিতর্ক শুরু হওয়ার পর তিনি সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসলেন। তিনি লকডাউন তোলারও ইঙ্গিত দিয়েছেন। খবর সিএনএন ও ডয়চেভেলের
হোয়াইট হাউজ স্বীকার করেছে, টাস্কফোর্স নিয়ে অভ্যন্তরে আলোচনা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গতকাল টুইটার বার্তায় বলেন, টাস্কফোর্সের কাজ অনির্দিষ্টকালের জন্য চলবে। তারা এখন মার্কিন অর্থনীতি সচল করা এবং ভ্যাকসিনের ব্যাপারে দৃষ্টি দেবে। এর আগে মঙ্গলবার একটি মাস্ক উত্পাদনের কারখানা পরিদর্শনে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছিলেন, কিভাবে জীবনযাত্রা স্বাভাবিক করা যায় এবং অর্থনীতিকে সচল করা যায় সেই কথা ভাবতে হবে। সেই কারণেই আপাতত টাস্ক ফোর্স তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, পরিস্থিতি যেমনই হোক, আগামী পাঁচ বছরের জন্য দেশকে বন্ধ করে দেওয়া যায় না। যেভাবেই হোক স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে হবে এবং অর্থনীতির কথা ভাবতে হবে। তাই করোনা টাস্ক ফোর্সের আর প্রয়োজন নেই। যদিও একইসঙ্গে প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, টাস্ক ফোর্সের প্রধান দুই ব্যক্তি অ্যান্তোনিও ফাউচি এবং ডেবোরা বার্ক্সকে উপদেষ্টা হিসেবে রেখে দেওয়া হবে। এ নিয়ে ব্যাপক বিতর্কের মুখে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার সিদ্ধান্ত বদলান।
উদ্বেগকে পাত্তা দেয়নি ট্রাম্প প্রশাসন
মার্কিন সরকারের সাবেক বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা রিক ব্রাইট বলেছেন, তিনি গত জানুয়ারিতে মার্কিন স্বাস্থ্যমন্¿ী অ্যালেক্স জার ও অন্যান্যদের সঙ্গে সাক্ষাত্ করে করোনা ভাইরাস নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও কেউ সেই উদ্বেগকে পাত্তা দেননি। তাই ট্রাম্প প্রশাসন করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় প্রশাসন প্রস্তুত ছিল না। এর আগে নোভেল করোনা ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট কোভিড-১৯ চিকিত্সায় হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইনের কার্যকরিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে পদচ্যুত হয়েছিলেন এই কর্মকর্তা। তার আইনজীবী সরকারের বিরুদ্ধে মামলাও দায়ের করেছে এবং তার (রিক ব্রাইট) চাকরিচ্যুতিকে আইনের লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছেন।
