করোনা সংকটের মাঝেই ব্রিটেন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের আশায় আলোচনা শুরু করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হওয়ার আগে ব্রিটেনের সরকার এই সাফল্য অর্জন করতে চায়। বছরের শেষে ব্রেক্সিট পুরোপুরি কার্যকর করার ব্রত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। খবর ডয়চেভেলের
ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ব্রেক্সিট-পরবর্তী সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা বিফল হলেও বরিস অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থার মেয়াদ বাড়াতে প্রস্তুত নন। সেক্ষেত্রে ২০২১ সালের পহেলা জানুয়ারি ব্রিটেন ইইউর একক বাজার থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। সেই ধাক্কা সামলাতে তড়িঘরি করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করতে উঠেপড়ে লেগেছে বরিস জনসনের সরকার।
মঙ্গলবার দ্বিপাক্ষিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির লক্ষ্যে ব্রিটেন ও আমেরিকার প্রায় ৩০০-রও বেশি কর্মকর্তা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রাথমিক আলোচনা শুরু করেছেন। তারা বাণিজ্য ও বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বাড়াতে দ্রুত এক চুক্তি স্বাক্ষরের অঙ্গীকার করেছেন। মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি রবার্ট লাইটহাইজার ও ব্রিটেনের বাণিজ্যমন্ত্রী লিজ ট্রাস এক যৌথ বিবৃতিতে এমন লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছেন। তাদের মতে, কোভিড-১৯ যে চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে তা থেকে বেরিয়ে আসতে এই সহযোগিতা সহায়ক হবে। দ্রুত সাফল্যের আশায় প্রথা ভেঙে দুই পক্ষ সমান্তরালভাবে সব বিষয়ে আলোচনা করবে।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালে মার্কিন প্রশাসন এই প্রথম কোনো বাণিজ্য চুক্তির লক্ষ্যে আলোচনা শুরু করল। করোনা সংকটের জের ধরে অর্থনৈতিক সংকটের মুখে ওয়াশিংটন এই চুক্তিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছে। তবে আমেরিকা এই সুযোগে ব্রিটেনের বাজারে সবরকম কৃষিপণ্য বিক্রি করতে চায়। সেইসঙ্গে আমেরিকায় উত্পাদিত পণ্যের ওপর যত কম সম্ভব শুল্ক নিশ্চিত করতে চায় সে দেশ। উল্লেখ্য, চীনের ওপর নির্ভরতা কমাতে ট্রাম্প প্রশাসন উঠেপড়ে লেগেছে।
বিষয়টি নিয়ে ব্রিটেনে প্রবল বিতর্ক চলছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ক্লোরিনযুক্ত মুরগি এবং জিনের রূপান্তর ঘটানো কৃষিপণ্য আমদানির বিরুদ্ধে জনমত গড়ে উঠছে। যুক্তরাষ্ট্রের চাপে ইইউর শ্রম ও পরিবেশ সংক্রান্ত উচ্চ মানদণ্ড ত্যাগ করতেও প্রস্তুত নয় অনেকে। তাছাড়া একক দেশ হিসেবে ব্রিটেন বাণিজ্যসংক্রান্ত আলোচনায় ইইউর মতো জোর খাটাতে না পেরে অনেক বিষয় মেনে নিতে বাধ্য হবে বলেও সমালোচকরা আশঙ্কা করছেন।
