করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত ক্রীড়াবিদদের সহযোগিতায় এনএসসি

আপডেট : ০৭ মে ২০২০, ০৮:০৩

করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত ক্রীড়াবিদদের পাশে থাকার কথা জানিয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। গতকাল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে অনুষ্ঠিত এক সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে ১ হাজার ক্রীড়াবিদকে এককালীন ১০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে।

ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল গতকাল এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘পুরো বিশ্বটাই এখন কারোনায় আক্রান্ত। আমরা ক্রীড়াঙ্গনের মানুষগুলো তো এর বাইরে নই। আমাদের ক্রীড়াঙ্গনের অনেক মানুষ আছেন যারা কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। খেলোয়াড়েরা অসহায় অবস্থায় আছেন। আমি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি আমাকে এ বিষয়ে সহযোগিতা করার কথা জানিয়েছেন। প্রয়োজনে কাউকে বলার দরকার হলেও প্রধানমন্ত্রী বলবেন বলে জানিয়েছেন, তারা যেন খেলোয়াড়দের মানবিক সহযোগিতার জন্য এগিয়ে আসেন।

সেই সঙ্গে সরকারের পক্ষ থেকেও সহযোগিতা করার কথা জানিয়েছেন। যৌথভাবে আমরা অসহায় ক্রীড়াবিদদের জন্য বরাদ্দ দেওয়ার চেষ্টা করছি। ক্রীড়াঙ্গনের মানুষগুলো যেন সহযোগিতা পান, সেটা নিয়েই আমার সঙ্গে ওনার কথা হয়েছে।’

এনএসসির সচিব মাসুদ করিম জানিয়েছেন, তারা ২৭টি ফেডারেশন, অ্যাসোসিয়েশনকে বাছাই করেছেন। তাদের কাছে নামের তালিকা চাওয়া হয়েছে। গতকাল তিনি বলেন, ‘আমরা নাম পেলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব। করোনার কারণে যারা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন, সেই সব দুস্থ ক্রীড়াবিদকে সহযোগিতা দেওয়া হবে। এখানে প্রাক্তন খেলোয়াড় হতে পারেন, বর্তমান খেলোয়াড় হতে পারেন। সহযোগিতা দেওয়ার সংখ্যাটা কম-বেশি হতে পারে। সেই সঙ্গে ফেডারেশনের সংখ্যাটও কম-বেশি হতে পারে।’

তিনি আরো বলেন, ‘যেসব ফেডারেশন আর্থিকভাবে দুর্বল, চাইলেই সবকিছু করতে পারে না, তাদের দিকে আমাদের দৃষ্টি। যে কারণে বিসিবি এই তালিকায় নেই। তারা সচ্ছল প্রতিষ্ঠান। বিসিবি নিজেরাও সহযোগিতা করছে। চাইলে বিসিবি দেশের অন্যান্য ক্রীড়াবিদকেও সহযোগিতা করতে পারে। আমাদের সঙ্গে বিসিবির এমন একটি আলোচনাও চলছে।’

করোনায় ক্রীড়াঙ্গন থমকে আছে। শুধু বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনই নয়, দুনিয়া জুড়ে একই চিত্র। বাংলাদেশের বেশির ভাগ ক্রীড়াবিদ সচ্ছল নয়। ক্রিকেট তারকা তামিম ইকবাল ক্রিকেটের বাইরেও অন্য খেলার খেলোয়াড়দের সহযোগিতা করছেন। অন্যান্য খেলার মানুষগুলো একটু বেশি কষ্ট করছেন।

এছাড়া ক্রীড়াঙ্গনে যেসব ভাতা দেওয়া চালু ছিল, সেগুলো চলবে। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী গতকাল জানিয়েছেন, এই সহযোগিতা ছাড়াও বিভিন্ন ক্ষেত্রে সম্মানী ভাতার ব্যবস্থা থাকবে। এরই মধ্যে আবেদনও চাওয়া হয়েছিল। লকডাউনের কারণে অনেকে আবেদন দিতে পারেননি। ঈদের পর আবার শুরু হবে। করোনায় যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের প্রতি মাসে ২ হাজার টাকা করে এককালীন ২৪ হাজার টাকা প্রদান করব। তাতে ক্রীড়াবিদেরা কিছুটা হলেও উপকৃত হবেন।’

ইত্তেফাক/এসআই