মো. কামরুল হাসান, সহকারী শিক্ষক
ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল
জাহানাবাদ সেনানিবাস, খুলনা
শুদ্ধিকরণ (পর্ব ১০)
২.৬ রচনাপদ্ধতির অশুদ্ধি
সাধারণ নিয়মের ব্যত্যয় ঘটলেও রচনাশৈলীর কারণে সে রচনা শুদ্ধ বলেই বিবেচিত হয়। কিন্তু অতিশৈলীর কারণে অনেক সময় ভাবপ্রকাশে সমস্যা হয়। রচনাপদ্ধতির অশুদ্ধিতে যে বিষয়গুলো আলোচিত হতে পারে সেগুলো হলো : সাধারণ অশুদ্ধি, বাহুল্য দোষ, বাগধারার রদবদল, গুরুচণ্ডালী দোষ ও উপমার ভুল প্রয়োগ ইত্যাদি।
২.৬.১ সাধারণ অশুদ্ধি
অশুদ্ধ শুদ্ধ
ইতিমধ্যে ইতোমধ্যে
উপোরোক্ত উপর্যুক্ত/উপরিউক্ত
ইতোপূর্বে ইতঃপূর্বে
ঐক্যতান ঐকতান
পুজারি পূজারি
সাধারণ অশুদ্ধিজনিত কিছু অশুদ্ধ বাক্য শুদ্ধিকরণ :
অশুদ্ধ : গোপন কথা বলি।
শুদ্ধ : গোপনীয় কথা বলি।
অশুদ্ধ : একটি গোপনীয় পরামর্শ আছে।
শুদ্ধ : একটি গোপন পরামর্শ আছে।
অশুদ্ধ : পীপিলিকা খুবই পরিশ্রমী প্রাণী।
শুদ্ধ : পিপীলিকা খুবই পরিশ্রমী প্রাণী।
অশুদ্ধ : দোষীদের সনাক্ত করা হয়েছে।
শুদ্ধ : দোষীদের শনাক্ত করা হয়েছে।
২.৬.২ বাহুল্য দোষ
প্রয়োজনের অতিরিক্ত শব্দ বা শব্দাংশ ব্যবহার ব্যবহারে বাহুল্য দোষ ঘটে এবং এর ফলে শব্দ তার যোগ্যতাগুণ হারায়।
সাধারণ অশুদ্ধিজনিত কিছু অশুদ্ধ বাক্য শুদ্ধিকরণ :
অশুদ্ধ : সকল সদস্যগণ সভায় উপস্থিত ছিল।
শুদ্ধ : সকল সদস্য সভায় উপস্থিত ছিল অথবা সদস্যগণ সভায় উপস্থিত ছিল।
অশুদ্ধ : কেবলমাত্র/শুধুমাত্র তুমিই যাবে।
শুদ্ধ : কেবল/মাত্র/শুধু তুমিই যাবে।
অশুদ্ধ : দারিদ্র্যতা দেশের জন্য অভিশাপ।
শুদ্ধ : দরিদ্র্যতা/দারিদ্র্য দেশের জন্য অভিশাপ।
অশুদ্ধ : সকলের অবগতির জন্য জানানো হলো।
শুদ্ধ : সকলের অবগতি করানো হলো কিংবা সকলকে জানানো হলো।
(চলবে...)
বন্ধুরা, আরও জানতে চোখ রাখো ফেসবুকের ‘বাংলা বানানের নিয়মকানুন’ গ্রুপে এবং ‘দৈনিক ইত্তেফাক’ পত্রিকার অনুশীলন পাতায়।
