আমীরুল ইসলাম
রবীন্দ্রনাথ, তুমি আমাদের চেতনার পান্না। তুমি আমাদের প্রতিদিনের বেঁচে থাকার প্রেরণা।
তুমি আমাদের আশা-আকাঙ্ক্ষা। তুমি স্বপ্ন। তুমি দুঃখের দিনে, হতাশার দিনে, ভেঙে পড়ার দিনে আমাদের শক্তি-সাহস। আমাদের প্রেরণার অপর নাম রবীন্দ্রনাথ।
তুমি অসীমের সুর।
তুমি আনন্দধ্বনি জাগাও প্রাণে। তুমি আমাদের পিতা—তোমায় পিতা বলে মোরা মানি। হে রবীন্দ্রনাথ, আমারে তুমি অশেষ করেছ। বারবার প্রশ্ন করি, তুমি কেমন করে গান কর হে গুণী!
রবীন্দ্রনাথ আমার নিশ্বাসে বিশ্বাসে। আমার সত্তা জুড়ে। রবীন্দ্রনাথের দৃষ্টি দিয়ে আমি বিশ্বভুবন দেখি।
আমার বাঙালি সত্তা জেগে ওঠে রবীন্দ্রনাথের রচনায়। আমার ভাষা প্রাণ পায় রবীন্দ্রনাথের করস্পর্শে।
রবীন্দ্রনাথ আমার বেঁচে থাকা। আমার পৃথিবী। আমার আত্মপরিচয়। তিনি স্বপ্নদ্রষ্টা।
রবীন্দ্রনাথ আমাদের পথের দিশা।
আমি বাঙালি। বাংলা আমার ভাষা। বাংলা আমার দেশ। বঙ্গবন্ধু যে স্বাধীনতার মহান স্থপতি, হাজার বছরের সেরা বাঙালি—তিনিও প্রেরণা পেয়েছেন রবীন্দ্রনাথ থেকে।
বঙ্গবন্ধু ছিলেন প্রচণ্ড রবীন্দ্রভক্ত। ‘আমার সোনার বাংলা’ গানটি গুনগুন করে প্রায়ই তিনি গাইতেন।
রবীন্দ্রনাথ—তুমি স্বাধীন বাংলাদেশ দ্যাখনি। বঙ্গবন্ধুর উত্থান তুমি দেখে যাওনি। তুমি জানো কি, স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতি মুহূর্তে স্বপ্ন দ্যাখে তোমারই স্বপ্নের চোখ দিয়ে।
তুমি মহত্ কবি। সমাজকর্মী। তুমি শিক্ষাবিদ। তুমি অচলায়তন ভেঙে মুক্তধারা এনেছ।
বাংলাকে তুমি বিশ্বদৃষ্টিতে দেখেছ।
বাঙালি হিসাবে আমাদের অনেক গর্ব। প্রধান গর্ব এই যে, আমরা রবীন্দ্রনাথকে পাঠ করি আমাদের মাতৃভাষায়।
আমাদের ছয় ঋতু আছে। পদ্মা-মেঘনা আছে। বঙ্গোপসাগর বাংলাদেশের পা ধুইয়ে দিচ্ছে। শস্য আছে। জল ছপছপে মাটি আছে। মানুষের ভালোবাসা আছে।
আমাদের গৌরবের অনেক কিছু আছে। আমাদের একুশে ফেব্রুয়ারি আছে। আমাদের বৈশাখ আছে। আমাদের শহিদ মিনার আছে।
আমাদের মহান নেতা বঙ্গবন্ধু আছেন।
আর মাথার উপরে ছায়া দিয়ে আছেন স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ।
স্কেচ :শাকিলা খান চয়ন
