ইহা এক অজানা পরিস্থিতি। দেশের কোনো জীবিত মানুষ এই ধরনের পরিস্থিতি দেখে নাই, এই ধরনের আপদ মোকাবিলা করিতে হয় নাই। ফলে বিভিন্ন ক্ষেত্রে নূতন নূতন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়া সময় পার করিতে হইতেছে। সরকারের যেই সকল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিতে হইতেছে তাহারও অতীত অভিজ্ঞতা নাই। ফলে সরকার ও জনগণের বুঝিতে অসুবিধাও হইতেছে যে, কোন সিদ্ধান্ত সঠিক আর কোনটা সঠিক নহে। যেমন সরকার দেশের সর্ববৃহত্ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পুরোটাই করোনা হাসপাতালে রূপান্তরিত করিবার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিয়াছে। এই হাসপাতালটি দেশের সর্ববৃহত্ হাসপাতাল। এইখানে ২ হাজার ৬০০ শয্যা থাকিলেও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত হইতে হাজার হাজার রোগী আসিয়া এই হাসপাতালে সেবা গ্রহণ করিয়া থাকে। তাহার চাইতেও বড়ো কথা—এই হাসপাতাল সাধারণত অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল মানুষের প্রধান ভরসা। কিডনি, লিভার, লাংসহ বিভিন্ন জটিল রোগের চিকিত্সাসেবা এই হাসপাতালে দেওয়া হয়। এমনকি ডায়ালেসিস ও ট্রান্সপ্ল্যান্টও হইয়া থাকে। ইহা ছাড়াও এই হাসপাতালটির বহির্বিভাগে প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার মানুষ সেবা গ্রহণ করেন। এখন এই সকল রোগী কোথায় যাইবেন তাহা একটি বড়ো দুশ্চিন্তার বিষয়। আবার কর্তৃপক্ষের নিকটও এখন বড়ো চ্যালেঞ্জ করোনা মোকাবিলা। কোভিড-১৯ সংক্রমণ যত বাড়িতেছে, ততই পরিস্থিতি জটিল হইতেছে।
এই পরিস্থিতিতে সরকারের কোন সিদ্ধান্ত সঠিক, কোনটি সঠিক নহে সেই সম্পর্কে সিদ্ধান্তে আসা দুষ্কর। ইহা অস্বীকার করিবার উপায় নাই যে, আমরা অর্থনৈতিকভাবে এবং অবকাঠামোগতভাবে দুর্বল। আমরা উন্নয়ন করিতে চেষ্টা করিতেছি এবং আগাইতেছি বটে; কিন্তু এখনো ‘নুন আনতে পান্তা ফুরায়’ অবস্থা হইতে উত্তরণ ঘটে নাই। সুতরাং অসুবিধা থাকিবেই। খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো ধনী দেশই নাস্তানাবুদ হইয়া গিয়াছে। দিশা হারাইয়া গিয়াছে। যুক্তরাষ্ট্রে ধনাঢ্য মানুষের যেমন কোনো অভাব নাই, তেমনি সরকার হুট করিয়া ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় করিবার ক্ষমতা রাখে; কিন্তু তাহাদেরও এই পরিস্থিতির কথা জানা ছিল না। ফলে সেই দেশে দেখা দিয়াছে নানা ধরনের সংকট। কে জানিত প্রতিটি নাগরিকের জন্য মাস্ক লাগিবে, লক্ষ লক্ষ ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম লাগিবে, চিকিত্সার জন্য শত শত ভেন্টিলেটর মেশিন লাগিবে! সেই প্রস্তুতি ছিল না। যাহার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশে দেখা দিয়াছে মাস্ক, পিপিইর অভাব। বহু হাসপাতাল সেই দেশে করোনা হাসপাতালে রূপান্তরিত হইয়াছে। এমনকি বেশ কয়েকটি জাহাজ, ভ্রমণতরিকে অস্থায়ী হাসপাতালে রূপ দেওয়া হইয়াছে।
আমাদের আশা থাকিবে, হাসপাতালটি যেন করোনা চিকিত্সার রূপ দেওয়া হইলে সফলভাবে রোগীদের সেবা দিতে পারে। চিকিত্সক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী যেন সুনামের সহিত দায়িত্ব পালন করিতে পারে। এই আপদ যেন দ্রুত কাটিয়া যায় এবং আবার হাসপাতালটি স্বরূপে ফিরিয়া আসিতে পারে। তবে দেশের অসংখ্য জটিল রোগে আক্রান্ত মানুষকে লইয়া দুশ্চিন্তা থাকিয়াই যায়। এই সকল রোগী যেন বিকল্প হিসাবে বিভিন্ন হাসপাতালে সেবা পাইতে পারেন, তাহার প্রতি স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নজর রাখিতে হইবে।
