দোহার-নবাবগঞ্জ (ঢাকা) সংবাদদাতা
নবাবগঞ্জ উপজেলার যন্ত্রাইল ইউনিয়নের জাহাঙ্গীর আলম নামে এক (ওএমএস) ডিলারের বিরুদ্ধে চাল নিয়ে চালবাজির অভিযোগ উঠেছে। খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির তালিকায় নাম থাকার পরও ইউনিয়নের পাঁচটি ওয়ার্ডের প্রায় শতাধিক পরিবারকে কার্ড আর চাল না দেওয়ার অভিযোগ তার বিরুদ্ধে। এ ব্যাপারে গত ২৬ এপ্রিল উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী শতাধিক পরিবার। অনুসন্ধানে জানা যায় যন্ত্রাইল ইউনিয়নের ৪, ৫, ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলার জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়মের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নন্দলাল সিং-এর কাছে অভিযোগ দিলেও কোনো সুরাহা হয়নি বলে জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।
চরখলসী গ্রামের মো. জনাব আলী অভিযোগ করে বলেন, ‘১০ টাকা করে চাইল (চাল) পামু শুনে মেম্বারের কাছে আইডি কার্ড দিছিলাম। পরে মেম্বার ও ডিলারের কাছে শুনছি আমার কার্ড হয় নাই। এখন দেহি তালিকায় আমার নাম আছে। কিন্তু আমি তো কার্ডই পাইলাম না, চাইল পামু কেমনে।’ ৭ নম্বর ওয়ার্ডের করুনা রানি হালদার অভিযোগ করে বলেন, ‘আমাদের মেম্বার পবিত্র কুমার সরকার দীর্ঘ চার বছর আমার নামের চাল চুরি করে খেয়েছে। এ বিষয়ে চেয়ারম্যান নন্দ লাল সিং-এর কাছে অভিযোগ করলেও তিনি কোনো বিচার করেননি। আমি ছাড়াও আমাদের এলাকার প্রায় ২০ জনের চার বছরের চাল চুরি করে খেয়েছে এই মেম্বার।’
একই এলাকার ফরিদা পারভিন বলেন, ‘আমি ১০০ টাকা খরচ করে চালের জন্য ডিলারের কাছে গেছিলাম। ডিলার কইছে কার্ড হয় নাই। তখন চেয়ারম্যানও ছিল। তার কাছে অভিযোগ করলাম, তিনি দূর দূর করে তাড়িয়ে দিলেন। এখন দেখি আমার নাম তালিকায়। অথচ আমি চাল বা কার্ড কিছুই পাইনি। ডিলারের পাশাপাশি চেয়ারম্যানের দুর্ব্যবহারের অভিযোগ একই এলাকার মো. সুজন মিয়ার মা লক্ষ্মী বেগমের। একই অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দা রিনা, রফিক, লিপি বেগম, রামশীল, প্রদীপ শীল ও দাহের মৃধার। তারা জানান,তালিকায় নাম থাকার পরও তারা চাল পাননি। এব্যাপারে ভুক্তভোগীরা স্থানীয় ইউপি সদস্য স্বপন কুমার সরকারকে জানালেও তিনি কোনো পদক্ষেপ নেননি। এছাড়া তালিকায় নাম থাকার পরও চাল না পাওয়ার ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ করেছেন ৭ নম্বর ওয়ার্ডের করুনা রানি হালদার, সবিতা রানি হালদার, লক্ষ্মী রানি রাজবংশী, মোহনবাসী হালদার, রামচরণ হালদার, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের রেখারানি বেপারী, আনোয়ারা বেগম, হাজেরা বিবি, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের অবলা রানি মন্ডল, চঞ্চল গোলজার, মিতালী রানি কাপাসিয়া, কলি আক্তারসহ আরো অনেকে।
এদিকে সাংবাদিকদের অনুসন্ধানের খবর পেয়ে অভিযোগকারী পরিবারগুলোকে গত ২ মে বিকালে কার্ড দিয়ে সন্ধ্যায় উন্নতমানের দামি চাল পৌঁছে দিয়েছেন অভিযুক্ত ডিলার ও তার লোকজন। একই সঙ্গে তাদেরকে অভিযোগ প্রত্যাহার ও মিথ্যা সাক্ষী দেওয়ার প্ররোচনা দেখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ নতুন করে চাল ও কার্ড পাওয়া কয়েকটি পরিবারের। এ বিষয়ে যন্ত্রাইলের ৭ নম্বর ইউপি সদস্য পবিত্র কুমার সরকার তার বক্তব্য দিতে অনীহা প্রকাশ করেন।
যন্ত্রাইল ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য স্বপন কুমার সরকার বলেন, যখন আমি দেখলাম তালিকায় নাম আছে কিন্তু অনেকে চাল পাচ্ছে না সঙ্গে সঙ্গে আমি চেয়ারম্যান, ডিলার এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানিয়েছিলাম। কিন্তু কোনো সুরাহা হয়নি। এখন শুনছি ওরা অভিযোগ দেওয়ার পর কয়েকজনকে চাল দিয়েছে।
অভিযোগ স্বীকার করে ডিলার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে এলোমেলো হয়ে গিয়েছিল। ভুল হয়ে গেছে। যারা অভিযোগ করেছিল তাদের এখন চালও দিচ্ছি, কার্ডও দিচ্ছি। যন্ত্রাইল ইউপি চেয়ারম্যান নন্দলাল সিং বলেন, যাদের তালিকায় নাম আছে অভিযোগের ভিত্তিতে তা সমাধান করা হয়েছে। উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা ইসরাত জাহান বলেন, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে। এ ব্যাপারে নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচ এম সালাউদ্দিন মনজু বলেন, এ ব্যাপারে অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত রিপোর্ট পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
